• ই-পেপার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

সাইবারিকে জবাব ভিনিসিয়ুসের, প্রথমার্ধ শেষে সমতায় ব্রাজিল-মরক্কো

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মরক্কোর সঙ্গে ড্র, হতাশায় ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু ব্রাজিলের

ক্রীড়া ডেস্ক
মরক্কোর সঙ্গে ড্র, হতাশায় ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু ব্রাজিলের
ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিল ১-১ মরক্কো

এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা চলছিল বিশ্বকাপ ড্রয়ের পর থেকেই। গত কয়েক মাসে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল বহুল কাক্ষিত। 

এক দল আছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ছয় নম্বরে, আরেক দল সাতে। স্বাভাবিকভাবেই এবারের আসরে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচটি হয়েই গেল। কিন্তু কেউ জিতল না। 

মরক্কোর সঙ্গে হতাশার ড্রয়ে ‘হেক্সা অভিযান’ শুরু করল ব্রাজিল। ম্যাচের ২১ মিনিটে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমায়েল সাইবারি। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বুলেট গতির চোখ ধাঁধানো শটে সমতায় ফেরে ব্রাজিল।

VINI
ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতা আনে ব্রাজিল। ছবি: ফিফা

কোনো রকম ১ পয়েন্ট পেলেও ব্রাজিলের সমর্থেকরা এই ম্যাচ যত দ্রুত সম্ভব, ভুলে যেতে চাইবেন। কারণ, ভিনির ওই গোল আর দুই-একটা সুযোগ তৈরি ছাড়া ব্রাজিলিয়ানদের সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফা বলের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে। অনেকে তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলতে শুরু করেছে, বড্ড বাজে খেলে ড্র করল কার্লো আনচেলত্তির দল। 

উল্টো মরোক্কানদের বরাবরই গোলের জন্য ক্ষুধার্ত মনে হয়েছে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটা পেয়েই গেয়েছিল সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। ভাগ্যিস, ব্রাজিল গোলকিপার আলিসন বেকার সময়মতো বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন!

ম্যাচের শুরু থেকেই গোছালো ফুটবল উপহার দিয়েছে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ মাঝমাঠ থেকে বারবার ব্রাজিলের রক্ষণ কাঁপাচ্ছিলেন। ৭ মিনিটে নিল এল আয়নাউয়ির শট ব্লক করেন ব্রুনো গিমারায়েস।

তবে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটা ব্রাজিলই তৈরি করেছিল। ১৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের দারুণ এক ক্রসে ইগোর থিয়াগো ঠিকভাবে বলে মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতো। কিন্তু অনেকটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ব্যর্থ হয়েছেন। 

১৭ মিনিটে মরক্কো এগিয়ে যায়। দিয়াজের অসাধারণ থ্রু বলে সাইবারি একা পান ব্রাজিল গোলকিপার আলিসনকে। বিপদ আঁচ করতে পেয়ে আলিসন এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সাইবারি ঠান্ডা মাথায় তাকে লব করে বল জালে পাঠালেন। 

৩২ মিনিটে জবাব দেন ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার পাস পেয়ে বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ে টপ কর্নারে বুলেট গতির শট নেন। মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বুনু পুরো শরীর মেলেও তা রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল ভিনির ৫০তম ম্যাচ, যা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন হার এড়ানো এক গোল করে। 

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কাসেমিরো ও রজার ইবানিয়েজ হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির পরেই এই দুজনকে তুলে নেন আনচেলত্তি। মাঠে নামেন ফাবিনিও এবং দানিলো।

neymar1
চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় নেইমারকে দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে। ছবি: এএফপি

৬৭ মিনিটে গিমারায়েসের ক্রসে রাফিনিয়া অল্পের জন্য বলের স্পর্শ পাননি। ৭৮ মিনিটে রাফিনিয়ার শট আটকে দেন বুনু। শেষ মিনিটগুলোতে আলিসনকে দুটি কঠিন সেভ করতে হয়েছে। বাইরে থেকে একটি কার্লার এবং একটি ক্লোজ রেঞ্জের শট। এর একটি জালে ঢুকলেই সর্বনাশ হয়ে যেত ব্রাজিলের। 

তবে শুরুতেই মরোক্কানরা ব্রাজিলিয়ানদের যে ধাক্কা দিল, সেটাই বা কম কী!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

শেষ মিনিটের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার

ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ মিনিটের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার
কাতারিদের গোল উদযাপন। ছবি: এক্স

কাতার ১-১ সুইজারল্যান্ড

মুরাত ইয়াকিনের চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। হতাশায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর আগমুহূর্তে গোল হজম করলে যা হয় আরকি! 

২০২২ বিশ্বকাপে ব্রিল এমবোলোর গোলে ক্যামেরুনকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল সুইজারল্যান্ড। সেই এমবোলোর গোলেই আজ সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারানোর পথে ছিল সুইসরা। 

কিন্তু বিধি বাম! ম্যাচের শেষ মিনিটে সমতা ফেরালেন বুয়ালেম খুখি। ৩৫ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাকের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হলো ১-১ সমতায়। 

গতকাল ‘বি’ গ্রুপের অন্য দুই দল কানাডা ও বসনিয়া ১-১ গোলে ড্র করেছে। তাই এই গ্রুপে এখন চার দলেরই পয়েন্ট সমান ১ করে।

তবে আপাতত কাতারই ‘সবচেয়ে সুখী’ দল। কারণ, এর আগে বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরে যাওয়া দলটা আজ প্রথমবারের মতো হার এড়িয়ে পেয়েছে প্রথম পয়েন্ট। 

অথচ শক্তিমত্তা, ইতিহাস, ফিফা র‌্যাংকিং—সবকিছুতেই সুইজারল্যান্ড ছিল ঢের এগিয়ে। মাঠের লড়াইয়েও তাই। কাতারি রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখে সুইসরা গোলের উদ্দেশে শট নিয়েছে ২৬টি, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বলের দখল ছিল ৭০%। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করায় এসব পরিসংখ্যান ফিকে হয়ে গেল। 

অধিনায়ক খুখি গোলটা করেছেন যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদ দারুণ এক ক্রস করেছিলেন সুইজারল্যান্ডের বক্সে। সেই ক্রসেই লাফিয়ে উঠে হেডে জাল কাঁপান খুখি।

এর আগে ম্যাচের ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো। কাতারের গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা রেমো ফ্রেউলারকে নিজেদের বক্সে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আবুনাদাকে হলুদ কার্ডও দেখান। স্পট কিক থেকে তাকে সহজেই পরাস্ত করেন এমবোলো। 

এই গোল হজমে আবুনাদার দায় থাকায় অনেকে তাকে ‘ভিলেন’ ভাবতে পারেন। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ভুল শোধরানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে খুখির গোলটা আবুনাদার মনে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপের মাসকট সেজে মাদক কারবারিকে ধরল পুলিশ

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মাসকট সেজে মাদক কারবারিকে ধরল পুলিশ
বিশ্বকাপের মাসকটের ছদ্মবেশ ধারণ করে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পেরুর পুলিশ। ছবি: এএফপি

অপরাধীদের ধরতে পুলিশকে অনেক সময় ফাঁদ পাততে বা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা যায়। এবার মাদক কারবারিকে ধরতে অভিনব এক অভিযান চালাল পুলিশ। 

ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর পুলিশ। অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সদস্যরা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মাসকটের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

পুলিশের এই অভিনব কৌশল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরুর রাজধানী লিমার একটি এলাকায় সম্প্রতি এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানে অংশ নেওয়া দুই কর্মকর্তা ২০২৬ বিশ্বকাপের দুটি অফিশিয়াল মাসকটের পোশাক পরেছিলেন। একজন সেজেছিলেন কানাডার প্রতিনিধিত্বকারী মাসকট ম্যাপল এবং অন্যজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাচ

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পেরুর পুলিশ জানতে পারে, সন্দেহভাজন ওই মাদক কারবারি ফুটবলের বড় ভক্ত এবং বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ উৎসাহী। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মকর্তারা মাসকট সেজে তার বাড়ির কাছে পৌঁছান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। 

আটক হওয়া মাদক কারবারির নাম কার্লোস কাবরেরা; বয়স ৪৮ বছর। 

পুলিশের গ্রিন স্কোয়াডের প্রধান কর্নেল কার্লোস ফ্রেদি আলকান্তারা জানান, অভিযানের সময় কার্লোস কাবরেরা বাড়িতে বসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন। অভিযানে তার কাছ থেকে ২৫২৪টি কোকেন বেস পেস্টের প্যাকেট এবং একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

অবশ্য এ ধরনের অভিনব কৌশল পেরুর পুলিশের জন্য নতুন নয়। এর আগে তারা দ্য গ্রিঞ্চ, ডেডপুল, উলভারিন এবং সান্তা ক্লজের ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে।

বিশ্বকাপের মাসকট সেজে পরিচালিত সর্বশেষ এই অভিযানকে পেরুর পুলিশের অন্যতম সৃজনশীল দক্ষতা হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপ জ্বরে যখন পুরো বিশ্ব মেতে আছে, তখন সেই উন্মাদনাকেই কাজে লাগিয়ে সফলভাবে একজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করল দেশটির পুলিশ।

যার পরিচালনায় বিশ্বকাপে হারেনি, সেই রেফারিকে প্রথম ম্যাচে পাচ্ছে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
যার পরিচালনায় বিশ্বকাপে হারেনি, সেই রেফারিকে প্রথম ম্যাচে পাচ্ছে আর্জেন্টিনা
মেসিদের প্রথম ম্যাচে রেফারি মার্চিনিয়াক। ছবি : সংগৃহীত

কাতার বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিল আর্জেন্টিনা এবার সেখান থেকেই যেন শুরু করবে। শুরুর বাক্য পড়ে অনেকে হয়তো ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব। চলেন বিষয়টা পরিষ্কার হই।

আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু করবে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটিতে সেদিন বাঁশি থাকবে রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াকের হাতে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালেও ছিলেন পোল্যান্ডের এই রেফারি। লুসাইল স্টেডিয়ামে সেদিন রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

এবার শিরোপা ধরে রাখার মিশনের শুরুতে মার্চিনিয়াককে পাচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই বলা হচ্ছে বিশ্বকাপের যেখানে শেষ করেছিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, এবার সেখান থেকেই শুরু করছে আলবিসেলেস্তারা। মার্চিনিয়াক সহকারী হিসেবে পাচ্ছেন দুই স্বদেশি তমাস লিস্টকেভিচ ও আদাম কুপসিককে। চতুর্থ ও রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকছেন নিউজিল্যান্ডের দুই অফিশিয়াল ক্যাম্পবেল-কিল্ক কাওয়ানা-ওয়া এবং আইজ্যাক ট্রেভিস।

এর আগে আর্জেন্টিনার তিন ম্যাচ পরিচালনা করেছেন মার্চিনিয়াক। প্রথমবার ২০১৮ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিদের প্রথম ম্যাচে, প্রতিপক্ষ ছিল আইসল্যান্ড। সেবার ১-১ গোলে ম্যাচটি ড্র হয়। বাকি দুটি কাতার বিশ্বকাপে। ফাইনালের কথা তো আগেই বলা হয়েছে। বাকিটি হচ্ছে নকআউট ম্যাচে। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। অর্থাৎ, মার্চিনিয়াক ছিলেন এমন ম্যাচে কখনো হারেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার মেসিদের ভাগ্যে কি হয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।