• ই-পেপার

নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

গান নয়, আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থী অভিযোগের ভিত্তিতে সেই ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
গান নয়, আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থী অভিযোগের ভিত্তিতে সেই ঢাবি শিক্ষক বরখাস্ত
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তাশরিক-ই-হাবিবকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গাওয়ার কারণে নয়, বরং আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান পরিবেশন করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, গান গাওয়ার কারণে কি তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ধারণা।

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং নন-একাডেমিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত ও আলোচনা চলছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটির একাধিক সভায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৩ মে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার জবাব একাডেমিক কমিটির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি।

অধ্যাপক তরিক মনজুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, তার লেখা বা প্রকাশিত বই না কেনার কারণে নম্বর বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক পোস্ট ও ভিডিও নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘গান গাওয়ার কারণে নয়; বরং আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।’

খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
খুবিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর
ছবি: কালের কণ্ঠ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি শুরু করেন এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলবে। পরে সংগৃহীত স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হবে।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে যৌন হয়রানির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা ও অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন প্রথমে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে, যা গত রবিবার থেকে চলমান রয়েছে।

এদিকে তদন্ত চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক আদেশে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্য উদঘাটন এবং দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

আট সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন

মনিপুর স্কুলের দায়িত্বে আসছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মনিপুর স্কুলের দায়িত্বে আসছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগে পূর্বের অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গঠন করা হয়েছে আট সদস্যবিশিষ্ট নতুন অ্যাডহক কমিটি। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার প্রথমবারের মতো বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে ডেপুটেশনে (প্রেষণে) নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন প্রবিধানমালা অনুযায়ী এই নতুন কমিটি গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুশাসন মেনে আজকালের মধ্যেই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন গঠিত এই আট সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে পুনর্বহাল রাখা হয়েছে ম. হামিদুল হক মানিককে। তিনি আগের অ্যাডহক কমিটিতেও সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক ৩), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার বিদ্যালয় শাখার পরিদর্শক, শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা আহমেদ, অভিভাবক প্রতিনিধি শাকিল মোল্লা এবং প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বড় ধরনের রদবদল আসছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘অধ্যক্ষ’ হিসেবে শিগগিরই একজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসের ‘শাখা প্রধান’ হিসেবে আরও চারজন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা দায়িত্ব পাবেন। এ সংক্রান্ত ফাইলটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণের পর্যায়ে রয়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে মনিপুর স্কুলের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘শিক্ষার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে’ রূপ দেওয়া হয়েছিল। ভর্তি বাণিজ্য, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে নামে-বেনামে প্রায় ৬০০ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কর্মরত মোট ৬৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জন শিক্ষকের নিয়োগই সম্পূর্ণ অবৈধ বলে ডিআইএ-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিভুক্ত কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অধিভুক্ত কলেজগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে পাঠদানরত সব শিক্ষকের তথ্য আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় [email protected] পাঠাতে বলা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থায়ী, অস্থায়ী ও খণ্ডকালীনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণ, প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের ও কলেজের কম্পিউটার ল্যাব-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে স্নাতক (পাস ও সম্মান) পর্যায়ে পাঠদানরত সব শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক তথ্য, আইসিটি বিষয়ে কোর ট্রেনিং ও মাস্টার ট্রেনিংপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা, প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের তালিকা এবং কলেজে কম্পিউটার ল্যাব আছে কি না বা কয়টি কম্পিউটার আছে—তা উল্লেখ করে নির্ধারিত ছক (বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো Excel File ফরম্যাট) অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।