• ই-পেপার

জেমিনি অমনির ভালোমন্দ

  • বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরিতে পটু গুগলের নতুন এআই মডেল জেমিনি অমনি। এর মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা কঠিন, এর অপব্যবহার নিয়েও তাই অনেকেই শঙ্কিত। জেমিনি অমনির ভালো-মন্দ নিয়ে লিখেছেন শাহরিয়ার মোস্তফা

বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠাণ্ডা হবে ঘর

সাদিয়া আফরিন হীরা
বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠাণ্ডা হবে ঘর
এআইয়ের তৈরি নেসকডের রূপক ছবি। ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমান এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তিতে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়, এতে ব্যবহৃত রাসায়নিক রেফ্রিজারেন্টও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হিমায়ন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকরা এক ধরনের লবণ, পানি ও সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে হিমায়নের উপায় আবিষ্কার করেছেন। রোদের তাপেই এটি কাজ করে, কোনো ধরনের বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। তাই এ প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘নো ইলেকট্রিসিটি সাসটেইনেবল কুলিং অন ডিমান্ড’, সংক্ষেপে নেসকড (NESCOD)।

 

কিভাবে কাজ করে

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এক ধরনের খনিজ লবণ। এটি পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার সময় চারপাশের উত্তাপ শোষণ করে নেয়। এতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দ্রবণ দ্রুত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এ ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়াকে বলা হয় এন্ডোথার্মিক প্রক্রিয়া। এটি মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপামাত্রা কমিয়ে ৩.৬ ডিগ্রিতে নামাতে পারে। এ জন্য কোনো শক্তি ব্যয় হয় না। ঠাণ্ডা করার প্রক্রিয়া শেষে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট দ্রবণের পানি রোদের তাপে শুকিয়ে ফেলা হয়। এতে ফিরে পাওয়া যায় শুষ্ক লবণ, যা আবারও পানিতে গুলিয়ে হিমায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যায়। এই কাজ সম্পন্ন করে বিশেষ ধরনের ত্রিমাত্রিক সোলার রিজেনারেটর। এখানেই শেষ নয়, বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া পানিটুকুও এই সিস্টেম নষ্ট হতে দেয় না। জলীয় বাষ্পকে আবারও খাঁটি পানিতে রূপান্তর করা হয়। ফিরে পাওয়া পানি অত্যন্ত বিশুদ্ধ, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পদার্থের পরিমাণ ১ পিপিএমেরও (পার্টস পার মিলিয়ন) কম।

 

পরিবেশ দূষণ নেই

এখানে হিমায়ন এবং রিচার্জ প্রক্রিয়া একই সঙ্গে করার প্রয়োজন নেই। দিনে পানি ও লবণ আলাদা করে রেখে রাতে সেগুলো হিমায়নে ব্যবহার করা যায়। বিদ্যুত্হীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা তীব্র গরমের এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে বলে গবেষকরা আশাবাদী। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বারবার ব্যবহার করার পরেও এই সিস্টেমের কার্যক্ষমতা কমে না। তীব্র সূর্যালোকেরও প্রয়োজন নেই, সকাল-দুপুরের স্বাভাবিক রোদেও এক বর্গমিটার জায়গায় প্রতি ঘণ্টায় ২.২ কেজি দ্রবণ বাষ্পীভূত করা যায়। এতে ছোট একটি ঘরের তাপমাত্রা থাকবে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ছাদজুড়ে সোলার জেনারেটর বসালে পুরো বাড়িতে শীতল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। নেসকোড-এর প্রধান উপকরণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা অত্যন্ত সস্তা এবং সহজলভ্য। সরাসরি কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার না করায় এই সিস্টেমে শীতলীকরণের খরচ নামমাত্র। এর ত্রিমাত্রিক সোলার রিজেনারেটর এমনভাবে তৈরি যে খুব ছোট জায়গার মধ্যেও কর্মক্ষম থাকে। এতে কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়াতে হয় না বলে এটি গরম অঞ্চলের পরিবেশদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাক-সবজি, ফলমূল এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাবে। যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বা নিয়মিত লোডশেডিং হয়, সেখানে কোনো ঝামেলা ছাড়াই একটানা শীতলতা দেবে এই নেসকোড।

 

ব্যবহারে আইনি বাধা

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সহজলভ্য হলেও এটি ব্যবহারে নানাবিধ আন্তর্জাতিক বিধি-নিষেধ আছে। পুরো বাসা বা অফিস হিমায়নে যে পরিমাণ লবণ প্রয়োজন, সেটি নিরাপদে ব্যবহার করা সহজ নয়। তাই আপাতত অফ-গ্রিড কোল্ড স্টোরেজের মতো কাজে এ প্রযুক্তি প্রয়োগ নিয়ে কাজ চলছে। শিগগির এ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি
বিওয়াইডি এর ফ্ল্যাশচার্জ স্টেশন। ছবি : সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা, বাহনগুলো চার্জ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পেট্রল বা ডিজেলচালিত বাহনের জ্বালানি ট্যাংক পূর্ণ করতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে চীনা ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD)। ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য হেডকোয়ার্টারে নতুন ‘ফ্ল্যাশ চার্জিং’ প্রযুক্তি উন্মোচন করা হয়। ইভি চার্জিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড ‘টাইপ-২’ পোর্ট ব্যবহার করে কাজ করে এ প্রযুক্তি। কিন্তু প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫০০ কিলোওয়াট পাওয়ারে গাড়ি চার্জ করা যায় এতে। ফলাফল, ব্যাটারিতে ১০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থায় চার্জ করলে মাত্র ৫ মিনিটে ৭০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। ৯ মিনিটে ৯৩ শতাংশ পূর্ণ করা যায় ব্যাটারি। বিওয়াইডি জানিয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে অন্তত ৩০০ ফ্ল্যাশ চার্জার স্থাপন করা হবে। ইভি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা আর থাকবে না। এতে করে ইভি কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বাড়বে। বলা যায় অনেকটা সুপারচার্জ স্টেশনের জোরেই যুক্তরাষ্ট্রে এতটা জনপ্রিয় টেসলা। ফ্ল্যাশচার্জ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেসলা ও বিওয়াইডি-র প্রযুক্তিগত তফাৎ অনেকটাই কমবে।

 

♦ টেকবিশ্ব ডেস্ক

 

 

 

একনজরে

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

এআই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক ৯ জুন বাজারে এনেছে নতুন মডেল ‘ফেবল ৫’। এটিকে বলা হচ্ছে ‘মিথোস ক্লাস’ মডেল। অর্থাৎ বর্তমান ক্লড অপাস, সনেট বা হাইকু মডেলের তুলনায় ফেবলের কাজের পরিধি আরো অনেক বেশি।

মিথোস ঘরানার এআই মডেলগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এটি উন্মোচনের আগে বেশ কিছু সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে ব্রিফিং দিয়েছিল অ্যানথ্রোপিক, যাতে এ ধরনের এআইয়ের কার্যক্রমে কোনো সাইবার নিরাপত্তা বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়। অন্যান্য এআই মডেলের সঙ্গে ফেবল ৫-এর মূল পার্থক্য, এই মডেলটি নিজে থেকেই একটানা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রম্পট বিশ্লেষণ করে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিতে সক্ষম এটি। অন্যান্য এজেন্টিক এআই সিস্টেমও নিজে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু প্রম্পটের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না। অনেক সময় কাজের খুঁটিনাটি বিষয় ব্যবহারকারীর নজর এড়িয়ে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ফেবল সেসব কাজ নিজে থেকেই করে নিতে সক্ষম। আপাতত শুধু পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্যই ফেবল অ্যাকসেস উন্মুক্ত। ভবিষ্যতে ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাকসেস চালু হতে পারে, তবে সেই সম্ভাবনা কম। ফেবল ৫ পরীক্ষা করে অনেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মন্তব্য করেছেন, এখন থেকে হয়তো কফি বানিয়েই রোজগার করতে হবে—সফটওয়্যার তৈরিতে আর মানুষের প্রয়োজন নেই।

 

এলো নতুন সিরি

অ্যাপলের বার্ষিক ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপার্স কনফারেন্স (ডব্লিউডব্লিউডিসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮ জুন। অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয়েছে ম্যাকওএস/আইওএস ২৭-সহ মোট ৬টি নতুন অপারেটিং সিস্টেম আপডেট। সব আপডেটের কেন্দ্রবিন্দু অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও নতুন সিরি। অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নতুন ফিচার নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

এলো নতুন সিরি
গত ৫ বছরে অ্যাপলের তৈরি সকল ডিভাইস পাচ্ছে নতুন অগারেটিং সিস্টেম। ছবি : অ্যাপল

এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তাই এটিই তাঁর মেয়াদের শেষ ডব্লিউডব্লিউডিসি অনুষ্ঠান। তাই নতুন সফটওয়্যার ফিচার উন্মোচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল বিদায়ের সুর।

২০২৪-এর ডব্লিউডব্লিউডিসি-তে টিম কুক উন্মোচন করেন অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এর বেশির ভাগ ফিচার বাস্তবায়ন করতে পারেনি অ্যাপল। এআই দৌড়ে অ্যাপলের পিছিয়ে পড়াকে টিম কুকের অন্যতম অসফলতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এবারের ডব্লিউডব্লিউডিসি-তে উন্মোচিত নতুন সব ফিচারের বেশির ভাগই ছিল অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের বিভিন্ন আপডেট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছে, ‘পদত্যাগের আগে দুর্নাম ঘুচিয়ে গেলেন কুক’। এহেন মন্তব্যগুলো অহেতুক নয়। আইওএস  ও ম্যাকওএস আপডেটে এআই ছাড়া তেমন বড় কোনো ফিচার যোগ করা হয়নি। প্রতিটি নতুন ফিচারের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান আপডেট—নতুন সিরি। আইওএস/ম্যাকওএস ২৭ এর ইন্টারফেসে নতুনত্ব এতটাই কম যে চট করে বর্তমান সংস্করণ (২৬) এর সঙ্গে তফাত করা কঠিন। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, এবারের আপডেটের মূল লক্ষ্য ছিল অপারেটিং সিস্টেমের গতি বাড়ানো। আইওএস/ম্যাকওএস ২৭ আপডেটের পর বেশির ভাগ কাজে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। তবে সব কাজে সমানভাবে গতি বাড়বে না।

এলো নতুন সিরি

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক

নতুন সিরি

প্রথম ঘোষণার দুই বছর পর অবশেষে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে নতুন সিরি। এখন থেকে সিরি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীরা অ্যাপল ডিভাইস ও আইক্লাউডে সংরক্ষিত সব ফাইল, স্ক্রিনের কনটেন্ট ও অন্যান্য তথ্য কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় কাজ করতে পারবে। সময় ধরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথনও চালিয়ে যেতে পারবে, অনেকটা জেমিনি অথবা চ্যাটজিপিটির মতো। সিরি এখন থেকে জটিল কাজকে কয়েক ধাপে ভাগ করে সম্পন্ন করতে পারবে। সিরির বেশির ভাগ প্রসেসিং হবে অ্যাপলের নিজস্ব সার্ভারে। আইফোন ১৭ প্রো এবং এয়ার ডিভাইসে বেশির ভাগ প্রসেসিং হবে অন-ডিভাইস।

টিম কুক চেয়েছিলেন অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সে ব্যবহৃত হবে তাদের নিজস্ব এআই এলএলএম। প্রায় দুই বছর চেষ্টার পরও মানসম্মত এলএলএম তৈরি করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদল, ফলে পিছিয়ে যায় নতুন সিরি আপডেট। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি বেছে নিয়েছে গুগলের জেমিনি মডেল। অর্থাৎ সিরি ব্যবহার করলে কিছু তথ্য গুগলের সার্ভারেও পাঠানো হতে পারে। অ্যাপলের দাবি, এতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে না।

নতুন সিরির বেটা ভার্সন পরীক্ষার পর ব্যবহারকারীরা মন্তব্য করেছে, ‘সিরি এখন কাজের’। ইনবক্সের মেসেজ ও মেইল চেক করে আগামী দিনগুলোতে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা বুকিং আছে কি না জানাতে পারে, থাকলে সরাসরি ক্যালেন্ডারে যোগ করে দিতে পারে সিরি। গাছের পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রাসঙ্গিক উত্তর খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপল ম্যাপসে দেখাতে পারে নিকটস্থ নার্সারির অবস্থান। অন্যান্য এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো অপ্রয়োজনীয় আবেগ দেখায় না সিরি, এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যবহারকারীরা। অ্যাপল বরাবরই চটকের বদলে নির্ভরযোগ্যতায় জোর দিয়ে থাকে, নতুন সিরির ফিচারগুলো ব্যতিক্রম নয়।

 

সর্বত্র অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স

আইওএস  ও ম্যাকওএস আপডেটের প্রতিটি অংশে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের ছোঁয়া রয়েছে। এখন থেকে আইফোনের ডায়নামিক আইল্যান্ডে সোয়াইপ করে সিরির সঙ্গে চ্যাট করা যাবে। ক্যামেরার মধ্যে দেওয়া হয়েছে সিরি মোড, এতে চারপাশের দৃশ্য ধারণ করে ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে সিরির সঙ্গে আলোচনা করা যাবে অনেকটা গুগল লেন্সের মতো। ম্যাকওএস-এর চিরচেনা স্পটলাইট সার্চের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে সিরি। সাফারি ব্রাউজারে ওপেন করা সব ট্যাবকে বিষয়বস্তু অনুযায়ী সর্টিং করবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। সাফারিতে খোলা ট্যাবগুলোর কোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বদলে গেলে তা সম্পর্কে নোটিফিকেশন দেবে সিরি। যেমন—ই-কমার্স সাইটে মূল্য বা স্টকের তারতম্য হলে সেটি ব্যবহারকারীকে জানানো হবে। সাফারিতে সেভ করা কোনো পাসওয়ার্ড ডার্ক ওয়েবে লিক হলে সেটি নিজ থেকেই বদলে দেবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। আইমেসেজের মাধ্যমে পাঠানো বার্তার বিষয়বস্তু বুঝে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেবে সিরি। যেমন—সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা করলে সেই জায়গার কোনো ছবি থাকলে সেটি শেয়ার করার কথা মনে করিয়ে দেবে। অ্যাপল হোমের সঙ্গে সংযুক্ত সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ফুটেজের ক্লিপ তৈরি করে ব্যবহারকারীকে সে বিষয়ে অবহিত করবে। অ্যাপল ওয়াচেও নতুন সিরির নানাবিধ ছোট-বড় ফিচার যোগ করা হয়েছে। যেমন—নিজ থেকেই ওয়াচে তৈরি হবে সর্বাধিক ব্যবহৃত অ্যাপের শর্টকাট, ব্যবহারকারীর স্বাস্থবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই কোচ নতুন ধরনের ব্যায়ামের পরামর্শ দেবে। এমন ছোট-বড় বহু অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ফিচারে ভরপুর অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেমগুলোর আপডেট। 

 

অন্যান্য নতুনত্ব

আইওএস/ম্যাকওএস ২৬ আপডেটে অ্যাপল উন্মোচন করে ‘লিকুইড গ্লাস’ ইউজার ইন্টারফেস। স্বচ্ছ কাচের মতো উইন্ডো বর্ডার ও নোটিফিকেশন বক্স ব্যবহারের ফলে এই আপডেটের পর আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফ অনেকটাই কমে যায়। এবারের আপডেটে লিকুইড গ্লাসের স্বচ্ছতা কমানো হয়েছে। এতে হারানো পারফরম্যান্স অনেকটাই ফিরবে বলে দাবি করেছে অ্যাপল। প্যারেন্টাল কন্ট্রোলসের মেন্যু নতুন করে সাজানো হয়েছে। অভিভাবকরা সহজেই সন্তানের আইফোন ও ম্যাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। থিডি ও স্পেশল (spatial) কনটেন্ট দেখা ও এডিট করার জন্য অ্যাপল ভিশন প্রো হেডসেট ব্যবহার করা যাবে।

 

বাদ পড়ছে ইন্টেল ম্যাক

২০২০ সালে এম সিরিজ প্রসেসর উন্মোচনের পর অ্যাপল জানিয়েছিল, ইন্টেল প্রসেসরভিত্তিক ম্যাকের মেয়াদ আর পাঁচ বছর। এ বছর শেষ হচ্ছে সেই আলটিমেটাম, ফলে ইন্টেল প্রসেসরযুক্ত কোনো ম্যাক কম্পিউটারে চলবে না ম্যাকওএস ২৭। পাশাপাশি ম্যাকওএস থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে রসেটা ২ ফিচার। ইন্টেল ম্যাকের জন্য তৈরি সফটওয়্যারও ম্যাকওএস ২৭-এ চলবে না।

 

কবে আসবে নতুন আপডেট

ব্যবহারকারীরা এখনই বেটা আপডেট ইনস্টল করতে পারবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আগে আসবে না। বেটা সংস্করণে কিছু বাগ আছে, তাই ডিভাইসে ইনস্টল করার আগে সব ডেটা ব্যাকআপ নেওয়ার নিতে বলেছে অ্যাপল। নাহলে তথ্য হারানোর ঝুঁকি আছে।