একজন মুমিন সুস্থতা, দীর্ঘ জীবন ও নেক আমলের তাওফিক কামনা করে। তবে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মানুষ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় এবং দুনিয়ার সব সম্পর্ক, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ব্যস্ততা তার কাছে ম্লান হয়ে যায়। সেই সংকটময় সময়ে একজন ঈমানদার বান্দার সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়ে ওঠে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত এবং তাঁর নৈকট্য লাভ। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে পঠিতব্য হৃদয়স্পর্শী এমন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে দুনিয়ার প্রতি মোহ নয়; বরং মহান রবের সান্নিধ্য ও আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তা হলো-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী ওয়া আলহিক্বনী বির রফিক্কিল আলা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ বন্ধুর সঙ্গ পাইয়ে দিন।’
হাদিস : উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুল (সা.)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় এই দোয়া পড়তে শুনেছি। তখন তিনি আমার ওপর ভর করে ছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৪)
অন্য হাদিসে আরেকটি দোয়ার কথা এসেছে। তা হলো-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তাঁর জন্য সব ক্ষমতা এবং তার জন্য সব প্রশংসা। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
হাদিস : আবু সায়িদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান) তখন মহান রব তার কথা সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া উপাস্য নেই এবং আমিই মহান।’
অতঃপর যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।’
যখন সে বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ (একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও তাঁর কোনো অংশীদার নেই) তখন আল্লাহ বলেন, ‘একমাত্র আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই ও আমার কোনো অংশীদার নেই।’
আর সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ (তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর জন্য সব ক্ষমতা, তাঁর জন্য সব প্রশংসা) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার জন্য সব ক্ষমতা ও প্রশংসা।
সে যখন বলে, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই) তখন আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি ছাড়া কারো কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় এ দোয়াটি পড়বে অতঃপর মারা যাবে তাকে জাহান্নাম স্পর্ষ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৪৩০)




