• ই-পেপার

জিজ্ঞাসা

রাসুল (সা.) কোরআনের হাফেজ ছিলেন?

  • আমার নাম মাসরুর নোমান, বয়স ১০ বছর। আমি হিফজখানার একজন শিক্ষার্থী। আমি জানতে চাই, আমাদের নবীজি (সা.) কি কোরআনের হাফেজ ছিলেন? তিনি কোরআনের হাফেজ হলে কত দিনে কোরআন হিফজ করেছিলেন?

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৫১

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

হা মিম। এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী সবকিছুই আমি যথাযথভাবে নির্দিষ্ট কালের জন্য সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অবিশ্বাসীরা, তাদেরকে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে...সেই ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে যে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তাকে সাড়া দেবে না? এবং এগুলো তাদের প্রার্থনা সম্পর্কে অবহিতও নয়।  (সুরা : আহকাফ, আয়াত : ১-৫)

পবিত্র কোরআনের ৪৬তম সুরা আহকাফ। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় ৩৫টি আয়াত ও চারটি রুকু রয়েছে। এতে ঈমানের মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

 

১. কোরআন পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ। সুতরাং কোরআনও অনিবার্য ও জ্ঞানের উৎস।

২. আয়াতে নির্ধারিত সময় দ্বারা কিয়ামত দিবস উদ্দেশ্য। কেননা তখন আসমান-জমিন ধ্বংস হবে এবং সব জীবের মৃত্যু ঘটবে।

৩. পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব ও পরম্পরাগত জ্ঞান কোনো কিছুই শিরককে সমর্থন করে না।

৪. আয়াত থেকে ধারণা মেলে জাহেলি যুগের আরব সমাজেও জ্ঞানের চর্চা ছিল। যদিও তা সীমিত পরিসরে, অগ্রন্থিত ও মৌখিক ছিল।

৫. অসার ও স্থির প্রস্তরখণ্ডকে উপাস্য অথবা আল্লাহর সমকক্ষ জ্ঞান করা স্পষ্টত বিভ্রান্তি ও জ্ঞানের দৈন্যদশার প্রমাণ। (জাদুল মাসির : ৭/৩৬৪)

মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

উম্মে আহমাদ ফারজানা
মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইসলাম ও আরব সভ্যতার প্রদর্শনী

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সভ্যতার মিলনমেলায় পরিণত হওয়া মেক্সিকো বিশ্বকাপ ঘিরে ইসলাম ও আরব সভ্যতার সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম ইয়ুথ। সংস্থাটি অনুপ্রেরণাদায়ক সভ্যতা শীর্ষক এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে, যার মূল লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে আগত দর্শনার্থীদের কাছে ইসলামের মানবিক মূল্যবোধ, আরব সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং মুসলিম সভ্যতার অবদানকে পরিচিত করে তোলা।

প্রদর্শনীটি বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এতে রয়েছে ১১টি বিশেষায়িত প্যাভিলিয়ন, যেখানে মডেল, বই, প্রকাশনা, তথ্যচিত্র ও স্মারক উপহারের মাধ্যমে ইসলামী ও আরব সভ্যতার ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়েছে।

দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ইন্টারেক্টিভ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। তারা আরববিশ্বের ঐতিহ্যবাহী পোশাকথোব, শেমাগ ও বিশত পরিধান করে ছবি তুলতে পারবেন। পাশাপাশি মেহেদির নকশা, হিজাব পরিধানের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আরব ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, দুই পবিত্র মসজিদকে নিবেদিত বিশেষ প্যাভিলিয়ন। এখানে দর্শনার্থীরা মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর মডেল, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং আধুনিক সম্প্রসারণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবছর লাখো হাজি ও ওমরাহ পালনকারীর জন্য প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র।

আরব আতিথেয়তার অনন্য ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় তাঁবু। সেখানে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে আরবি কফি, খেজুর ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী দিয়ে। ফলে দর্শনার্থীরা শুধু তথ্যই পাচ্ছেন না, বরং আরব সংস্কৃতির আন্তরিকতা ও অতিথিপরায়ণতার স্বাদও গ্রহণ করছেন।

প্রদর্শনীর পরিধি আরো বিস্তৃত করতে মেট্রো টানেলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ তথ্যকেন্দ্র। সেখানে হাজার হাজার বিনামূল্যে মেট্রো মানচিত্র বিতরণের পাশাপাশি ইসলাম ও আরব সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্যসমৃদ্ধ প্রকাশনাও সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সাতটি সাংস্কৃতিক তথ্যকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি দর্শনার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ইসলামী সভ্যতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন।

 

ভিয়েতনামে হালাল পণ্য আইনের যাত্রা শুরু

আবরার আবদুল্লাহ
ভিয়েতনামে হালাল পণ্য আইনের যাত্রা শুরু

বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতিতে অংশীদারি বাড়ানো, মুসলিম দেশগুলোতে রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনগত হালাল কাঠামো চালু করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির সরকার সম্প্রতি ডিক্রি ১২৭/২০২৬ (Decree No. 127/2026/ND-CP) জারি করেছে, যা হালাল পণ্য ও সেবার মাননিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন এবং বাজার উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রদান করবে।

গত ৬ এপ্রিল জারি হওয়া এ ডিক্রি গত ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামে হালাল পণ্য, সেবা, লেবেলিং, ট্রেসেবিলিটি (পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ), সার্টিফিকেশন এবং মাননিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রীয় আইনি কাঠামোর আওতায় এলো।

নতুন বিধান অনুযায়ী কোনো পণ্যকে হালাল হিসেবে বাজারজাত করতে হলে তার কাঁচামাল, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বিপণনের প্রতিটি ধাপ হালাল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার করা হলে তা অবশ্যই শরিয়াহসম্মত উৎস থেকে আসতে হবে এবং উৎপাদনের সময় হারাম উপাদানের সঙ্গে মিশ্রণ বা দূষণ (cross-contamination) প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ডিক্রিতে হালাল লেবেলিংয়ের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মোড়কে হালাল বা হালাল প্রোডাক্ট উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে পণ্যের উৎস ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহজে যাচাই করা যায়।

ভিয়েতনামের মান, পরিমাপ ও গুণগত মান কমিশনের (STAMEQ) কর্মকর্তারা বলছেন, হালালকে শুধু ধর্মীয় বিষয় হিসেবে নয়, বরং গুণগত মান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে দেখা উচিত। তাদের মতে, হালাল সনদ ভবিষ্যতে ভিয়েতনামের কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য নতুন বাজারের দুয়ার খুলে দিতে পারে।

ভিয়েতনাম এরই মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইরানের সঙ্গে হালাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইসলামী দেশগুলোর মান ও পরিমাপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান SMIIC-এর মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের নীতিমালা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ভিয়েতনামে এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের হালাল সনদ অর্জন করেছে। নতুন আইন এসব কার্যক্রমকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে ভিয়েতনাম এখন হালাল অর্থনীতিকে জাতীয় রপ্তানি কৌশলের অংশে পরিণত করতে চাইছে। একই সঙ্গে মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাদ্য, মুসলিমবান্ধব হোটেল ও পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যটন খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

নতুন আইনকে অনেক পর্যবেক্ষক ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশটি বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

সূত্র : সালাম গেটওয়ে

গুনাহে অনুতপ্ত না হয়ে বিদ্রোহী হওয়া ধ্বংসাত্মক

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
গুনাহে অনুতপ্ত না হয়ে বিদ্রোহী হওয়া ধ্বংসাত্মক

আল্লাহর মনোনীত বিশেষ বান্দা নবী-রাসুলরা ছাড়া মানুষ মাত্রই গুনাহগার। তারা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গুনাহ করে ফেলে। কিন্তু একজন ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য হলো, সে ভুল বুঝতে পারলে অনুতপ্ত হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ পাপ করার পর অনুশোচনা তো করেই না, বরং যারা তাকে সত্যের দিকে আহবান করে তাদেরই দোষারোপ করে, অপমান করে, এমনকি হুমকি দেয়। কোরআনের ভাষ্য মতে, এটি অহংকার, হৃদয়ের কঠোরতা এবং সত্য প্রত্যাখ্যানের মতো গুরুতর আত্মিক রোগের লক্ষণ। কারণ অধিক পরিমাণ আত্মাভিমান বা আত্মমুগ্ধতার কারণে মানুষ হেদায়েত থেকে দূরে সরে যায়। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় করো, তখন অহংকার তাকে গুনাহর দিকে আকর্ষণ করে, জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট আর তা কতই না জঘন্য আবাসস্থল!

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৬)

এই আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাকে তার ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হলে সে তা মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আরো বেশি গোঁড়ামি ও পাপাচারে লিপ্ত হয়। অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে সে নিজের অবস্থানকে জোরদার করার চেষ্টা করে, যা বান্দার জন্য ধ্বংসাত্মক। কেননা শয়তান এ রকম অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহংকার করল, কাজেই সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৪)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো অন্যদের দোষারোপ করে, তখন সে মূলত শয়তানি চরিত্রের অনুসরণ করছে। কারণ অহংকার মানুষকে আত্মসমালোচনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাকে কখনোই হেদায়েতের আলো দেখতে দেয় না। বরং তার অহংকারের অন্ধকার তাকে আরো বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত করে। সে সত্যের পক্ষে ডাকা মানুষগুলোকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। যেমনটা করেছিল  ফেরাউন। মুসা (আ.) তাকে সত্যের দাওয়াত দিলে সে নিজের ভুল তো স্বীকার করেইনি; বরং মুসা (আ.)-কেই দোষারোপ করেছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। পরবর্তীতে যখন মুসা (আ.) সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে, তখনো সে সবকিছু বুঝেও ফিরে আসেনি; বরং উল্টো হুমকি দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ফেরাউন বলল, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান যে তোমাদের জাদু শিখিয়েছে। কাজেই আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত আর পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর খেজুরগাছের শাখায় তোমাদের অবশ্য অবশ্যই শূলে চড়াব আর তখন তোমরা অবশ্য অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার আজাব বেশি শক্ত আর বেশি স্থায়ী।

(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ৭১)

এমনিভাবে শুআইব (আ.)-কেও তার জনপদের লোকেরা সত্য গ্রহণ না করে উল্টো জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৮)। নুহ (আ.)-কে  তার জাতি প্রস্তরাঘাতে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। (সুরা : শুআরা, আয়াত : ১১৬)

এ থেকে বোঝা যায়, সত্যের মুখোমুখি হয়ে হুমকি দেওয়া অত্যাচারী ও পথভ্রষ্টদের পুরনো স্বভাব। বর্তমান যুগেও কেউ এ রকম করলে বুঝে নিতে হবে, সেও তাদের অনুসরণ করছে। পাপ হয়ে যাওয়ার পর তাওবা না করে উল্টো তার ওপর অহংকার করা বা মিথ্যা ও ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে তা বৈধ করার অপচেষ্টা করা জঘন্য অপরাধ। এই প্রবণতার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। সুতরাং আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। কারণ তারা মিথ্যা বলত।

(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০)

যখন মানুষ বারবার পাপ করে এবং অনুতপ্ত না হয়ে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তখন তার অন্তর ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায়। একসময় সে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখতেও অক্ষম হয়ে পড়ে। পাপের পর অনুশোচনা না করে উল্টো দোষারোপ করে, উপদেশদাতাকে অপমান করে কিংবা হুমকি দেয়। এটা কোনো সাধারণ দুর্বলতা নয়; এটি অহংকার, আত্মপ্রবঞ্চনা এবং হৃদয়ের কঠিনতার ভয়াবহ লক্ষণ। একজন মুমিনের করণীয় হলো নিজের ভুল স্বীকার করা, তওবা করা এবং সত্যকে গ্রহণ করার বিনয় অর্জন করা। কারণ আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন, কিন্তু অহংকারী ও জালিমদের ভালোবাসেন না।