• ই-পেপার

অধিভুক্ত কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা

খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর
ছবি: কালের কণ্ঠ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি শুরু করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে। পরে সংগৃহীত স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হবে।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে যৌন হয়রানির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন প্রথমে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে, যা গত রবিবার থেকে চলমান রয়েছে।

এদিকে তদন্ত চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক আদেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উদঘাটন এবং দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

আট সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন

মনিপুর স্কুলের দায়িত্বে আসছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মনিপুর স্কুলের দায়িত্বে আসছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে পূর্বের অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে আট সদস্যবিশিষ্ট নতুন অ্যাডহক কমিটি। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার প্রথমবারের মতো বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা অনুযায়ী এই নতুন কমিটি গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুশাসন মেনে আজকালের মধ্যেই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন গঠিত এই আট সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে পুনর্বহাল রাখা হয়েছে ম. হামিদুল হক মানিককে। তিনি আগের অ্যাডহক কমিটিতেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক ৩), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক, শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি শাকিল মোল্লা এবং প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বড় ধরনের রদবদল আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘অধ্যক্ষ’ হিসেবে শিগগিরই একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ‘শাখা প্রধান’ হিসেবে আরও চারজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা দায়িত্ব পাবেন। এ সংক্রান্ত ফাইলটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণের পর্যায়ে রয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে মনিপুর স্কুলের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘শিক্ষার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে’ রূপ দেওয়া হয়েছিল। ভর্তি বাণিজ্য, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে নামে-বেনামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কর্মরত মোট ৬৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জন শিক্ষকের নিয়োগই সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ডিআইএ-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। একইভাবে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের ঘটনা ধরা পড়লে কেন্দ্র প্রধান বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নকল নেই, তবে নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। সাইবার আইন পরিবর্তন হচ্ছে যাতে নকলের সহযোগীরা পার পেতে না পারে। এ জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে ১০ বছর ধরে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

রাবি প্রতিনিধি
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
ছবি : কালের কণ্ঠ

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ১১ শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের সামনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় ১১ জন শিক্ষার্থী চলমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। তবে এ অবস্থার জন্য বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও দায়ী বলে দাবি তাদের। তাই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় সেশনজট নিরসন, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর দাবিও তোলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে উচ্চশিক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন বলেন, করোনাকালীন স্থবিরতার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেশনজটের কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়েছে। মাস্টার্স পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুতেও বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরেক শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, উপস্থিতির স্বল্পতার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের স্থায়ী সমাধান দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজি রবিউল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নন। সেই নিয়ম অনুসারেই তাদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিভাগীয় শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান, নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ, সেশনজট নিরসন এবং বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।