যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন হ্যান্ডলিং (পণ্য ওঠানো-নামানো) শ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে রবিবার (১৪) সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
কর্মবিরতির ফলে বন্দরে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, বন্দর এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য ক্রেন ও ফর্কলিফটের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় এসব যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ফলে শ্রমিকদের গভীর রাত পর্যন্ত, কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি সচল থাকা কয়েকটি ক্রেন ও ফর্কলিফটও বিকল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরো সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সাত দিন আগে নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ক্রেন বা ফর্কলিফট বন্দরে না আসায় পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ (রবিবার) সকাল থেকে সব ধরনের পণ্য ওঠানো-নামানো কাজ বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন বিপুলপরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আমদানি করা পণ্যের খালাস ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, বর্তমানে তারা অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিটন পণ্যে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৮ টাকা, যা এখনো অপরিবর্তিত। অথচ এর মধ্যে বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। শ্রমিকরা বর্তমানে প্রতিটনে ২৮ থেকে ৩৫ টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান।
শ্রমিকরা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পুরনো ও জরাজীর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। তারা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে না এবং তাদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয় না। এমনকি বেনাপোলে প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কোনো কার্যালয়ও নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনা। প্রায় দুই মাস আগে একটি ক্রেনের তার ছিড়ে পড়ায় এক শ্রমিক নিহত এবং একজন আহত হন। ওই দুর্ঘনার পর শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং আহত শ্রমিকের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেয়। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে দাবি শ্রমিক নেতাদের।
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক (৯২৫) ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, নতুন ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহ, ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিক কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে তারা এ কর্মবিরতি পালন করছেন।
আজ রবিবার কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন ৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, ইউনিয়ন ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।




