অফিস সহায়ক পদটি সাধারণ মানুষের কাছে পিয়ন হিসেবেই বেশি পরিচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস। অথচ এই পদের বিপরীতে আবেদন করে চাকরি পেলেন দেশের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত তরুণরা! ১৮টি শূন্যপদের বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ১৭ জনই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পাবনা জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক নিয়োগের এই চিত্র সামনে আসার পর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অফিস সহায়ক (সাবেক এমএলএসএস) পদে চাকরির জন্য রেকর্ডসংখ্যক প্রায় আট হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরদিন মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮ জনকে মনোনীত করা হয়। যাদের মধ্যে ১৭ জনই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএসহ মাস্টার্স ও অনার্স ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে যোগদান করেননি দুজন। তাদের একজন ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রিধারী ও অন্যজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার।
গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম নবনিযুক্তদের হাতে নিয়োগপত্র ও ফুল তুলে দেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রকার রাজনৈতিক সুপারিশ বা অনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমার কর্মজীবনে এটি একটি অন্যতম স্মরণীয় ও সততার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, ‘স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়াটা ইতিবাচক হলেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের এই পদে আসাটা আমাদের কর্মসংস্থান বাজারের বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করে। যোগ্যতা অনুযায়ী মানসম্মত কাজের অভাব ও শুধু সনদসর্বস্ব শিক্ষার কারণেই আজ মেধাবী যুবসমাজ এই স্তরের চাকরিতে বাধ্য হচ্ছে।’





