• ই-পেপার

ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা শেষে দীপু মনি ফের মুন্সীগঞ্জ কারাগারে

কুয়াকাটার কাউয়ার চর সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত তিমি!

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
কুয়াকাটার কাউয়ার চর সৈকতে ভেসে এলো ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের মৃত তিমি!
ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার কাউয়ার চর সৈকতে ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ফুট প্রস্থের একটি মৃত তিমি (বেলিন প্রজাতির) ভেসে এসেছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সৈকতের কাউচার পয়েন্টে তিমিটি ভেসে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিমি উদ্ধারের চেষ্টা করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা। 

উপরার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, আমাদের ধারণা অর্ধগলিত তিমিটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে মারা গেছে। 

উপরার আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘এর আগে গত ৩ জুন দুপুরে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের আরো একটি মৃত তিমি সৈকতে ভেসে এসেছিল। সেটিও উদ্ধার করে মাটি চাপা দিয়েছি।’

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত তিমিটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। তিমিটির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পরবর্তীতে এটির নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

অফিস সহায়কের ১৮ পদের ১৭ জনই ইঞ্জিনিয়ার-মাস্টার্স

পাবনা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি
অফিস সহায়কের ১৮ পদের ১৭ জনই ইঞ্জিনিয়ার-মাস্টার্স
প্রতীকী ছবি

অফিস সহায়ক পদটি সাধারণ মানুষের কাছে পিয়ন হিসেবেই বেশি পরিচিত। শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস। অথচ এই পদের বিপরীতে আবেদন করে চাকরি পেলেন দেশের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত তরুণরা! ১৮টি শূন্যপদের বিপরীতে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ১৭ জনই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএ কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পাবনা জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক নিয়োগের এই চিত্র সামনে আসার পর আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অফিস সহায়ক (সাবেক এমএলএসএস) পদে চাকরির জন্য রেকর্ডসংখ্যক প্রায় আট হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরদিন মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮ জনকে মনোনীত করা হয়। যাদের মধ্যে ১৭ জনই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, এমবিএসহ মাস্টার্স ও অনার্স ডিগ্রিধারী। এর মধ্যে যোগদান করেননি দুজন। তাদের একজন ইডেন কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রিধারী ও অন্যজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম নবনিযুক্তদের হাতে নিয়োগপত্র ও ফুল তুলে দেন।

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রকার রাজনৈতিক সুপারিশ বা অনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমার কর্মজীবনে এটি একটি অন্যতম স্মরণীয় ও সততার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, ‘স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়াটা ইতিবাচক হলেও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের এই পদে আসাটা আমাদের কর্মসংস্থান বাজারের বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ করে। যোগ্যতা অনুযায়ী মানসম্মত কাজের অভাব ও শুধু সনদসর্বস্ব শিক্ষার কারণেই আজ মেধাবী যুবসমাজ এই স্তরের চাকরিতে বাধ্য হচ্ছে।’

ময়মনসিংহে লাখ টাকায় ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে লাখ টাকায় ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে লাখ টাকার বিনিময়ে ভোটার হতে এসে মোহাম্মদ মাসুদ (১৯) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গৌরীপুর নির্বাচন অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। 

আটক মাসুদ কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮-ই ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. জোবায়ের ও মায়ের নাম শাকিলা খাতুন। 

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভোটার হওয়ার জন্য জমা দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তার নাম মোহাম্মদ মাসুদ থাকলেও বাবার নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও মায়ের নাম শান্তনা আক্তার এবং ঠিকানা দেওয়া রয়েছে উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রামের। সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সই করা নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, খোদেজা খাতুন দারুস সুন্নাহ নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার একটি শিক্ষাগত সনদপত্র এবং মা ডেন্টাল কেয়ার অ্যান্ড আইমিত্র নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার একটি প্রতিবেদনও জমা দেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, মাসুদ ভোটার হতে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়। তখন তার কথাবার্তায় কিছুটা অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। সে মুখে বাংলা বলতে পারলেও কোনো কিছু লিখতে পারছিল না। এতে সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তার দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই গ্রামে মোহাম্মাদ মাসুদ নামের কেউ নেই। এমনকি যে মাদরাসার প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে, সেই মাদরাসার কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে যে মোহাম্মদ মাসুদ নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী কখনো ছিল না। সব ভুয়া নথিপত্র এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, আমাকে এক লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট করে কুদ্দুছ অথবা কবীর নামের একজন দালাল ভোটার আইডি কার্ড করে দিবে বলে নিয়ে এসেছে। আমি ১০ হাজার টাকা অগ্রীম দিয়েছি। আইডি কার্ড করে দিলে বাকি টাকা দিব। 

ওই যুবক আরো বলেন, আমাকে কয়েকদিন আগে গৌরীপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। আমি একটি হোটেলে ছিলাম। সেখান থেকে সাগর নামের এক ব্যক্তি নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসে। এখন আমাকে রেখে চলে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, আরো যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আটক ওই রোহিঙ্গা যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
 

যশোরে ‘জিন সাপ’ আতঙ্ক, অসুস্থ দাবি প্রায় ৭০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
যশোরে ‘জিন সাপ’ আতঙ্ক, অসুস্থ দাবি প্রায় ৭০ জন
ছবি : কথিত জিন সাপের কামড়ে আক্রান্ত কয়েকজন

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ গ্রামে ‘জিন সাপ’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে এ আতঙ্ক চলছে। স্থানীয়দের দাবি, কথিত অদৃশ্য ‘জিন সাপের’ কামড়ে প্রায় ৭০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু অসুস্থ হয়েছে। তারা স্থানীয় ওঝার চিকিৎসা নিয়েছে। অনেকের হাত-পায়ে সাপের কামড়ের মতো ক্ষতচিহ্নও দেখা যায়।

অদৃশ্য সাপের আতঙ্ক থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী পানি পড়া ছিটিয়েছে। ষষ্ঠীতলায় দুধ-কলা দিয়ে পূজাও দিয়েছে। কিন্তু সোমবার (২৯ জুন) পর্যন্ত আতঙ্ক কমেনি। অসুস্থরা এখন সুস্থ আছে বলে জানা যায়। তবে অনেক অভিভাবক ভয়ে শিশুদের বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। অনেক শিশু বিদ্যালয়েও যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, গত শুক্রবার পাপন ঘোষ (২১) নামে এক যুবকের মৃত্যুর পর থেকেই এ আতঙ্ক শুরু হয়।

সোমবার দুপুরে আমদাবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামজুড়ে ‘জিন সাপ’ নিয়ে আলোচনা চলছে। সবাই এ বিষয় নিয়েই কথা বলছে।

পাপন ঘোষের মা কৃষ্ণা ঘোষ বলেন, ‘সকালে আমার ছেলের পেট ব্যথা করছিল। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। পরে এক ভাগ্নির পরামর্শে ওঝার কাছে যাই। ওঝা হাত চালক দিয়ে বলেন, জিন সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’

পাপনের কাকা প্রকাশ ঘোষ বলেন, ‘রবিবার দুপুরে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরি। তখন দেখি বাঁ হাতে চিনচিনে ব্যথা করছে। পরে ওঝার কাছে গেলে তিনি বলেন, আমাকে জিন সাপ কামড় দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনো সাপ দেখিনি। কখন কামড় দিয়েছে তাও বুঝতে পারিনি। ওঝা ঝাড়ফুঁক করার পর এখন একটু ভালো আছি।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া ঘোষের বাবা দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘মেয়েকে জিন সাপে কামড় দিয়েছে বলে শুনে বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি তার পায়ে সাপের কামড়ের মতো দাগ। পরে ওঝার কাছে গেলে তিনিও একই কথা বলেন।’

রিয়া ঘোষ বলেন, ‘বাড়ির পাশের মন্দিরে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে পায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পরে ওঝা বলেন, জিন সাপ কামড় দিয়েছিল। তবে আমি কোনো সাপ দেখিনি। কখন কামড়েছে তাও বুঝতে পারিনি।’

স্থানীয়দের দাবি, রিয়া ও প্রকাশ ঘোষ ছাড়াও গত শনিবার, রবিবার ও সোমবার অজয়, শেফালি, নিত্যানন্দ, সোমেন, প্রতীক, সিধু, চম্পা, সোহাগী, মুন, সদানন্দ, মনিরসহ প্রায় ৭০ জন একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।

এসব ব্যক্তির চিকিৎসা দেওয়া গ্রামের ওঝা সাধন কুমার ঘোষ বলেন, ‘রবিবারও প্রায় ৪০ জনকে চিকিৎসা দিয়েছি। আমার মতে, তারা জিন সাপের কামড়ে আক্রান্ত।’ কিভাবে বুঝলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “‘হাত চালক’ দিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারি।”

সাপের আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসী পানি পড়া ছিটিয়েছে। ষষ্ঠীতলায় দুধ-কলা দিয়ে পূজাও দিয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা স্বরজিৎ বলেন, “প্রথমে ব্রাহ্মণের কাছ থেকে পানি পড়া এনে ঘরে ঘরে ছিটিয়েছি। মানুষের মাথায়ও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, এরপর আর সাপের আক্রমণ হবে না। কিন্তু আতঙ্ক কমেনি। পরে সবাই মিলে ষষ্ঠীতলায় দুধ-কলা দিয়ে পূজা করেছি।”

দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘গত তিন দিনে প্রায় ৭০ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক শিশু ভয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’