• ই-পেপার

৩০ বছর আগে দুই আইরিশ নারীর নিখোঁজ রহস্যে নতুন তদন্ত

পাকিস্তানে গুলিতে কিশোরীর মৃত্যু, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে গুলিতে কিশোরীর মৃত্যু, স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানে গুলিতে নিহত ৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশু হানিয়া আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।

গত ১০ জুন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল শহরে হানিয়া ও তার পরিবারকে বহনকারী একটি ভাড়া করা গাড়ি সশস্ত্র ডাকাতদের কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

পাঞ্জাব পুলিশের দাবি, সন্দেহভাজনরা প্রথমে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুলবশত গুলি ছোড়েন, যা হানিয়ার গায়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ও বড় ভাইও আহত হন।

তবে হানিয়ার বাবা এসবিএস উর্দুকে জানিয়েছেন, পুলিশই প্রথম গুলি চালিয়েছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ‘ঘটনাটি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সবাই প্রকৃত ঘটনা জানতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আশা করে, এ বিষয়ে যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে।’

পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসরণ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করছে।

হানিয়ার মৃত্যু অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান, উভয় দেশেই শোকের সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে তার স্কুলের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ খান বলেন, ‘হানিয়া ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত ও মিশুক। তার অনেক বন্ধু ছিল এবং সবাই তাকে ভালোবাসত।’

তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ করে হানিয়ার সহপাঠীরা তার মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। এদিকে অস্ট্রেলীয় সরকার পরিবারটিকে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে।
 

অসদাচরণের অভিযোগে অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি বাতিলের আইন পাস সুইডেনে

অনলাইন ডেস্ক
অসদাচরণের অভিযোগে অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি বাতিলের আইন পাস সুইডেনে
ছবি: রয়টার্স

সুইডেনের পার্লামেন্ট নতুন একটি অভিবাসন আইন পাস করেছে। সোমবার অনুমোদিত এই আইনের আওতায় অসদাচরণের অভিযোগে অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারবে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

যারা দেশের আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলবে না, তাদের সুইডেনে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না- বলছে সরকার। নতুন আইনের মাধ্যমে অভিবাসন নীতি আরো কঠোর করার পথে বড় পদক্ষেপ নিল দেশটি। নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো অভিবাসীর বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা, কর না দেওয়া, নিবন্ধন ছাড়া কাজ করা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বা উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বসবাসের অনুমতি বাতিল করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আইন শুধু নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নয়, আগেই বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ অতীতের আচরণও পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে সুইডেনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন ডানপন্থি সরকার এবং তাদের সমর্থক জাতীয়তাবাদী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। নতুন আইনকে সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আইনটি ঘিরে দেশটিতে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা এর সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, আইনে কোন আচরণকে 'খারাপ আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই আইন ইচ্ছামতো ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিভিল রাইটস ডিফেন্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেছে, এই আইন অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। সংগঠনটির মতে, একজন ব্যক্তি আগে থেকে বুঝতে পারবেন না যে তার কোন কাজ, বক্তব্য বা আচরণ ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ বা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন। সিভিল রাইটস ডিফেন্ডার্স আরো বলেছে, এই আইন আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষার নীতিকে দুর্বল করতে পারে।

২০২২ সালের নির্বাচনে অভিবাসন কমানো এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে বর্তমান সরকার। এরপর থেকে অভিবাসন নীতিতে একের পর এক কঠোর পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকারের অবস্থান হলো, যারা সুইডিশ সমাজের নিয়মকানুন মানবে না বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে, তাদের দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। 

নতুন আইনের আওতায় কারও বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করবে সুইডেনের মাইগ্রেশন এজেন্সি। এই সংস্থাটিই প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাইগ্রেশন আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

চলতি বছরের মার্চে বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার সময় অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফোরসেল বলেছিলেন, 'যারা সঠিক কাজ করার চেষ্টা করে না, তাদের সুইডেনে থাকার আশা করা উচিত নয়।' 

ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবিকে দুটি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। সোমবার অসলো জেলা আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

তবে চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিন বিচারকের বেঞ্চ এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় ২৯ বছর বয়সী হইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ তার জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল। অন্যদিকে হইবির আইনজীবীরা সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করেন। তারা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। 

যদিও মারিউস হইবি নিজে রাজপরিবারের সদস্য নন, তবুও এই মামলার প্রভাব পুরো নরওয়েজিয়ান রাজপরিবারের ওপর পড়েছে। হইবির বয়স যখন চার বছর, তখন তার মা মেটে-মারিত নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকনকে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তিনি রাজপরিবারের পরিবেশে বড় হন। রায় নিয়ে রাজপ্রাসাদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।

এদিকে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত বর্তমানে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে হইবির আইনজীবীরা একাধিকবার তাকে কারাগার থেকে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। রায় ঘোষণার পরও তার আইনজীবী পেতার সেকুলিচ আবার মুক্তির আবেদন জানান। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, অতীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার নজির রয়েছে। ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার আদালতের বিচারক জন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ প্রথমে রায়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। পরে তিনি ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করেন। বিচারের সময় হইবি চারটি ধর্ষণের অভিযোগই অস্বীকার করেছিলেন। তবে আদালত দুটি ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর একটি ঘটনা ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাউগুম এস্টেটে ঘটে। অন্যটি ২০২৪ সালে অসলোর এক নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে। এ ছাড়া তিনি তার সাবেক প্রেমিকা ও পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নোরা হাউকল্যান্ডের ওপর নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আরেক নারী সঙ্গীকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার ঘটনাও প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে অসলোর অভিজাত ফ্রগনার এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী নারীকে কেন্দ্র করেও নির্যাতন ও বেপরোয়া আচরণের কয়েকটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আরো দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হইবি খালাস পেয়েছেন। এর একটি অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে অসলোর একটি হোটেলে পরিচয় হওয়া এক নারীকে ঘিরে। অন্যটি ছিল ২০২৩ সালে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জে ছুটি কাটানোর সময় পরিচয় হওয়া এক নারীকে নিয়ে।

রায়ের পর হইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ বলেন, এ ধরনের মামলায় আপিল করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তার সহকর্মী আইনজীবী এলেন হোলাগার আন্দেনেস বলেন, যেসব অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে রায়ের অন্য কিছু অংশ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। এরপর দুই আইনজীবী অসলোর বাইরে ইলা কারাগার ও আটক কেন্দ্রে গিয়ে হইবির সঙ্গে দেখা করেন।

এই মামলায় মোট ছয়জন নারী ভুক্তভোগী হিসেবে ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন। হইবিকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করার সময় ওই নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের মার্চে অসলোতে একটি পার্টির পর ওই নারী ঘুমিয়ে ছিলেন অথবা এমন অবস্থায় ছিলেন যে তিনি প্রতিরোধ করতে পারেননি। এর আগে তাদের মধ্যে সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার সময় তার সম্মতি ছিল না।

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল হইবির নিজের ধারণ করা ভিডিও। পুলিশ তার মোবাইল ফোনে এসব ভিডিও খুঁজে পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। ফেব্রুয়ারিতে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এক নারী বলেন, তিনি পুরো ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেন, 'আমি কখনোই এটা ঘটতে দিতাম না।' আদালতও একমত হয় যে ওই নারীর পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না। বিচারকরা আরো বলেন, ২০১৮ সালের ঘটনার সময় ওই নারী ঘুমিয়ে ছিলেন। তার পক্ষে হইবির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না। গত বছর তিনি জানতে পারেন যে হইবি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেছিলেন। মামলার ষষ্ঠ নারীকে ঘিরেও কয়েকটি অপরাধে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ছিল নির্যাতন ও বেপরোয়া আচরণ। ওই নারী অসলোর ফ্রগনার এলাকায় থাকতেন বলে তাকে ‘ফ্রগনার নারী’ নামে পরিচিত করা হয়। আদালত রায়ে চারজন নারীকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার ক্রোনার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে নোরা হাউকল্যান্ডও রয়েছেন। বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলায় তার নাম প্রকাশ করা যাবে।


এই রায় নিয়ে নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের মামলায় প্রমাণের মান অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না বলে মনে করেন। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী আনিয়া এমিলি ক্রুস যৌন সহিংসতা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি এই বিচারের কিছু অংশে উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, নরওয়ের সমাজের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক হতাশা রয়েছে। কারণ তারা মনে করেন ধর্ষণের মামলায় আদালত অনেক সময় ন্যায়বিচার দিতে পারছে না। তিনি বলেন, প্রমাণ অনেক শক্তিশালী না হলে বিচার পাওয়া যায় না। তিনি বিবিসিকে বলেন, নারীদের করা বেশির ভাগ ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশ নথিভুক্ত করে রেখে দেয়। 

 সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি আদালতে বলেন, যেসব ধর্ষণের মামলা আদালত পর্যন্ত পৌঁছায়, তার প্রতি তিনটির একটি খালাসে শেষ হয়। তার মতে, এমন মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারা নারীরা একা নন। একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরো অনেক নারী যেতে বাধ্য হন।

এদিকে রাজপরিবারবিষয়ক বিশ্লেষক ক্যারোলিন ভাগলে বলেন, এই মামলার কারণে রাজপরিবারের ভাবমূর্তি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের স্বাস্থ্য। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খ্যাতি ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেগি সিমচিচ ব্রনের মতে, রাজপরিবার এখন একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, হইবির ঘটনা যেকোনো পরিবারের জন্যই একটি ট্র্যাজেডি। রাজপরিবার এখন একদিকে আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাচ্ছে, অন্যদিকে এই ঘটনার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
 

গুলি ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি তারকা

অনলাইন ডেস্ক
গুলি ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি তারকা
সংগৃহীত ছবি

এক ট্যাক্সি চালককে অপহরণ এবং তার ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক ও র‍্যাপার মোলেমো মারোহানিয়ে, যিনি ‘জুব জুব’ নামে পরিচিত। নিজের প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সন্দেহে মোলেমো ওই চালকের ওপর গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইডেনভেলে শহরে এই ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই ট্যাক্সি চালক একজন যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পরপরই মারোহানিয়ে তার মুখোমুখি হন এবং তার প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে মারোহানিয়ে ওই চালককে জোরপূর্বক নিজের গাড়িতে তুলে নেন এবং তার দিকে গুলি চালান।

বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত চালক অক্ষত অবস্থায় গাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই সংগীতশিল্পীকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই বিষয়ে মারোহানিয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বুধবার (১৭ জুন) প্রাথমিক শুনানির জন্য তাকে জার্মিস্টন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনের সাথে মারোহানিয়ের সংঘাতের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক গুরুতর অপরাধে তার নাম জড়িয়েছে। ২০১২ সালে বেপরোয়া গাড়ি প্রতিযোগিতা (ড্র্যাগ-রেসিং) করার সময় চারজন স্কুলছাত্রকে চাপা দিয়ে হত্যা এবং আরো দুজনকে আহত করার দায়ে তিনি প্রথমে নরহত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালত রায় পরিবর্তন করে একে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করে। ২০২৩ সালে এক প্রাক্তন প্রেমিকার দায়ের করা মামলায় ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও হামলার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে ২০২৪ সালে জাতীয় প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ) পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেয়।

উল্লেখ্য, মোলেমো মারোহানিয়ে বর্তমানে ‘উয়াজোলা ৯/৯’ নামক দক্ষিণ আফ্রিকার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রিয়েলিটি টিভি শো উপস্থাপনা করছেন। অনুষ্ঠানটির মূল বিষয়বস্তুই হলো সমাজে প্রতারক জীবনসঙ্গীদের মুখোশ উন্মোচন করা।