• ই-পেপার

জ্বর উঠলে যে দোয়া পড়বেন

আশুরা : ইতিহাস, ফজিলত ও শিক্ষার এক মহিমান্বিত দিন

মুফতি ওমর বিন নাছির
আশুরা : ইতিহাস, ফজিলত ও শিক্ষার এক মহিমান্বিত দিন
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের ইতিহাসে কিছু দিন ও রাত এমন আছে, যেগুলো আল্লাহ তাআলা বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যে ভূষিত করেছেন। মুহাররম মাসের ১০ তারিখ, অর্থাৎ ইয়াওমে আশুরা, তেমনই একটি মহিমান্বিত দিন। এই দিনটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক নয়; বরং এটি আল্লাহর সাহায্য, সত্যের বিজয়, জুলুমের পরাজয় এবং ঈমানদারদের জন্য মহান শিক্ষার প্রতীক।

বর্তমান সময়ে আশুরাকে ঘিরে নানা ঘটনা প্রচলিত থাকলেও একজন মুসলিমের জন্য কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এ দিনের প্রকৃত গুরুত্ব জানা অত্যন্ত জরুরি। আশুরার মর্যাদা কারবালার ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং কারবালার ঘটনা ঘটার বহু আগে থেকেই এ দিনটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত ও ফজিলতপূর্ণ ছিল। তাই আশুরাকে বুঝতে হলে আমাদেরকে কোরআন, হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের আলোকে এর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করতে হবে।

আশুরা অর্থ কী?
‘আশুরা’ শব্দটি আরবি ‘عاشوراء’ থেকে এসেছে। এর মূল শব্দ ‘عشرة’ (আশারা), যার অর্থ দশ। তাই মুহাররম মাসের দশম দিনকে আশুরা বলা হয়।

আশুরা কারবালার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত নয়
অনেকেই মনে করেন, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার কারণে আশুরার দিন মর্যাদা লাভ করেছে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুয়তের আগেও কোরাইশরা এ দিনকে সম্মান করত এবং কাবা শরিফে গিলাফ পরানো হতো। আয়শা (রা.) বলেন, ‘রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে মানুষ আশুরার রোজা রাখত। আর এ দিন কাবা শরিফে গিলাফ পরানো হতো। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ হলো, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে ইচ্ছা রোজা রাখবে আর যে ইচ্ছা ছেড়ে দেবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৯২)

আশুরার ঐতিহাসিক ঘটনা: মুসা (আ.)-এর মুক্তি ও ফেরাউনের ধ্বংস
আশুরার দিনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহিহভাবে প্রমাণিত ঐতিহাসিক ঘটনা হলো—আল্লাহ তাআলা এ দিনে মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর আমি মূসা ও তাঁর সঙ্গীদের সবাইকে রক্ষা করলাম। তারপর অপর দলকে (ফেরাউন ও তার বাহিনীকে) ডুবিয়ে দিলাম।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৬৫-৬৬)

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন, ইহুদিরা আশুরার রোজা রাখছে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, ‘এ দিন আল্লাহ মুসা (আ.) ও বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের ওপর বিজয় দান করেছেন।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘মুসার সঙ্গে তোমাদের চেয়ে আমাদের সম্পর্ক বেশি।’ অতঃপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৯৪৩)

আশুরার রোজার ফজিলত
আশুরার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগিরা) গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২) এটি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নফল রোজা হিসেবে গণ্য।

আশুরার রোজা রাখার সুন্নাহ পদ্ধতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) চেয়েছিলেন মুসলমানরা যেন ইহুদিদের অনুকরণ না করে। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, সাহাবারা বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ দিন তো ইহুদি-খ্রিস্টানরাও সম্মান করে।’ তখন তিনি বললেন, ‘আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমরা নবম দিনও রোজা রাখব।’ কিন্তু পরবর্তী বছর আসার আগেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তিকাল করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

এ কারণে ফকীহগণ বলেছেন—
৯ ও ১০ মুহাররম রোজা রাখা উত্তম। কেউ চাইলে ১০ ও ১১ মুহাররমও রাখতে পারে। শুধু ১০ তারিখ একা রোজা রাখা মাকরুহ নয়, তবে উত্তম হলো সঙ্গে আরেকটি দিন যোগ করা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন, ‘তোমরা নবম ও দশম তারিখ রোজা রাখ এবং ইহুদিদের বিরোধিতা কর।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৫৫)

সাহাবায়ে কেরামের আশুরার প্রতি গুরুত্ব
সাহাবারা শুধু নিজেরাই রোজা রাখতেন না; বরং শিশুদেরও এ আমলে অভ্যস্ত করতেন। রুবাইয়্যি‘ বিনতে মুআউয়িজ (রা.) বলেন, ‘আমরা নিজেরাও আশুরার রোজা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদেরও রোজা রাখাতাম। তারা খাবারের জন্য কাঁদলে আমরা তাদের খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখতাম, যাতে ইফতার পর্যন্ত সময় কাটিয়ে দিতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬০)
এ থেকে বোঝা যায়, সাহাবায়ে কেরাম আশুরার রোজাকে কতটা গুরুত্ব দিতেন।

কারবালার ঘটনা ও আশুরা
৬১ হিজরির ১০ মুহাররমে কারবালার প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের নেতা হযরত হুসাইন (রাঃ) শাহাদাত বরণ করেন। এটি ইসলামের ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক ঘটনা। মুসলিম উম্মাহ আজও গভীর বেদনার সঙ্গে এ ঘটনাকে স্মরণ করে। তবে মনে রাখতে হবে, হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আশুরার মর্যাদা সৃষ্টি করেনি; বরং আশুরা পূর্ব থেকেই ফজিলতপূর্ণ ছিল।

আশুরার দিনে পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন
কথিত আছে যে, একটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য স্বচ্ছলতার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহ তার জন্য সারা বছর স্বচ্ছলতা দান করবেন।’ কিন্তু এ হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই এটিকে দুর্বল বা জাল বলেছেন। তাই এ বিষয়টিকে আশুরার প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। তবে কেউ যদি সওয়াবের আশায় পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করেন, তাকে এ নিয়ে দোষারোপ করাও সমীচীন নয়।

অতএব, আশুরা কোনো শোকের দিন নয়, আবার শুধু আনন্দের দিনও নয়; এটি ঈমান, শিক্ষা, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির দিন। এ দিনের প্রকৃত মর্যাদা নিহিত রয়েছে আল্লাহর সাহায্যে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের মুক্তি লাভের ঘটনায় এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশিত রোজার আমলে। তাই আশুরাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন কাহিনি, অতিরঞ্জন কিংবা বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস ছড়িয়ে না দিয়ে আমাদের উচিত সহিহ সুন্নাহ অনুসরণ করা, ৯ ও ১০ মুহাররম (অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম) রোজা রাখা এবং এ দিনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আশুরার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

যুবকদের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইসলামে জিমের গুরুত্ব

মুফতি ওমর বিন নাছির
যুবকদের শক্তি-সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইসলামে জিমের গুরুত্ব
সংগৃহীত ছবি

শরীর সুস্থ রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু দুনিয়াবি প্রয়োজন নয়; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া আমানতের যথাযথ হক আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন মুমিনের শক্তি, কর্মক্ষমতা ও সুস্থতা তাকে ইবাদত, দাওয়াত, জিহাদ, জীবিকা অর্জন এবং মানবসেবার কাজে অধিক সক্ষম করে তোলে। বর্তমান যুগে জিম বা ব্যায়ামাগারে শরীরচর্চা একটি জনপ্রিয় মাধ্যম।  ইসলাম সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম শরীর গঠনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে। তবে সেই শরীরচর্চা হতে হবে শালীনতা, সংযম ও সঠিক নিয়তের ভিত্তিতে। মহান আল্লাহ মানুষকে সুন্দর গঠন ও সামর্থ্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : তীন, আয়াত : ৪)

শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের তুলনায় আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম ও অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬৬৪)
এখানে শক্তি বলতে শুধু ঈমানের শক্তি নয়; বরং শারীরিক শক্তিও অন্তর্ভুক্ত। কারণ শারীরিক সক্ষমতা মানুষের নেক কাজ সম্পাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ইসলামে জিম করার বিধান
জিম করা বা আধুনিক ব্যায়ামাগারে শরীরচর্চা মূলত একটি বৈধ কাজ। বরং যদি এর উদ্দেশ্য হয়—শরীর সুস্থ রাখা, ইবাদতের শক্তি অর্জন, রোগ প্রতিরোধ করা, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা, এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যত্ন নেওয়া তাহলে তা সওয়াবের কাজেও পরিণত হতে পারে।

তবে কয়েকটি শর্ত অবশ্যই মানতে হবে—
১. শরীরচর্চার উদ্দেশ্য অহংকার, প্রদর্শন বা অন্যকে হেয় করা হওয়া যাবে না।
২. পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
৩. নামাজ ও অন্যান্য ফরজ ইবাদত অবহেলা করা যাবে না।
৪. হারাম গান, অশ্লীলতা বা অনৈতিক পরিবেশ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
৫. শরীরের ক্ষতি হয় এমন স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের শরীরচর্চা
ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও শারীরিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি হাঁটতেন, সফর করতেন, ঘোড়ায় আরোহণ করতেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতেন এবং দৌড় প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন।

১. তীরন্দাজি
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তীরন্দাজি কর এবং ঘোড়সওয়ারি শিক্ষা কর। তবে আমার কাছে তীরন্দাজি অধিক প্রিয়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৬৩৭)
তীরন্দাজি শুধু যুদ্ধবিদ্যা নয়; এটি মনোসংযোগ, ধৈর্য ও শারীরিক দক্ষতা বৃদ্ধির একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম।

২. ঘোড়দৌড়
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৭০)

৩. দৌড় প্রতিযোগিতা
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলাম এবং আমি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৫৭৮)
এ থেকে বোঝা যায়, সুস্থ বিনোদন ও শরীরচর্চা ইসলামে অনুমোদিত।

৪. মল্লযুদ্ধ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিখ্যাত মল্লযোদ্ধা রুকানা ইবনে ইয়াজিদের সঙ্গে কুস্তি লড়ে তাকে পরাজিত করেছিলেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, ১/৩৯০)
এ ঘটনা তাঁর শারীরিক সক্ষমতারও প্রমাণ বহন করে।

৫. ভারোত্তোলনের চর্চা
সাহাবিদের যুগে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে শক্তি পরীক্ষা করার প্রচলন ছিল। এটি বর্তমান যুগের ভারোত্তোলন বা ওয়েট ট্রেনিংয়ের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ।

জিম ও ইবাদতের সম্পর্ক
অনেকে মনে করেন, শরীরচর্চা শুধু খেলাধুলা বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে সুস্থ শরীর ইবাদতের অন্যতম সহায়ক। কেননা সুস্থ শরীর নামাজে একাগ্রতা বাড়ায়। রোজা পালনে সহায়তা করে। হজ ও ওমরার কষ্ট সহ্য করতে সক্ষম করে। জীবিকা অর্জনে শক্তি যোগায়। পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব পালনে সাহায্য করে। তাইতো রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার শরীরেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৬৮)


মুসলিম যুবকদের জন্য করণীয়
বর্তমান যুগে মোবাইল, অলসতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে অনেক তরুণ শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। একজন মুসলিম যুবকের উচিত—নিয়মিত ব্যায়াম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো, সাঁতার শেখা, পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমানো, এবং ক্ষতিকর নেশা থেকে দূরে থাকা। এসব অভ্যাস একজন যুবককে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত করবে।

জিম করা বা শরীরচর্চা করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়; বরং সৎ উদ্দেশ্য, শালীনতা ও মধ্যপন্থা বজায় রেখে করা হলে তা প্রশংসনীয় আমল হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শক্তিশালী মুমিনের প্রশংসা করেছেন এবং তীরন্দাজি, দৌড়, ঘোড়সওয়ারি ও মল্লযুদ্ধের মতো শরীরচর্চামূলক কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়েছেন। আজকের যুগে জিম সেই শরীরচর্চারই আধুনিক রূপ। অতএব একজন মুমিনের উচিত নিজের শরীরকে আল্লাহর আমানত মনে করে তার যথাযথ যত্ন নেওয়া, যেন সে সুস্থ দেহে ইবাদত করতে পারে, সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। শরীরের শক্তি যখন তাকওয়া, ইবাদত ও মানবসেবার পথে ব্যয় হয়, তখন তা শুধু ব্যায়াম নয়—বরং ইবাদতেরই একটি অংশে পরিণত হয়।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের বাণী

থুথু ফেলার ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ সতর্কতা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
থুথু ফেলার ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

আনাস (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার মহানবী (সা.) একজনকে কিবলার দিকে থুথু ফেলতে দেখতে পেলেন। এটা দেখে নবিজির খুব খারাপ লাগল। তার চেহারায়ও সেই চিহ্ন ফুটে উঠল। তিনি দাঁড়িয়ে নিজ হাতে তা ঘষে উঠিয়ে ফেললেন। তারপর বললেন, তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে আল্লাহর সাথে কথোপকথন করে। আর তার ও কিবলার মধ্যে আল্লাহ থাকেন। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। একান্তই যদি থুথু চলে আসে, তাহলে বামে কিংবা পায়ের নিচে ফেলবে। তারপর মহানবী (সা.) তার চাদরের এক কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশকে অন্য অংশ দিয়ে রগড়ে দিয়ে বললেন, তোমরা চাইলে এমনও করতে পার। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৭৫, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২৩৩০)

হাদিসের শিক্ষাসমূহ 
১. সালাত শুধু কিছু শারীরিক কর্মকাণ্ডের নাম নয়; বরং এটি বান্দা ও আল্লাহর মাঝে এক গভীর আধ্যাত্মিক যোগাযোগ। তাই সালাতে পূর্ণ মনোযোগ ও বিনয় থাকা উচিত।
২. কিবলা মুসলমানদের জন্য সম্মানিত দিক। তাই কিবলার দিকে থুথু, কফ বা শ্লেষ্মা নিক্ষেপ করা আদবের পরিপন্থী এবং গুনাহের কাজ।
৩. মসজিদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা ঈমানের অংশ। কেননা মহানবী (সা.) নিজ হাতে কিবলার দেয়াল থেকে থুথু পরিষ্কার করেছেন। 
৪. নেতৃত্বের আদর্শ হলো নিজে কাজ করে দেখানো। তাইতো মহানবী (সা.) শুধু নির্দেশ দেননি; বরং নিজেই অপবিত্রতা পরিষ্কার করেছেন। 
৫. সালাতে দাঁড়িয়ে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা সালাতের মর্যাদা বা একাগ্রতা নষ্ট করে। তাই সালাতে আদব ও শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। 
৬. খোলা জায়গায় সালাত আদায়ের সময় যদি থুথু চলে আসে, তবে ডান দিকে বা কিবলার দিকে নয়; বরং বাম দিকে অথবা বাম পায়ের নিচে ফেলার অনুমতি রয়েছে।
৭. বর্তমান যুগে মসজিদে কার্পেট, টাইলস ইত্যাদি থাকায় মেঝেতে থুথু ফেলা সমীচীন নয়। এ অবস্থায় রুমাল, টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার করা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত।
৮. মহানবী (সা.) উম্মতের ভুল সংশোধনে প্রজ্ঞা অবলম্বন করতেন। তিনি রাগের বশবর্তী হয়ে কঠোর শাস্তি দেননি; বরং নিজে পরিষ্কার করে শিক্ষা দিয়েছেন। দাওয়াত ও সংশোধনের ক্ষেত্রে এটিই উত্তম পন্থা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সালাতের আদব রক্ষা করার এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা সংরক্ষণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

মক্কার পবিত্র হাতিমে কাবায় প্রবেশের নতুন সময়সূচি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মক্কার পবিত্র হাতিমে কাবায় প্রবেশের নতুন সময়সূচি
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র কাবা শরিফসংলগ্ন ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান হাতিমে কাবায় প্রবেশের জন্য পুরুষ ও নারীদের পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করেছে দুই পবিত্র মসজিদবিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি। গ্র্যান্ড মসজিদের অভ্যন্তরে চলাচল আরো সুশৃঙ্খল করা এবং মুসল্লিদের জন্য ইবাদতের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হাতিমে কাবায় প্রবেশ করতে পারবেন। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, হাতিমে কাবায় প্রবেশের সময় নির্ধারণের মূল লক্ষ্য হলো মুসল্লি ও ওমরাহ হজ পালনকারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করার সুযোগ করে দেওয়া। একই সঙ্গে মসজিদুল হারামের তাওয়াফ এলাকা ও আশপাশের অংশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, দুই পবিত্র মসজিদে আসা মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। হাতিমে কাবায় প্রবেশের এই নতুন সময়সূচিও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

উল্লেখ্য, ‘হাতিমে কাবা’ কাবা শরিফের উত্তর পাশে অবস্থিত অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরবেষ্টিত একটি পবিত্র স্থান। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি কাবা শরিফের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে এখানে নামাজ আদায় ও ইবাদত করার জন্য মুসল্লিদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। নতুন এ সময়সূচির মাধ্যমে মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ আরো সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।