• ই-পেপার

বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠাণ্ডা হবে ঘর

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি

৫ মিনিটে চার্জ হবে বিওয়াইডি ইভি
বিওয়াইডি এর ফ্ল্যাশচার্জ স্টেশন। ছবি : সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা, বাহনগুলো চার্জ হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পেট্রল বা ডিজেলচালিত বাহনের জ্বালানি ট্যাংক পূর্ণ করতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছে চীনা ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি (BYD)। ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য হেডকোয়ার্টারে নতুন ‘ফ্ল্যাশ চার্জিং’ প্রযুক্তি উন্মোচন করা হয়। ইভি চার্জিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড ‘টাইপ-২’ পোর্ট ব্যবহার করে কাজ করে এ প্রযুক্তি। কিন্তু প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৫০০ কিলোওয়াট পাওয়ারে গাড়ি চার্জ করা যায় এতে। ফলাফল, ব্যাটারিতে ১০ শতাংশ চার্জ থাকা অবস্থায় চার্জ করলে মাত্র ৫ মিনিটে ৭০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। ৯ মিনিটে ৯৩ শতাংশ পূর্ণ করা যায় ব্যাটারি। বিওয়াইডি জানিয়েছে, এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে অন্তত ৩০০ ফ্ল্যাশ চার্জার স্থাপন করা হবে। ইভি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা আর থাকবে না। এতে করে ইভি কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বাড়বে। বলা যায় অনেকটা সুপারচার্জ স্টেশনের জোরেই যুক্তরাষ্ট্রে এতটা জনপ্রিয় টেসলা। ফ্ল্যাশচার্জ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেসলা ও বিওয়াইডি-র প্রযুক্তিগত তফাৎ অনেকটাই কমবে।

 

♦ টেকবিশ্ব ডেস্ক

 

 

 

একনজরে

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ফেবল ৫

এআই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক ৯ জুন বাজারে এনেছে নতুন মডেল ‘ফেবল ৫’। এটিকে বলা হচ্ছে ‘মিথোস ক্লাস’ মডেল। অর্থাৎ বর্তমান ক্লড অপাস, সনেট বা হাইকু মডেলের তুলনায় ফেবলের কাজের পরিধি আরো অনেক বেশি।

মিথোস ঘরানার এআই মডেলগুলো এতটাই শক্তিশালী যে এটি উন্মোচনের আগে বেশ কিছু সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ বিষয়ে ব্রিফিং দিয়েছিল অ্যানথ্রোপিক, যাতে এ ধরনের এআইয়ের কার্যক্রমে কোনো সাইবার নিরাপত্তা বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়। অন্যান্য এআই মডেলের সঙ্গে ফেবল ৫-এর মূল পার্থক্য, এই মডেলটি নিজে থেকেই একটানা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রম্পট বিশ্লেষণ করে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিতে সক্ষম এটি। অন্যান্য এজেন্টিক এআই সিস্টেমও নিজে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু প্রম্পটের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারে না। অনেক সময় কাজের খুঁটিনাটি বিষয় ব্যবহারকারীর নজর এড়িয়ে যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ফেবল সেসব কাজ নিজে থেকেই করে নিতে সক্ষম। আপাতত শুধু পেইড সাবস্ক্রাইবারদের জন্যই ফেবল অ্যাকসেস উন্মুক্ত। ভবিষ্যতে ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাকসেস চালু হতে পারে, তবে সেই সম্ভাবনা কম। ফেবল ৫ পরীক্ষা করে অনেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার মন্তব্য করেছেন, এখন থেকে হয়তো কফি বানিয়েই রোজগার করতে হবে—সফটওয়্যার তৈরিতে আর মানুষের প্রয়োজন নেই।

 

জেমিনি অমনির ভালোমন্দ

বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরিতে পটু গুগলের নতুন এআই মডেল জেমিনি অমনি। এর মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা কঠিন, এর অপব্যবহার নিয়েও তাই অনেকেই শঙ্কিত। জেমিনি অমনির ভালো-মন্দ নিয়ে লিখেছেন শাহরিয়ার মোস্তফা

জেমিনি অমনির ভালোমন্দ
জেমিনি অমনির তৈরি ভিডিও থেকে নেওয়া দৃশ্য।

লেখা থেকে ছবি, ছবি থেকে লেখা, ছবি থেকে ভিডিও-লেখা, অডিও, ভিডিও ও ছবির মধ্যে যেকোনো একটি মিডিয়াকে ইনপুট হিসেবে দিয়ে অন্য যেকোনো মিডিয়া আউটপুট দেবে গুগলের নতুন এআই জেমিনি অমনি। ১৯ মে গুগল আই/ও ইভেন্টে নতুন এআই মডেলটি উন্মোচিত করেছে এ প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আপাতত শুধু ছবি থেকে ভিডিও তৈরি করতে পারে জেমিনি অমনি। গুগল জানিয়েছে, জেমিনি অমনি একদিন লেখা, ছবি, অডিও ও ভিডিও—এই চার মাধ্যমের একটি ইনপুট নিয়ে অন্য মিডিয়া জেনারেট করতে পারবে। তবে আপাতত শুধু ছবি ও টেক্সট থেকে ভিডিও বানানোর মধ্যেই এ সেবা সীমাবদ্ধ।

 

নতুন সিরিজ অমনি

গুগল জেমিনির নতুন এআই সিরিজ অমনি। আর এই সিরিজের প্রথম এআই মডেল অমনি ফ্ল্যাশ। যেকোনো ধরনের ছবি আপলোড করে কেমন ভিডিও চাই তার বিবরণ লিখে ব্যবহারকারীরা ১০ সেকেন্ডের ক্লিপ জেনারেট করতে পারবে। এর মধ্যে আবহসংগীত বা অডিও ভয়েসওভারও থাকবে। ছবি তৈরির এআই ন্যানো বানানা যেমন ব্যবহারকারীদের মন জয় করে নিয়েছিল, গুগলের মতে অমনি ফ্ল্যাশও তেমনই জনপ্রিয় হবে। ২০২৫-এর আগস্টের শেষে প্রথম উন্মোচিত হয় ন্যানো বানানা। মডেলটির বয়স এখনো এক বছর হয়নি, এর মধ্যেই জেমিনি ব্যবহারকারীরা অন্তত ৫০ বিলিয়ন ছবি জেনারেট করেছে বলে জানিয়েছে গুগল। আগামী বছরের মধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরিতে সবার পছন্দ হয়ে উঠবে জেমিনি অমনি—এমনটাই আশা গুগলের।

 

বাস্তবসম্মত ক্লিপ তৈরি

একাধিক ক্লিপের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ধরে রাখাতে পারে জেমিনি অমনি। যেমন—প্রথমবার ভিডিও তৈরির পর সেই ভিডিওর মধ্যকার কোনো চরিত্র বা ভিডিওর পটভূমি অথবা বিষয়বস্তু মনে রাখতে বললে, পরে ভিডিও তৈরির সময় ‘অমুক চরিত্রকে তমুক পটভূমিতে বসিয়ে তার হেঁটে যাওয়ার ভিডিও বানাও’ বললেই চলবে। এভাবে ছোট ছোট ক্লিপ জেনারেট করে একই চরিত্র বা পটভূমি নিয়ে দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করা যাবে। তবে এ ফিচারটি এখনো ঠিকমতো কাজ করে না। চরিত্র বা পটভূমি ঠিক থাকলেও ছোটখাটো অসামঞ্জস্যতা রয়ে যায়।

 

দাবি বনাম বাস্তবতা

দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক গুগলের প্রায় প্রতিটি পণ্য ও সেবার মধ্যে আছে। বাজারের অন্যান্য ভিডিও জেনারেশন এআই সেবার চেয়ে নির্ভরযোগ্যতায় জেমিনি অমনি পিছিয়ে থাকলে সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো গুগলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। জেমিনি অমনি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে গুনতে হবে অন্তত ২০ ডলার, এতে পাওয়া যাবে এক হাজার ভিডিও ক্রেডিট। একটি ক্লিপ তৈরিতে প্রয়োজন অন্তত ৪০ ক্রেডিট, এডিট করলে ক্লিপপ্রতি আরো বেশি ক্রেডিট খরচ হবে। সিন্থেসিয়া, ক্লিং এআই, রানওয়ে বা ইনভিডিওর মধ্যে থাকা এআই ভিডিও জেনারেশন সেবা ব্যবহারের খরচ অনেকটা জেমিনি অমনি সাবস্ক্রিপশনের মতোই, অথচ সেসব সেবা এখনো নির্ভরযোগ্যতার দৌড়ে গুগলের চেয়ে এগিয়ে।

 

ডিপফেক তৈরিতে ওস্তাদ

আনকোরা নতুন ভিডিও নয়, বরং ভিডিও এডিট করে এর মধ্যে এআই জেনারেটেড পটভূমি বা চরিত্র যোগ করা জেমিনি অমনির সবচেয়ে বড় শক্তি। অফিসের ডেস্কে বসে সেলফি ভিডিও রেকর্ড করে, সেই ক্লিপকে সহজেই আইফেল টাওয়ারের গোড়ায় বসে কফি খাওয়ার ভিডিওতে রূপান্তর করা যায়। এ ধরনের ‘ডিপফেক’ তৈরিতে ওস্তাদ জেমিনি অমনি।

 

দুশ্চিন্তার কারণ

জেমিনি অমনি ব্যবহার করে নিজের ডিপফেক তৈরি করেছেন দ্য ভার্জের সিনিয়র রিভিউয়ার অ্যালিসন জনসন। ভিডিওর মান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের বিয়ে হয়েছে ১২ বছর আগে, অর্থাৎ এক যুগ ধরে এক ছাদের নিচে বসবাস করছি আমরা। ডিপফেক ভিডিও দেখে আমার স্বামীও ধরতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট আর বিশ্বাস করব না।’

অ্যালিসনের ভাবনা অমূলক নয়। এআইয়ের লেখা এখন আর সহজে ধরা যায় না, ছবির মধ্যেও ‘এআইয়ের ছাপ’ ধরা মুশকিল। এখন যদি ভিডিও দেখেও বোঝা না যায় এর মধ্যে কতটুকু বাস্তব, আর কতটা এআই জেনারেটেড, সে ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্টকেই আর বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। এ কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলা হচ্ছে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে হাতে লেখা কাগজে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। চাকরির ইন্টারভিউ অনলাইনে নেওয়া বন্ধ করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

ডিপফেক ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদ তৈরির ঘটনা ঘটছে অহরহ। জেমিনি অমনির মাধ্যমে ডিপফেকের অপব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

 

 

এলো নতুন সিরি

অ্যাপলের বার্ষিক ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপার্স কনফারেন্স (ডব্লিউডব্লিউডিসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮ জুন। অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয়েছে ম্যাকওএস/আইওএস ২৭-সহ মোট ৬টি নতুন অপারেটিং সিস্টেম আপডেট। সব আপডেটের কেন্দ্রবিন্দু অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও নতুন সিরি। অপারেটিং সিস্টেমগুলোর নতুন ফিচার নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

এলো নতুন সিরি
গত ৫ বছরে অ্যাপলের তৈরি সকল ডিভাইস পাচ্ছে নতুন অগারেটিং সিস্টেম। ছবি : অ্যাপল

এ বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। তাই এটিই তাঁর মেয়াদের শেষ ডব্লিউডব্লিউডিসি অনুষ্ঠান। তাই নতুন সফটওয়্যার ফিচার উন্মোচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল বিদায়ের সুর।

২০২৪-এর ডব্লিউডব্লিউডিসি-তে টিম কুক উন্মোচন করেন অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এর বেশির ভাগ ফিচার বাস্তবায়ন করতে পারেনি অ্যাপল। এআই দৌড়ে অ্যাপলের পিছিয়ে পড়াকে টিম কুকের অন্যতম অসফলতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এবারের ডব্লিউডব্লিউডিসি-তে উন্মোচিত নতুন সব ফিচারের বেশির ভাগই ছিল অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের বিভিন্ন আপডেট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছে, ‘পদত্যাগের আগে দুর্নাম ঘুচিয়ে গেলেন কুক’। এহেন মন্তব্যগুলো অহেতুক নয়। আইওএস  ও ম্যাকওএস আপডেটে এআই ছাড়া তেমন বড় কোনো ফিচার যোগ করা হয়নি। প্রতিটি নতুন ফিচারের কেন্দ্রে রয়েছে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান আপডেট—নতুন সিরি। আইওএস/ম্যাকওএস ২৭ এর ইন্টারফেসে নতুনত্ব এতটাই কম যে চট করে বর্তমান সংস্করণ (২৬) এর সঙ্গে তফাত করা কঠিন। তবে অ্যাপল জানিয়েছে, এবারের আপডেটের মূল লক্ষ্য ছিল অপারেটিং সিস্টেমের গতি বাড়ানো। আইওএস/ম্যাকওএস ২৭ আপডেটের পর বেশির ভাগ কাজে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। তবে সব কাজে সমানভাবে গতি বাড়বে না।

এলো নতুন সিরি

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক

নতুন সিরি

প্রথম ঘোষণার দুই বছর পর অবশেষে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে নতুন সিরি। এখন থেকে সিরি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীরা অ্যাপল ডিভাইস ও আইক্লাউডে সংরক্ষিত সব ফাইল, স্ক্রিনের কনটেন্ট ও অন্যান্য তথ্য কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় কাজ করতে পারবে। সময় ধরে ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথনও চালিয়ে যেতে পারবে, অনেকটা জেমিনি অথবা চ্যাটজিপিটির মতো। সিরি এখন থেকে জটিল কাজকে কয়েক ধাপে ভাগ করে সম্পন্ন করতে পারবে। সিরির বেশির ভাগ প্রসেসিং হবে অ্যাপলের নিজস্ব সার্ভারে। আইফোন ১৭ প্রো এবং এয়ার ডিভাইসে বেশির ভাগ প্রসেসিং হবে অন-ডিভাইস।

টিম কুক চেয়েছিলেন অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সে ব্যবহৃত হবে তাদের নিজস্ব এআই এলএলএম। প্রায় দুই বছর চেষ্টার পরও মানসম্মত এলএলএম তৈরি করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদল, ফলে পিছিয়ে যায় নতুন সিরি আপডেট। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি বেছে নিয়েছে গুগলের জেমিনি মডেল। অর্থাৎ সিরি ব্যবহার করলে কিছু তথ্য গুগলের সার্ভারেও পাঠানো হতে পারে। অ্যাপলের দাবি, এতে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে না।

নতুন সিরির বেটা ভার্সন পরীক্ষার পর ব্যবহারকারীরা মন্তব্য করেছে, ‘সিরি এখন কাজের’। ইনবক্সের মেসেজ ও মেইল চেক করে আগামী দিনগুলোতে কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা বুকিং আছে কি না জানাতে পারে, থাকলে সরাসরি ক্যালেন্ডারে যোগ করে দিতে পারে সিরি। গাছের পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রাসঙ্গিক উত্তর খুঁজে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপল ম্যাপসে দেখাতে পারে নিকটস্থ নার্সারির অবস্থান। অন্যান্য এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো অপ্রয়োজনীয় আবেগ দেখায় না সিরি, এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ব্যবহারকারীরা। অ্যাপল বরাবরই চটকের বদলে নির্ভরযোগ্যতায় জোর দিয়ে থাকে, নতুন সিরির ফিচারগুলো ব্যতিক্রম নয়।

 

সর্বত্র অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স

আইওএস  ও ম্যাকওএস আপডেটের প্রতিটি অংশে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের ছোঁয়া রয়েছে। এখন থেকে আইফোনের ডায়নামিক আইল্যান্ডে সোয়াইপ করে সিরির সঙ্গে চ্যাট করা যাবে। ক্যামেরার মধ্যে দেওয়া হয়েছে সিরি মোড, এতে চারপাশের দৃশ্য ধারণ করে ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে সিরির সঙ্গে আলোচনা করা যাবে অনেকটা গুগল লেন্সের মতো। ম্যাকওএস-এর চিরচেনা স্পটলাইট সার্চের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে সিরি। সাফারি ব্রাউজারে ওপেন করা সব ট্যাবকে বিষয়বস্তু অনুযায়ী সর্টিং করবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। সাফারিতে খোলা ট্যাবগুলোর কোনো ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বদলে গেলে তা সম্পর্কে নোটিফিকেশন দেবে সিরি। যেমন—ই-কমার্স সাইটে মূল্য বা স্টকের তারতম্য হলে সেটি ব্যবহারকারীকে জানানো হবে। সাফারিতে সেভ করা কোনো পাসওয়ার্ড ডার্ক ওয়েবে লিক হলে সেটি নিজ থেকেই বদলে দেবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। আইমেসেজের মাধ্যমে পাঠানো বার্তার বিষয়বস্তু বুঝে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেবে সিরি। যেমন—সাম্প্রতিক কোনো ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা করলে সেই জায়গার কোনো ছবি থাকলে সেটি শেয়ার করার কথা মনে করিয়ে দেবে। অ্যাপল হোমের সঙ্গে সংযুক্ত সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করবে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ফুটেজের ক্লিপ তৈরি করে ব্যবহারকারীকে সে বিষয়ে অবহিত করবে। অ্যাপল ওয়াচেও নতুন সিরির নানাবিধ ছোট-বড় ফিচার যোগ করা হয়েছে। যেমন—নিজ থেকেই ওয়াচে তৈরি হবে সর্বাধিক ব্যবহৃত অ্যাপের শর্টকাট, ব্যবহারকারীর স্বাস্থবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই কোচ নতুন ধরনের ব্যায়ামের পরামর্শ দেবে। এমন ছোট-বড় বহু অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ফিচারে ভরপুর অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেমগুলোর আপডেট। 

 

অন্যান্য নতুনত্ব

আইওএস/ম্যাকওএস ২৬ আপডেটে অ্যাপল উন্মোচন করে ‘লিকুইড গ্লাস’ ইউজার ইন্টারফেস। স্বচ্ছ কাচের মতো উইন্ডো বর্ডার ও নোটিফিকেশন বক্স ব্যবহারের ফলে এই আপডেটের পর আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি লাইফ অনেকটাই কমে যায়। এবারের আপডেটে লিকুইড গ্লাসের স্বচ্ছতা কমানো হয়েছে। এতে হারানো পারফরম্যান্স অনেকটাই ফিরবে বলে দাবি করেছে অ্যাপল। প্যারেন্টাল কন্ট্রোলসের মেন্যু নতুন করে সাজানো হয়েছে। অভিভাবকরা সহজেই সন্তানের আইফোন ও ম্যাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। থিডি ও স্পেশল (spatial) কনটেন্ট দেখা ও এডিট করার জন্য অ্যাপল ভিশন প্রো হেডসেট ব্যবহার করা যাবে।

 

বাদ পড়ছে ইন্টেল ম্যাক

২০২০ সালে এম সিরিজ প্রসেসর উন্মোচনের পর অ্যাপল জানিয়েছিল, ইন্টেল প্রসেসরভিত্তিক ম্যাকের মেয়াদ আর পাঁচ বছর। এ বছর শেষ হচ্ছে সেই আলটিমেটাম, ফলে ইন্টেল প্রসেসরযুক্ত কোনো ম্যাক কম্পিউটারে চলবে না ম্যাকওএস ২৭। পাশাপাশি ম্যাকওএস থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে রসেটা ২ ফিচার। ইন্টেল ম্যাকের জন্য তৈরি সফটওয়্যারও ম্যাকওএস ২৭-এ চলবে না।

 

কবে আসবে নতুন আপডেট

ব্যবহারকারীরা এখনই বেটা আপডেট ইনস্টল করতে পারবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আগে আসবে না। বেটা সংস্করণে কিছু বাগ আছে, তাই ডিভাইসে ইনস্টল করার আগে সব ডেটা ব্যাকআপ নেওয়ার নিতে বলেছে অ্যাপল। নাহলে তথ্য হারানোর ঝুঁকি আছে।