• ই-পেপার

আনোয়ারায় ঘরে পড়ে ছিল মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ, হাসপাতালে ছেলে

‘এসআরও সংশোধন না হলে ২০৩০ সালের সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘এসআরও সংশোধন না হলে ২০৩০ সালের সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সংগঠনটির দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও সংশোধন না করা হলে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএ'র নেতারা এসব তথ্য জানান।

বিএসআরইএ'র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বাজেট-পরবর্তী এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি (সোলার সেচ) ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহকসহ বৃহৎ অংশের ব্যবহারকারী এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী এবং ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। এতে খাতসংশ্লিষ্ট হাজারো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’

বিএসআরইএ জানায়, বর্তমান এসআরও মূলত দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২০ থেকে ২২ শতাংশ অংশকে লক্ষ্য করছে, অথচ অধিকাংশ ব্যবহারকারী এর বাইরে রয়ে গেছেন। তাদের মতে, রেসকো মডেল বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য উপযোগী হলেও আবাসিক, কৃষি ও গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য কার্যকর নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটি আরো অভিযোগ করে, চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক প্রণোদনার প্রতিফলন বাজেটে নেই।

বিএসআরইএর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ওয়েট-বেইজড অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু’ ভিত্তিক মূল্যায়ন চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। ফলে প্রকৃত আমদানি মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও বিইএসএসের জন্য প্রদত্ত শুল্ক সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত রাখার সিদ্ধান্তেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, দেশে এখনো এসব পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে আগেভাগে সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ ব্যাহত হতে পারে।

বিএসআরইএর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা নেই। একই সঙ্গে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাজেটে নতুন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এসআরও বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে না; বরং সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পিক সক্ষমতা অর্জিত হতে পারে।

তবে সকল আমদানিকারক, ইপিসি প্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও কর সুবিধা উন্মুক্ত করা হলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করেই ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করেছে বিএসআরইএ।

সংগঠনটি সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর ও স্মার্ট মিটারসহ সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আয়কর অব্যাহতি এবং আবাসিক ও কৃষি গ্রাহকদের জন্য কর সুবিধা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সোলার ইরিগেশন, সোলার হোম সিস্টেম, রুফটপ সোলার ও বিইএসএসকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএসআরইএর সভাপতি আরো বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রণোদনা কাঠামো অবশ্যই সবার জন্য সমভাবে উন্মুক্ত হতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএ'র সিনিয়র সহসভাপতি জাহিদুল আলম, সহসভাপতি এম এ তাহের, সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল, পরিচালক (অর্থ) নিতাই পদ সাহা, তোফায়েল আহমেদ, গ্রুপ সি ও সুপারস্টার গ্রুপসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রৌমারী সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

রাজিবপুর - রৌমারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
রৌমারী সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে নারী-শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে‌ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বা‌হিনী (বিএস‌এফ)। শনিবার (১৪ জুন) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ভারতের ঝালুর চর বিএসএফ ক্যাম্প থেকে তাদের সীমান্তে নিয়ে আসা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুশইনের জন্য আনা ওই ছয়জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। বিষয়টি সীমান্ত এলাকার বা‌সিন্দা‌দের মা‌ঝে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

এদি‌কে, খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীও সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে নজরদারি জোরদার করেছেন।

বি‌জি‌বি সূত্র জানায়, বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস‌্য সোনা মিয়া ব‌লেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই গয়টাপাড়া সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ঠেকাতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

গয়টাপাড়া বিওপির ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা বিষয়‌টি নিশ্চিত করে তি‌নি ব‌লেন, ‘যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।’


 

যুবদল নেতা মাসুদ হত্যায় অংশ নেন ৬ জন—সিসিটিভি দেখে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
যুবদল নেতা মাসুদ হত্যায় অংশ নেন ৬ জন—সিসিটিভি দেখে পুলিশ
নিহত যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যায় ছয় দুর্বৃত্ত অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে তাকে গুলি করা হয়।

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত আব্দুল খালেক চৌধুরীর ছেলে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় ৬ সন্ত্রাসী। এরমধ্যে দুজন খুব কাছ থেকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে দুজনের হাতে পিস্তল ছিল। এদের মধ্যে একজন টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরিহিত ছিল। তারা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় মাসুদের খুব কাছে গিয়ে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পর পর গুলি ছুঁড়ে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে। মাথায় গুলি লাগায় ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুরে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের আশরাফিয়া ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছিলেন মাসুদ। এ সময় ৬ জনের একটি অস্ত্রধারী দল তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। এতে মাথা, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ১২টি গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে কদলপুরের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আতঙ্কে বাজারের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বেলায়েত হোসেন এবং রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী চৌমুহনী অবরোধ করেন। এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সময় হাফেজ বজলুল রহমান সড়কেও অবরোধ করা হয়। পরে রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট, গোছারা চৌমুহনী, ইছাখালী ও রোয়াজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে এবং যানবাহন আড়াআড়ি করে রেখে বিক্ষোভ করা হয়। এতে সড়কে চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।

বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পাহাড়তলী এলাকার অবরোধ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন। পরে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহতের বড় ভাই নিজামুল হক চৌধুরী তপন বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমার ভাই জেলে গেছে, কিন্তু খুন হয়নি। সেসময় আওয়ামী লীগ আমার ভাইকে হত্যা করেনি। আজ দলের সুসময়ে আমার ভাইকে প্রকাশ্যে বাজারে হত্যা করা হলো। আমরা কার কাছে বিচার চাইব?

স্থানীয়দের ধারণা, বালুর ব্যবসা নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়াও হত্যার কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সাগর নামের এক ব্যক্তি বলেন, আগামী ইউপি নির্বাচনে মাসুদ প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তাই পথের কাঁটা সরাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হককে রাউজানের পাহাড়তলী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তারা পাহাড়ে কিংবা নদীতে যেখানেই থাকুক, ছাড় পাবে না।’

ভাঙ্গায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ, আহত কমপক্ষে ৭

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষ, আহত কমপক্ষে ৭
ছবি: কালের কণ্ঠ

ভাঙ্গায় মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের চুমুরদী গ্রামের কাটাখালি সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের কাটাখালি সেতুর ওপরে বরিশালগামী আল আমিন পরিবহনের সঙ্গে বরিশাল হতে ভাঙ্গাগামী একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পরিবহনের চালকসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় মহাসড়কে আধাঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। 

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহত ছয়জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

ভাঙ্গা দমকল বাহিনীর স্টেশন প্রধান আবু জাফর বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদ হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার হেফাজতে আছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’