• ই-পেপার

বগুড়ায় চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা শেষে দীপু মনি ফের মুন্সীগঞ্জ কারাগারে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা শেষে দীপু মনি ফের মুন্সীগঞ্জ কারাগারে
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ফের  মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে নেওয়া হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনিকে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সোমবার দুপুরের দিকে তাঁকে আবার মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগে সোমবার ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুহাম্মদ এনায়েত উল্ল্যাহ জানান, প্রায় ৫ মাস আগে দীপু মনিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আনা হয়। তিনি আগে থেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার রাত থেকে অসুস্থ বোধ করায় সোমবার ভোরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে ভর্তি করতে হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দুপুরের দিকে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। দুপুর ১টার দিকে তিনি কারাগারে পৌঁছান।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, দীপু মনি কিডনিসংক্রান্ত সমস্যাতেও ভুগছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ৬টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হন দীপু মনি। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

ভাঙ্গায় সংঘর্ষ : পুলিশের মামলায় ৭৫০ জন আসামি, গ্রেপ্তার ১০

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় সংঘর্ষ : পুলিশের মামলায় ৭৫০ জন আসামি, গ্রেপ্তার ১০
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ২৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। সংঘর্ষ চলাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী মৌজার ১১ গ্রামের বাসিন্দা এবং মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া মৌজার পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় আধিপত্য, বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, তিনজন উপ-পরিদর্শক, কয়েকজন পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্বরত সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের কারণে প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দাঙ্গার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ২৫০ জনকে শনাক্ত করে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মামলায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মেহেরপুরে পানিতে ডুবে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে পানিতে ডুবে মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে পুকুরের পানিতে ডুবে রামিম নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে গাংনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভিটাপাড়া এলাকায় মহাসিন হাজির পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রামিম (৮) উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী রুহুল আমিনের ছেলে। সে স্থানীয় আলিমুল কোরআন মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। তারা বর্তমানে গাংনী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সবজি আড়ত পাড়ায় বসবাস করছে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, বিকেলে রামিম ও তার বন্ধু সিয়াম মহসিন হাজির পুকুর পাড়ে একটি বাঁশের তৈরি চাটাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে খেলার সময় রামিম পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। এ সময় তার বন্ধু সিয়াম দ্রুত রামিমের পরিবারকে খবর দেয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা পুকুর থেকে তার অচেতন দেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষাশেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসমেরী খাইরুন নাহার জানান, শিশুটি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, সেই গুচ্ছগ্রামের ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, সেই গুচ্ছগ্রামের ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চরের গুচ্ছগ্রামে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ঘর।

‘গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০ ঘরে সন্ধ্যা পেরোলেই জমে মাদকের আসর’ শিরোনামে কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চরের গুচ্ছগ্রাম থেকে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রবিবার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মটুকচর এলাকা থেকে নিশাত খালাসী (৩৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৩১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাতে আকোট এলাকা থেকে জাকির হোসেন (৩৯) নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে ২১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার নিশাত খালাসী ও জাকির হোসেন আকোটের চর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

সদরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ২ জনই দীর্ঘদিন ধরে আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘরকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্ড অফিসার মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আকোটের চর গুচ্ছগ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।’