রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর মামলায় আত্মসমর্পণের আবেদন করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন রেস্টুরেন্টের মালিক রাফি উজ-জাহেদ (৩৪)।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান রাফি। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট এবিএম ইব্রাহিম খলিল জামিন শুনানি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘আত্মসমর্পণের পর আসামিপক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধীতা করি। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে আমাকে জানানো হয়, জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমি আমার পরিচিত সাংবাদিকদের এটায় জানিয়ে দেয়। পরে আবার আমাকে জানানো হলো, আসামিপক্ষ আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এটা কেমনে সম্ভব।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মে আত্মসমর্পণের আবেদন করেও প্রত্যাহার করে নেন রাফি। এর আগে ২০ এবং ২১ মে একই মামলায় তিনি প্রথমে আত্মসমর্পণের আবেদন করে পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।
একই মামলায় গত ১৭ মে আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী রমজানুল হক নিহাদ এবং হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আদিব আলম আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। নিহাদ আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। তবে জামিন পান আদিব আলম।
গ্রিন কোজি কটেজে আগুনে প্রাণহানির ঘটনায় ১৯ এপ্রিল ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিকসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে আদালত। ওইদিন পলাতক ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে ২ এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহজালাল মুন্সী।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রিন কোজি কটেজ সাততলা ভবনে আগুনে ৪৬ জন প্রাণ হারায়। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু। জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।
ওই ঘটনায় রমনা মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মামলা করেন। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।





