• ই-পেপার

ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ল জার্মানি

বিশ্বকাপের ট্রফি উঠবে কার হাতে? ভবিষ্যৎবাণী দিল চার এআই চ্যাটবট

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের ট্রফি উঠবে কার হাতে? ভবিষ্যৎবাণী দিল চার এআই চ্যাটবট

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর যাত্রা সবে শুরু হয়েছে। এখনো নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেনি বেশ কয়েকটি শিরোপাপ্রত্যাশী দল। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতবে কে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চারটি জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবটের দ্বারস্থ হয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। মজার বিষয় হলো, চারটি চ্যাটবটই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে একই দলের নাম বলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, গুগল জেমিনি এবং মাইক্রোসফট কোপাইলটকে একই প্রশ্ন করা হয়- ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জেতার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কোন দলের?’

চারটি এআই মডেলই তাদের বিশ্লেষণে স্পেনকে শিরোপার সবচেয়ে সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। সম্ভাবনার বিচারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স।

চ্যাটজিপিটির ভাষ্য, বর্তমান পরিসংখ্যান ও সামগ্রিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী স্পেনই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দল।

গুগল জেমিনিও একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছে। তাদের মতে, স্পেন ও ফ্রান্স প্রায় সমান অবস্থানে থাকলেও গাণিতিক সম্ভাবনায় স্পেন সামান্য এগিয়ে।

অন্যদিকে ক্লদ বলেছে, বর্তমান বুকমেকারদের পূর্বাভাস এবং স্কোয়াডের শক্তি বিবেচনায় স্পেনই প্রধান ফেবারিট। দলটির তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের এগিয়ে রেখেছে।

বিশ্বকাপের বর্তমান সংস্করণটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড়। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্স, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং জার্মানির মতো দলগুলোকে সম্ভাব্য শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে পূর্বাভাস সব সময় বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না। অতীতেও অনেকবার ফেবারিটদের বিদায় নিতে হয়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে। তাই এআই মডেলগুলোর বিশ্লেষণে স্পেন এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল পর্যন্ত। 

সূত্র: এনডিটিভি

২০০ ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়বেন ফুটবলের জাদুকর মেসি

অনলাইন ডেস্ক
২০০ ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়বেন ফুটবলের জাদুকর মেসি
কালের কণ্ঠ গ্রাফিক্স

ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবলের লড়াইয়ে নামলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়বেন বিশ্ব ফুটবলের এ জাদুকর। 

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো মেসির এ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, হাঙ্গেরির বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে। সেই দিনটি ছিল মেসির জন্য এক তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম, কারণ বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ২৫ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই দুঃসহ শুরুর পর তিনি বিশ্ব ফুটবলের অবিসংবাদিত নায়ক।

এখন পর্যন্ত খেলা ১৯৯টি ম্যাচে মেসি উপহার দিয়েছেন ১১৭টি গোল ও ৬৪টি অ্যাসিস্ট। ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিটের এ দীর্ঘ পথচলায় তিনি জিতেছেন ২০২২ সালের বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা শিরোপা এবং ফিনালিসিমা জয়ের মতো গৌরব। ক্যারিয়ারের এ বাঁক বদল মোটেও সহজ ছিল না, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুইবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের বেদনা থেকে শুরু করে ২০২২ সালে বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভেসে অমরত্বের চূড়ায় স্থান করে নেওয়া; সবই তার এ ২০০ ম্যাচের বর্ণিল ইতিহাসের অংশ। 

মেসির এই ম্যাচগুলোর বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চ্যালেঞ্জ, যেখানে তিনি ৭২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩৬টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে ২৬টি এবং কোপা আমেরিকায় ৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২২৮ ম্যাচ নিয়ে সবার উপরে অবস্থান করছেন। তবে মেসির এই ২০০তম ম্যাচের মাইলফলক ছাপিয়ে এখন সবার নজর আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে। 

এ টুর্নামেন্টের পর মেসি, রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচ; কারা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন, তা নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও মেসি নিজে এ ব্যাপারে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে বর্তমান সময়ের এই মহাতারকা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের আরেক নতুন অধ্যায় লিখতে প্রস্তুত, যা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রক্ষণভাগে নিজের ঘাটতি পূরণে মরিয়া ফরাসি অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
রক্ষণভাগে নিজের ঘাটতি পূরণে মরিয়া ফরাসি অধিনায়ক
ছবি : রয়টার্স

ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের চোখ এখন একটাই লক্ষ্যে স্থির— সেটা হলো ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ফের চ্যাম্পিয়নের আসনে বসানো। গত কয়েক বছরে গোল করার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য পেলেও তার খেলার একটি দিক নিয়ে বারবার সমালোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে রক্ষণভাগে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। এবার সেই সমালোচনা থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিয়ে বরং তা মেনে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে বলেছেন, দলের প্রয়োজনে তাকে রক্ষণে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। বিশ্বকাপের আগে নিজের খেলায় এই পরিবর্তন আনার ব্যাপারেও তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘রক্ষণে আমাকে আরও এক ধাপ এগোতে হবে। আমি সব সময় নিজের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখি।

এই জায়গায় উন্নতি করা প্রয়োজন। দলের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সেটা করব।’ 

এই প্রসঙ্গ ওঠে তার ভাই এথান এমবাপ্পেকে নিয়ে আলোচনায়। এমবাপ্পে নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন, রক্ষণে পরিশ্রম করার ক্ষেত্রে তার ভাই অনেক সময় তার চেয়েও বেশি নিষ্ঠাবান। তিনি এই মন্তব্যকে সমালোচনা হিসেবে নয়, বরং নিজেকে আরও উন্নত করার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৮৬ গোল ও ১২টি গোল করানোর সুযোগ তৈরি করলেও, রক্ষণে তার অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এমবাপ্পে জানিয়েছেন, তিনি এই দিকটি বদলাতে প্রস্তুত। তার দাবি, ‘এই বিশ্বকাপ থেকেই পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে। আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই। তাই আমি সব কিছু ঠিকভাবে করতে বদ্ধপরিকর।’ 

কয়েক দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে পারলে, আমি যদি একটিও গোল না করি, তাতেও আমার কোনো আফসোস থাকবে না। দেশের সাফল্যই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ফিফা বিশ্বকাপ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্টেডিয়ামে ইরানের পুরোনো পতাকা

অনলাইন ডেস্ক
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্টেডিয়ামে ইরানের পুরোনো পতাকা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সোফি স্টেডিয়ামে ইরানের প্রাক-বিপ্লবী পতাকা নিয়ে ঢুকেছেন অনেক সমর্থক। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তারা।

ইরানের বিপক্ষে এ প্রতিবাদের কেন্দ্রে ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের ‘সান অ্যান্ড লায়ন’ পতাকা। ইরানের বর্তমান সরকারের বিরোধীরা এই পতাকাকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখেন।

ফিফা রাজনৈতিক প্রতীক প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেই পতাকা নিয়ে অনেকে ঢুকে পড়েন স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতও ফিফার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ভয়েস অব লিবার্টি ফিফার নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে মামলা করেছিল। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক কার্টিস এ. কিন সোমবার সে আবেদন খারিজ করে দেন।

আদালতের রায় কিংবা ফিফার নিষধোজ্ঞা কিছুই ইরানি প্রবাসী প্রতিবাদকারীদের থামাতে পারেনি। স্টেডিয়ামের ভেতরে ম্যাচ শুরুর আগে কয়েকটি প্রাক-বিপ্লবী পতাকা দেখা যায়। অনেকের গায়েও ছিল ‘সান অ্যান্ড লায়ন’ পতাকার প্রতীকযুক্ত টি-শার্ট।

স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্রেতারা এ পতাকা, টুপি ও টি-শার্টসহ বিভিন্ন প্রাক-বিপ্লবী সামগ্রী বিক্রি করছিলেন। একই সঙ্গে প্রতিবাদকারীরা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

কয়েকজন সমর্থক নিরাপত্তা তল্লাশির সময় পতাকা লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে প্রকাশ্যে পতাকা নিয়ে ঢুকেছেন। তাদের কাছ থেকে সব ক্ষেত্রে পতাকা জব্দ করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে সোফি স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীরা প্লাস্টিকের পতাকার কাঠি নিয়ে নিলেও পতাকা ঢুকতে দিয়েছেন।

তবে স্টেডিয়ামে কেবল প্রতিবাদকারীরা ছিলেন না। ইরানের সরকারি জার্সি পরা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বর্তমান পতাকা হাতে নিয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সমর্থককে দেখা গেছে। জাতীয় সংগীতের সময়ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ দুয়ো দেন, আবার অনেকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংগীত গেয়েছেন। সংগীত শেষ হওয়ার পর জোরালো করতালিও শোনা যায়। ম্যাচের শুরুর দিকেও ইরান আক্রমণে উঠলে বা বল পুনরুদ্ধার করলে গ্যালারির একাংশ থেকে উল্লাস শোনা যায়।

এর আগে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালি সতর্ক করে বলেছিলেন, স্টেডিয়ামে অননুমোদিত পতাকা ওড়ানো হলে তারা ম্যাচ বন্ধ করে দিতে পারেন। তার ভাষ্য, কোচ আমির গালেনোয়েই ‘নিশ্চিতভাবেই ম্যাচ বন্ধ করার দায়িত্বে থাকবেন’। বিষয়টি ফিফাকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরান ফিফার কাছে বারবার অনুরোধ করেছে, তাদের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে এবং প্রাক-বিপ্লবী পতাকা সরিয়ে নিতে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের এই ম্যাচ ঘিরে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটি বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না, তা নিয়েও কয়েক মাস ধরে অনিশ্চয়তা ছিল।

ম্যাচের আগের দিন তেহরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর সাড়ে তিন মাস আগে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি।

সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচটি শুধু মাঠের ফুটবলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সোফি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও ফুটবলের সঙ্গে মিশে গেছে রাজনীতি, প্রতিবাদ ও প্রবাসী ইরানিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।