• ই-পেপার

জার্সি পরে নামাজ আদায় কি জায়েজ?

ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

ইসলামে যেমন ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি সুস্থ দেহ গঠনের জন্য বৈধ খেলাধুলা ও শরীরচর্চারও অনুমোদন রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও দৌড় প্রতিযোগিতা, তীরন্দাজি ও ঘোড়দৌড়ের মতো বিভিন্ন শারীরিক অনুশীলনকে উৎসাহিত করেছেন। তবে ইসলামে প্রতিটি কাজের জন্য উপযুক্ত স্থান ও পরিবেশ নির্ধারিত রয়েছে। কোনো স্থানের ধর্মীয় মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়টিও শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাই অনেক সময় কোনো কাজ নিজে বৈধ হলেও বিশেষ কোনো স্থানে তা করা অনুচিত বা নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার বিষয়টিও এ ধরনের একটি আলোচ্য বিষয়।

ইসলামে পবিত্র স্থানসমূহের মর্যাদা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, নিশ্চয়ই তা অন্তরের তাকওয়ার পরিচায়ক।’ (সুরা : হাজ, আয়াত : ৩২)

ঈদগাহ এমন একটি স্থান, যেখানে মুসলমানরা বছরে দুইবার বৃহৎ জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তাই এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন (শাআইরে ইসলাম)-এর অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষা করা মুসলমানদের কর্তব্য। ফিকহের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াকফকৃত ঈদগাহ সম্পূর্ণরূপে মসজিদ না হলেও কিছু বিধানের ক্ষেত্রে মসজিদের হুকুম প্রযোজ্য হয়। হানাফি ফকিহগণ লিখেছেন যে, ‘ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত হলো, ইমামের অনুসরণে ঈদের নামাজ আদায় বৈধ হওয়ার দিক থেকে ঈদগাহকে মসজিদের হুকুম দেওয়া হবে। তবে এর নির্মাতা মূলত একে মসজিদ হিসেবে নির্মাণ করেননি। তাই এটিকে পূর্ণাঙ্গ মসজিদ না বললেও এর মর্যাদা নষ্ট হয় না।’ (রাদ্দুল মুহতার, ২/৪৩০, আল-বাহরুর রায়েক, ২/৬৫, আন-নাহরুল ফায়েক, ১/২৮৮)

এ কারণেই ফকিহয়ে কেরামগণ বলেছেন, ঋতুবতী নারী বা গোসল ফরজ অবস্থায় থাকা ব্যক্তির ঈদগাহে প্রবেশ বৈধ। কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয়। তবে একই সঙ্গে তারা এ স্থানকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠে খেলাধুলার হুকুম
খেলাধুলা মূলত জায়েজ। যদি তাতে জুয়া, অশ্লীলতা, নামাজ নষ্ট হওয়া বা অন্য কোনো হারাম বিষয় না থাকে, তাহলে সাধারণ স্থানে এসব খেলাধুলা বৈধ। কিন্তু ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠের বিষয়টি ভিন্ন। কারণ এটি আল্লাহর ইবাদতের জন্য নির্ধারিত ও ধর্মীয় মর্যাদাসম্পন্ন স্থান। খেলাধুলার সময় সাধারণত দৌড়াদৌড়ি, হাসি-তামাশা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নানা ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, যা ঈদগাহের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে ফকিহগণ সতর্কতামূলকভাবে বলেছেন, ‘সতর্কতার স্বার্থে ঈদগাহকে সাধারণ স্থানের মতো ব্যবহার না করে মসজিদের মর্যাদার নিকটবর্তী হিসেবে গণ্য করা উচিত।’ (আল-বাহরুর রায়েক, ৫/৪১৭, রাদ্দুল মুহতার, ৬/৫৪৫)

সুতরাং খেলাধুলা নিজে বৈধ হলেও ওয়াকফকৃত ঈদগাহে খেলাধুলা করা সমীচীন নয়। বিশেষ করে যখন তা ঈদগাহের সম্মান ও পবিত্রতার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। তাই আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শন ও ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর মর্যাদা সংরক্ষণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

অতএব, শারীরিক অনুশীলনমূলক খেলাধুলা ইসলামে জায়েজ আছে। তবে ওয়াকফকৃত ঈদগাহ মাঠ সাধারণ খেলার মাঠ নয়; এটি মুসলমানদের একটি ধর্মীয় ও ইবাদতসংক্রান্ত স্থান। যদিও তা পূর্ণাঙ্গ মসজিদ নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মসজিদের সব বিধান প্রযোজ্য হয় না, তবুও এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য ফকিহরা সেখানে খেলাধুলা ও অনুরূপ কর্মকাণ্ডকে অনুচিত বলেছেন। তাই একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরীরচর্চা ও খেলাধুলার জন্য অন্য কোনো সাধারণ মাঠ বা উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা এবং ঈদগাহের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। কারণ আল্লাহর নিদর্শনের সম্মান রক্ষা করা তাকওয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

হাদিসের বাণী

আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আল্লাহর ক্ষমার কোনো সীমা নেই
সংগৃহীত ছবি

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, হে বনি আদম, যদি তুমি আমাকে ডাকো ও আমার কাছে ক্ষমার আশা করো, তাহলে আমি তোমার সব অপরাধ ক্ষমা করে দেব। আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তোমার পাপসমূহ যদি আকাশ পরিমাণ হয়ে যায়, আর তুমি যদি আমার নিকটে মাফ চাও, তাহলে আমি তোমাকে মাফ করে দেব। এতে আমি কোনো পরওয়া করব না। হে বনি আদম, তুমি যদি পৃথিবী সমপরিমাণ অপরাধ নিয়ে আমার নিকট উপস্থিত হও, আর যদি তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করো, তাহলে আমি এক পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার নিকট উপস্থিত হব। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫৪০, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১২৪০৫)


শিক্ষা ও বিধান
১. মানুষের পাপ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা তার চেয়েও অনেক বড়।
২. বান্দা যখন আন্তরিকভাবে আল্লাহকে ডাকে, তখন তিনি তার ডাকে সাড়া দেন এবং রহমত বর্ষণ করেন।
৩. কোনো পাপের কারণেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া বৈধ নয়।
৪. সত্যিকার অনুতাপের সঙ্গে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ গুনাহ মাফ করে দেন।
৫. পাপ যত বেশি হোক, তাওবার দরজা খোলা থাকে। আকাশসম পাপও আন্তরিক ইস্তিগফারের মাধ্যমে ক্ষমা হতে পারে।
৬. আল্লাহ ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি বান্দার তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন।
৭. তাওহিদের মর্যাদা অপরিসীম। তাই শিরকমুক্ত ঈমান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মূল্যবান আমল।
৮. মুমিনের অন্তরে আশা ও ভয়ের ভারসাম্য থাকা উচিত। পাপের কারণে ভীত থাকবে, তবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না।

অতএব, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, একজন বান্দা যত বড় পাপীই হোক না কেন, যদি সে আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাওহিদের ওপর অটল থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও রহমতের দরজা তার জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। তাই কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে তাওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

মৃত্যুপথযাত্রী মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্য পঠিতব্য দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মৃত্যুপথযাত্রী মুমূর্ষ ব্যক্তির জন্য পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

একজন মুমিন সুস্থতা, দীর্ঘজীবন ও নেক আমলের তাওফিক কামনা করেন। তবে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মানুষ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় এবং দুনিয়ার সব সম্পর্ক, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ব্যস্ততা তার কাছে ম্লান হয়ে যায়। সেই সংকটময় সময়ে একজন ঈমানদার বান্দার সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়ে ওঠে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত এবং তাঁর নৈকট্য লাভ। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে পঠিতব্য হৃদয়স্পর্শী এমন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে দুনিয়ার প্রতি মোহ নয়; বরং মহান রবের সান্নিধ্য ও আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তা হলো—

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়া আলহিক্বনী বির রফিক্কিল আলা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ বন্ধুর সঙ্গ পাইয়ে দিন।’

হাদিস : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুল (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় এই দোয়া পড়তে শুনেছি। তখন তিনি আমার ওপর ভর করে ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৪)

অন্য হাদিসে আরেকটি দোয়ার কথা এসেছে। তা হলো— 

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ

উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।


অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তাঁর জন্য সব ক্ষমতা এবং তার জন্য সব প্রশংসা। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। 


হাদিস : আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান) তখন মহান রব তার কথা সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া উপাস্য নেই এবং আমিই মহান।’

অতঃপর যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।’

যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও আমার কোনো অংশীদার নেই।’

আর সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ (তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর জন্য সব ক্ষমতা, তাঁর জন্য সব প্রশংসা) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার জন্য সব ক্ষমতা ও প্রশংসা।

সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় এ দোয়াটি পড়বে অতঃপর মারা যাবে তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৪৩০)

মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতার মিলনমেলায় পরিণত হওয়া মেক্সিকো বিশ্বকাপ ঘিরে ইসলাম ও আরব সভ্যতার সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ’। সংস্থাটি ‘অনুপ্রেরণাদায়ক সভ্যতা’ শীর্ষক এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে, যার মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ইসলামের মানবিক মূল্যবোধ, আরব সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং মুসলিম সভ্যতার অবদানকে পরিচিত করে তোলা।

প্রদর্শনীটি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এতে রয়েছে ১১টি বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন, যেখানে মডেল, বই, প্রকাশনা, তথ্যচিত্র ও স্মারক উপহারের মাধ্যমে ইসলামী ও আরব সভ্যতার ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ইন্টারেক্টিভ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। তারা আরববিশ্বের ঐতিহ্যবাহী পোশাক—থোব, শেমাগ ও বিশত পরিধান করে ছবি তুলতে পারবেন। পাশাপাশি মেহেদির নকশা, হিজাব পরিধানের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আরব ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, দুই পবিত্র মসজিদকে নিবেদিত বিশেষ প্যাভিলিয়ন। এখানে দর্শনার্থীরা মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর মডেল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং আধুনিক সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবছর লাখো হাজি ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র।

আরব আতিথেয়তার অনন্য ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় তাঁবু। সেখানে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে আরবি কফি, খেজুর ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী দিয়ে। ফলে দর্শনার্থীরা শুধু তথ্যই পাচ্ছেন না, বরং আরব সংস্কৃতির আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতার স্বাদও গ্রহণ করছেন। প্রদর্শনীর পরিধি আরো বিস্তৃত করতে মেট্রো টানেলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ তথ্যকেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার বিনামূল্যে মেট্রো মানচিত্র বিতরণের পাশাপাশি ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ প্রকাশনাও সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সাতটি সাংস্কৃতিক তথ্যকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ইসলামী সভ্যতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন।