• ই-পেপার

সার বিতরণ সহজ করতে জাতীয় সমন্বয়-পরামর্শক কমিটি

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা ২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

ঢাকার আশপাশে একাধিক উৎপত্তিস্থল কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বিবিসি বাংলা
ঢাকার আশপাশে একাধিক উৎপত্তিস্থল কি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যার বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রীক কঁম্পন অনুভূত করিয়েছে। উৎপত্তিস্থলও ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে। যা ঢাকার বাসিন্দাদের আতঙ্কে ফেলেছে।

সর্বশেষ গত ২২ জুন রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীতে অনুভূত হয় ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল চার দশমিক চার এবং উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীতে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যার উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীতে। এটিকে সর্বশেষ কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই ভূমিকম্প কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নরসিংদী এলাকায় আরো তিনটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল।

ঢাকার আশপাশেই উৎপত্তিস্থল

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২২ জুনের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। আর ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলোজিতে বলা হয়েছে, চার মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।

অন্যদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল চার এবং উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পূর্বে।

উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত এই পার্থক্য নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর বলেন, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে গেলে সেটা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার মাঝেই পড়ে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও এর সীমান্তবর্তী এলাকায় যতগুলো ভূমিকম্প হয়েছে, এর মাঝে বেশ কয়েকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছাকাছি। এর মধ্যে চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তিন দশমিক দুই মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৪২ কিলোমিটার।

এর আগে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর রিখটার স্কেলে পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে হওয়া ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে মাধবদী এলাকায়, ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার, যা গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপত্তি হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। ওই ভূমিকম্পে ঢাকায় চারজন, নরসিংদীতে পাঁচ জন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হন বলে জানিয়েছিলো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এতে সাড়ে চার শতাধিক মানুষ আহত হন, যার মধ্যে শুধু গাজীপুরেই আহত হন ২৫২ জন।

ওই ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরো তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মোট চারটি ভূমিকম্পের মধ্যে তিনটিরই উৎপত্তিস্থলই ছিল নরসিংদী জেলার দুটি উপজেলা এবং একটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকারই বাড্ডা এলাকায়।

মাধবদীর ভূমিকম্পের পরদিন ২২ নভেম্বর নরসিংদীর পলাশে তিন দশমিক তিন মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, ঢাকা থেকে সেই কেন্দ্রের দূরত্ব ছিল ২৯ কিলোমিটার। একই দিনে ঢাকার বাড্ডায় তিন দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্প উৎপত্তি হয় এবং পরে নরসিংদীতে চার দশমিক তিন মাত্রার একটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। শেষেরটির কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে।

এর কয়েকদিন পর ২৭ নভেম্বর নরসিংদীর ঘোড়াশালে তিন দশমিক ছয় মাত্রার একটি ভূমিকম্প উৎপত্তি হয়, যার কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে।

এরপর এক সপ্তাহের মাথায় চৌঠা ডিসেম্বর নরসিংদীর শিবপুরে চার দশমিক এক মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, ঢাকা থেকে যার কেন্দ্র ছিল ৩৮ কিলোমিটার দূরে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প টেকটোনিক কার্যকলাপের কারণে হতে পারে, আবার কোনো সক্রিয় ফল্টের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। অনেক সময় নতুন ফল্ট সৃষ্টি হয়, আবার দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো পুরোনো ফল্টও পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের অবস্থান ইউরেশিয়ান ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগ স্থলের মাঝামাঝি। অন্যদিকে আছে বার্মিজ প্লেট। এই তিন প্লেটের সংযোগের কারণে এখানে বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে বলে জানান ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীর।

ঢাকায় বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারীর মতে, সম্প্রতি ঢাকার কাছাকাছি যেসব ছোট বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে, সেগুলো থেকে বড় ধরনের ভবনধস বা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা নেই। তবে এসব ভূমিকম্প মানুষকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ঐতিহাসিকভাবে সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম ফল্টগুলো।

তার মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং ঢাকার কাছাকাছি শ্রীমঙ্গল ও বগুড়ার শেরপুর এলাকায়। কারণ ইতিহাসে এসব অঞ্চলে সাতের বেশি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে।

১৯১৮ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সাত দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল এবং বগুড়ার শেরপুর এলাকায় সাত দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিলো ১৮৮৫ সালে।

তিনি বলেন, এগুলো ঢাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মাঝে আছে। বাকি বড় ভূমিকম্পগুলো ঢাকা থেকে আরও দূরে দূরে হয়েছিলো। 

তবে ঢাকার জন্য কোনো উদ্বেগের বিষয় আছে কিনা, সে সম্পর্কে তিনি বলেন, "প্রত্যেকটি ভূমিকম্পের রিটার্ন পিরিয়ড (পুনরাবৃত্তির সময় বা চক্র) আছে।"

"ঢাকা থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। কিন্তু ওটার রিটার্ন পিরিয়ড বড় হবে। ওটা আমাদের হিসাবে প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর। সেটা হয়তো ২২৫০ সালের আশেপাশে হবে। সাত মাত্রারগুলো দেড়শো-দুইশো বছরের মাঝে হবে।"

"সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়তো আরো কখনও হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য নাই। সেজন্যই আমরা বলি যে সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঢাকায় শিগগিরই আসার সম্ভাবনা। এখন এটা কবে আসবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ২০ বছরও লেগে যেতে পারে।" বলছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদীতে যেভাবে একের পর এক ভূমিকম্পের উৎপত্তি হচ্ছে, হতে পারে এটি বড় কোনো ভূমিকম্পের ইঙ্গিত। কিন্তু যেসব তথ্য-উপাত্ত আছে, তাতে ঐতিহাসিকভাবে নরসিংদীতে বড় কোনো ভূমিকম্প কখনও হয়নি, জানান অধ্যাপক আনসারী।

তিনি বলেন, "তাই নরসিংদী বা ঢাকার আশপাশের ভূমিকম্পের হিসেবে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ না, কিন্তু ওই অতীতের ওই বড় ভূমিকম্পগুলোর বিচারে ঢাকা খুবই ঝুঁকিতে আছে। বড় কোনো ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।"

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবীরও বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ঢাকাকেন্দ্রিক বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস নেই। কিন্তু সীমান্তে বড় ভূমিকম্প আছে। আর আমার অভিজ্ঞতা বলছে, গত বছর দুয়েক ধরে আমাদের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পপ্রবণতা একটু বেশি।"

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : মির্জা ফখরুল
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারায় সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সরকারের দায়িত্ব হলো সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। আমরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই।’

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে পূজা-অর্চনা ও তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানের উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিজ্ঞতা নেই, তবু বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে বাড়তি দায়িত্বে ৮ আমলা

অনলাইন ডেস্ক
অভিজ্ঞতা নেই, তবু বিদ্যুৎ-জ্বালানি বোর্ডে বাড়তি দায়িত্বে ৮ আমলা

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে ৩৭টি কম্পানি রয়েছে। এসব কম্পানিতে বোর্ড সদস্য রয়েছেন ৩০৬ জন। এ ছাড়া বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান ও পরিচালকের ১৬৭টি পদেই রয়েছেন আমলারা। তাদের মধ্যে একই ব্যক্তি রয়েছেন একাধিক বোর্ডে। শুধু তাই নয়, বর্তমান আমলাদের পাশাপাশি অনেক প্রভাবশালী সাবেক আমলাও কোনো কোনো বোর্ডে জায়গা নিয়েছেন। বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে, অভিজ্ঞতা না থাকলেও এক সেক্টরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন অন্য সেক্টরেও। সেই সঙ্গে তাদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 

এ সংক্রান্ত নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অর্ধেক শেয়ার রয়েছে এ কম্পানিতে। তাকে খোঁজে পাওয়া গেল গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানির (জিটিসিএল) বোর্ডেও। তিনি এ কম্পানির পরিচালক। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদ। তিনি উপসচিব থাকালে বগুড়ার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ছিলেন। বর্তমানে অবসরকালীর ছুটি কাটানোর কথা থাকলেও সরকার ছুটি বাতিল করে তাকে কৃষি সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি আবার নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) চেয়ারম্যানও। অর্থনীতিতে পিএইচডি করা কৃষি সচিব কিভাবে নেসকোর চেয়ারম্যান হলেন কিংবা কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যনির্বাহীর দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি নেসকোর কর্মকাণ্ড কিভাবে পরিচালনা করেন, তা নিয়ে মিলছে না অনেক প্রশ্নের উত্তর। 

শুধু কানিজ মওলা ও রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদই নন, তাদের মতো বেশ কয়েকজন আমলা দখলে রেখেছেন একাধিক বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চেয়ারে বসা নাসিমুল গণি দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন কম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরএল) চেয়ারম্যান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকও বিআর পাওয়ার জোন নামের বিদ্যুৎ উৎপাদন কম্পানির চেয়ারম্যান। জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাঁধে রয়েছে চারটি কম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। 

নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সাইফুল ইসলাম দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস বিতরণ কম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সঙ্গে তিনি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল), বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কম্পানি (বিসিপিসিএল) এবং বাংলাদেশ চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কম্পানিরও (বিসিআরইসিএল) চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম পিডিবির বাইরে কতগুলো কম্পানির পরিচালক তা হয়তো তিনি নিজেও মনে করতে পারবেন না। তিনি শুধু বিদ্যুতের নয়, কোনো কোনো জ্বালানি কম্পানিরও বোর্ড মেম্বার। তিনি পাওয়ার গ্রিড কম্পানি (পিজিসিবি), আশুগঞ্জ পাওয়ার, এনডব্লিউপিজিসিএল, বিসিপিসিএল, কোল পাওয়ার জেনারেশন (সিপিজিসিএল), বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ কম্পানি (বিআইএফপিসিএল), তিতাস, বাখরাবাদ গ্যাস কম্পানিরও পরিচালক। সর্বোচ্চ আটটি কম্পানির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা রেজাউল করিমকেও একজন সুপারম্যান বলা যায়।

বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হলেও তিনি এখনো রয়েছেন পিজিসিবি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, এলপিজিএল, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কম্পানির বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদে।

কম যান না পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানও। আব্দুল মান্নান জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন বোর্ডে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও পিডিবির চেয়ারম্যানের মতো তিনি বিদ্যুৎ কম্পানির কোনো বোর্ডে নেই। এরপরও তিনি বাপেক্স, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কম্পানি (পিজিসিএল), জিটিসিএল, বাখরাবাদ এবং কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কম্পানির বোর্ডে রয়েছেন।

বিদ্যুতের ১৫ কম্পানি
বিদ্যুৎ বিভাগে মোট ১৫টি কম্পানি রয়েছে। এসব কম্পানির চারটি যৌথ উদ্যোগে ভারত এবং চীনের রাষ্ট্রীয় কম্পানির সঙ্গে গঠন করা হয়েছে। এসব কম্পানিতে ১৩৬ জন বোর্ড সদস্যের ৫৮ জনই প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন প্রত্যেকটি বোর্ডে। পিজিসিবিতে ৪ জন, আশুগঞ্জে ৪ জন, ইজিসিবিতে ৪ জন, এনডব্লিউপিজিসিএলে ৬ জন, বি আর পাওয়ার জোনে ৫ জন, কোল পাওয়ারে ৫ জন, বিআইএফপিসিএলে ২ জন, ওয়েস্ট জোনে ৪ জন, ডেসকোতে ৬ জন, ডিপিডিসিতে ৭ জন, নেসকোতে ৬ জন, বিসিপিসিএলে একজন, বিসিআরইসিএলে ২ জন, আরপিসিএলে একজন এবং আরএনপিএলে একজন আমলা রয়েছেন।

পেট্রোবাংলার ১৪ কম্পানি 
পেট্রোবাংলার ১৪ কম্পানিতে ১০৮ বোর্ড সদস্যের ৭০ জনই আমলা। পেট্রোবাংলায় ২ জন, তিতাসে ৫ জন, পিজিসিএলে ৫ জন, সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কম্পানিতে ৬ জন, বাখরাবাদে ৪ জন, কর্ণফুলীতে ৭ জন, বাপেক্সে ৫ জন, বিজিএফসিএলে ৭ জন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডে ৪ জন, জিটিসিএলে ৭ জন, জালালাবাদে ৬ জন, আরপিজিসিএলে ৫ জন, মধ্যপাড়া কঠিন শিলায় ৩ জন এবং বড়পুকুরিয়ায় ৪ জন।

বিপিসির ৮ কম্পানি 
বিপিসির আট কম্পানির বোর্ড সদস্য ৬২ জনের ৩৯ জনই আমলা। কেউ কেউ সাবেক আমলা। ইআরএলে ৫ জন, পদ্মা অয়েলে ৭ জন, মেঘনায় ৫ জন, যমুনাতে ৩ জন, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টে ৫ জন, এলপিজিএলে ৭ জন, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিকে ২ জন এবং পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কম্পানিতে ৫ জন আমলা রয়েছেন।

বোর্ডে মধু
কোনো কোনো বোর্ড মিটিংয়ে ৫০০ ডলার পর্যন্ত সম্মানী দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ বোর্ডে সম্মানী ৬ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। মাসে কোনো বোর্ডে ৪টি পর্যন্ত মিটিং হয়। এ ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ির সুবিধাসহ বৈধভাবে বোর্ড মেম্বাররা অনেক সুবিধা পান। এ ছাড়া অনেকে কম্পানি থেকে নানা সুবিধা নিয়ে থাকেন। কম্পানির কেনাকাটা, প্রকল্প বাস্তবায়ন সব কাজেই বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। সঙ্গত কারণে বোর্ড মেম্বারদের ক্ষমতা দেখানো বা আয়ের অনেক সুযোগ রয়েছে।

কম্পানি বাইরের মিটিং করতে হয় ঢাকায়
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের অনেকগুলো কম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকার বাইরে। বোর্ড মিটিং করতে ঢাকায় আসতে হয় কর্মকর্তাদের। কারণ ঢাকাতেই থাকেন প্রভাবশালী আমলারা। ঢাকার বাইরের বোর্ড মেম্বারদেরও ঢাকায় আসতে হয়। তারা ঢাকায় না আসতে পারলে অনলাইনে রেখেই বৈঠক সারা হয়।

কম্পানির কর্মকর্তারা বোর্ডে উপেক্ষিত
কম্পানিগুলোতে যেসব কর্মকর্তা চাকরি করেন তাদের মধ্যে শুধু ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই বোর্ডে রাখা হয়। যদিও একটি বা দুটি কম্পানির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। তবে কম্পানির আর কাউকে বোর্ডে রাখা হয় না। ব্যবসা একজনের চালান অন্যরা।

সেরাদের সেরা এমন কম্পানির বোর্ড কেমন হয়
ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কম্পানির বোর্ড কেমন হয়, তা জানার চেষ্টা করেছি আমরা। কম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটে বোর্ড মেম্বারদের তালিকার সঙ্গে তাদের পেশাগত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, সেসব বোর্ড সরকারি আমলানির্ভর নয়।

ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কম্পানি ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) ১২ বোর্ড মেম্বারের ৬ জনই কম্পানির, বাকি ৬ জনের ২ জন সরকার মনোনীত আর ৪ জন স্বাধীন পরিচালক। চীনের নরিনকো গ্রুপের ৯ সদস্যের বোর্ডে ৪ জন কম্পানির, বাকি সদস্যরা বাইরের। আমেরিকান ইলেকট্রিক পাওয়ারের (এএইপি) ১০ সদস্যের বোর্ডে একজন কম্পানির চাকুরে, বাকি সবাই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সাবেক নির্বাহী। বোর্ডে থাকা সারা মার্টিনেজ ২০০৬-২০০৮ সালে মার্কিন শিক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন, এখন তিনি সে পদে নেই। ভারত, চীন আমেরিকার কম্পানির বোর্ডগুলো যেখানে কম্পানির প্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত, সেখানে বাংলাদেশের সরকারি কম্পানির বোর্ডগুলো আমলানির্ভর।

কম্পানির কর্মকর্তারা যা বলছেন
কম্পানির বোর্ডের বিষয়ে সরাসরি কোনো কম্পানির কর্মকর্তা কথা বলতে সম্মত হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমলা নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়। এখন মন্ত্রণালয়ে এমন বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে গেলে বলা হয়, উনি বিদ্যুৎ-জ্বালানির কী বোঝেন! বোর্ডগুলো দ্রুত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও পারে না। পেশাজীবীর বদলে কর্মকর্তাকেন্দ্রিক হওয়ায় অনেক প্রস্তাব উত্থাপনের পর বলা হয়, ‘এটা পরে ওঠান।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘ওসির কাজ তো ডিসিকে দিয়ে হয় না। আমলাদের কাজ ব্যবসা করা নয়। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে।’ বোর্ডগুলো ভেঙে করপোরেট ধারায় গড়ে তোলা উচিত বলে তিনি মনে করেন।