• ই-পেপার

নোয়াখালীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জ

পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবরারিদের গোলাগুলি, ৫ পুলিশসহ আহত ৭

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবরারিদের গোলাগুলি, ৫ পুলিশসহ আহত ৭

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসময় মাদক কারবারিদের হামলায় এক এসআইসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ শীর্ষ মাদক কারবারি মনির ওরফে ফাইটার মনিরসহ তিনজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তাররা হলেন—মনির ওরফে ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। তাদের শহরের খানপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। 

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আমাদের পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। কেউ গুরুতর আহত হননি। তারা সবাই সুস্থ আছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১১টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এসময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ ফাইটার মনির এবং তার সহযোগী মাসুম ও নাঈমকে আটক করা হয়।

আটকের খবর পেয়ে মনিরের সহযোগী মাদক কারবারিরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এসময় হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন এবং মাদক কারবারিদের দুইজন আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে শীর্ষ মাদক কারবারি ফাইটার মনিরকে তার দুই সহযোগীসহ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ছাড়িয়ে নিতে মাদক কারবারিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

খুলনা

ফজরের নামাজের সময় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

খুলনা অফিস
ফজরের নামাজের সময় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং আলম মন্ডল (৫৫)। লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে। অপরদিকে আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ আদায়ের সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদে প্রবেশ করে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

এ সময় পাশে থাকা মুসল্লি আলম মন্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে লোকমানের মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে বলে জানা গেছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, আহত ৮

অনলাইন ডেস্ক
ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি, আহত ৮
গ্রেপ্তার মাদক কারবারিরা। সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদক কারবারিদের ইট পাটকেলের ঢিলে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত হয়েছে। এসময় শীর্ষ কারবারি ফাইটার মনিরসহ ৩ জনকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টায় ফতুল্লার মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন এসআই নন্দন সরকার এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন, কনস্টেবল আশিক। এ ছাড়া আহত হয়েছেন পথচারী হেলালউদ্দিম ড্রাইভার বাবু ও একেএম শফিউদ্দিন। তাদের প্রত্যেককে শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে ফাইটার মনিরের মাদকের আখড়ায় অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমাণের মাদকসহ ফাইটার মনির তার সহযোগী নাইম (৩০) ও মাসুমকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তখন গ্রেপ্তারদের ছিনিয়ে নিতে তাদের সহযোগীরা প্রথমে পুলিশের উপর এলোপাতাড়ি ইট পাটকেলের ঢিল ছুড়ে। পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রায় ৫/৬ রাউন্ড গুলি করে মাদক কারবারিরা। তখন পুলিশও পাল্টা দুই রাউন্ড শর্ট গানের গুলি ছুড়ে। কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও পুলিশ পথচারী ও গ্রেপ্তার মাদক কারবারিরা ইটের ঢিলে আহত হয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে মাদক কারবারিদের হামলায় র‍্যাব-পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী জেলা শহরের জজ আদালতের বিপরীতে শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দিনগত ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিনগত ভোর রাতে তিন-চার যুবক নোয়াখালী জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। ভোর রাতে জনশূন্য থাকায় আগুন জ্বলে নিভে যায়। 

পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৫ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন দেওয়ার সময় এক যুবক বলছেন—‘স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশ থেকে রাজাকারের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।’

ভিডিওর শেষাংশে তাদের আরো বলতে শোনা যায়, ‘নোয়াখালী থেকে রাজাকার বিতাড়িত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রস্তুত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। শেখ হাসিনার স্মরণে, ভয় করি না মরণে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

বিকেলে এই ঘটনায় জানাজানির পর স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সকালে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, ভোর রাতে কোনো এক সময় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।