• ই-পেপার

রাজবাড়ীতে জামায়াত নেতার হাত-পা বাঁধা দগ্ধ লাশ উদ্ধার

  • ৬ জেলায় ২ খুন, ৪ লাশ

স্পেনকে চমকে দিল কেপ ভার্দে

ক্রীড়া প্রতিবেদক
স্পেনকে চমকে দিল কেপ ভার্দে
কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া গত রাতে স্পেনের বিপক্ষে গোলবারের সামনে যেন এক অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছবি : রয়টার্স

কী অবিশ্বাস্য এক ম্যাচই না খেললেন ভোজিনিয়া! এবারের বিশ্বকাপের নবাগত কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত রাতে স্পেনের বিপক্ষে গোলবারের সামনে যেন এক অদম্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে তাঁর দুর্দান্ত সেভ আর কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে।

শক্তি ও সামর্থ্যের বিচারে স্পেনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে কেপ ভার্দে। মাঠের খেলায় বলের দখলও ছিল প্রায় পুরোপুরি স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণে। তবু একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। দুই অর্ধ মিলিয়ে কেপ ভার্দের জালে কোনো গোলই দিতে পারেনি স্পেন।

প্রথমার্ধেই তিনটি দুর্দান্ত সেভ করেন ভোজিনিয়া। শুরু থেকেই বলের দখল ধরে রেখে খেলতে থাকা স্পেন ৩৬ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগগুলোর একটি পায়। পেদ্রির শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। যদিও পরে কুকুরেলা অফসাইডে থাকায় কর্নারটি  বাতিল হয়। ৩৮ মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল স্পেন। ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবাল হেড নিলেও অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন ভোজিনিয়া। ৪৫ মিনিটে আরো একটি দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন তোরেস। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি ধরে ফেলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক।

যোগ করা সময়েও নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দেন ভোজিনিয়া। বিরতির আগে পেদ্রির নেওয়া কর্নার থেকে আমেরিক লাপোর্তে শক্তিশালী হেড নিলে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলের গতিপথ বদলে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নামিয়েও কেপ ভার্দের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন। মিকেল মেরিনোর বদলি হিসেবে ৭১ মিনিটে মাঠে নামেন ইয়ামাল। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না উঠলেও গোলের পথ খুঁজে পেতেই তাঁকে মাঠে নামান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে স্পেনকে। অন্যদিকে জয়ের সমান এক ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে কেপ ভার্দে, যে ড্রয়ের মাহাত্ম্য বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই কেপ ভার্দের ফুটবলারদের চোখে অশ্রু দেখে।

আদ-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ঠেকাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘোরার অভিযোগ ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, আমি তাঁর (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালের নিচতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শেখ মহিউদ্দিন এ কথা বলেন। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করার পর বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার নরসিংদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, আদ-দ্বীন হাসপাতাল তাঁর পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে। তবে টাকার প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে জবাব দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন শেখ মহিউদ্দিন। পরে তিনি অভিযোগটি নাকচ করেন।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না। মন্ত্রী সাহেবকেই জিজ্ঞেস করেন এই প্রমাণটা উনাকে দেখাতে। মন্ত্রীকে প্রুভ করতে বলেন। হি হ্যাজ টু প্রুভ ইট। আমি তাঁর পেছনে টাকা নিয়ে কেন ঘুরব? আমার তো টাকা নিয়ে ঘোরার দরকার নেই। আমার কথা হলো, তাঁর পেছনে আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি।

তিনি বলেন, সরকার তাঁদের কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়নি। তবে যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেখানে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অগ্রগতির বিষয় সরকারকেও জানানো হবে।

আজ আপিল করা হবে : লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার (আজ) আপিল করা হবে।

সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত সে ধরনের কোনো চিন্তা নেই। ঘাটতিগুলো দূর করার পর সরকার সহযোগিতা করবে এবং হাসপাতালটি আবার লাইসেন্স পাবেএমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

প্রকৃত কারণ জানতে ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন : হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের বিষয়ে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তবে কিছু রোগী, বিশেষ করে নবজাতক ও সংকটাপন্ন রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে আইসিইউতে পাঁচজন, এনআইসিইউতে ৩৬ জন, শিশু বিভাগে ছয়জন, গাইনি বিভাগে ৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগে আরো কয়েকজন রোগী ভর্তি আছেন।

শিশুমৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতগুলো শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে আরো বিস্তৃত ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন, যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে হওয়া উচিত।

লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট : এদিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ।

গতকাল এই রিট করা হয় জানিয়ে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, আগামী রবিবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।

আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, এই রিটের সঙ্গে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর দায়ে গত ১১ জুন আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে সম্বোধন করে লাইসেন্স বাতিলের চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের পাঠানো জবাব ও ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ১১ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।

অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুসারে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। এই চিঠি চ্যালেঞ্জ করেই গতকাল রিট করেন আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ।

রাউজানে ২২ মাসে ২৫ খুন

কাজী মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ও জাহেদুল আলম, রাউজান
রাউজানে ২২ মাসে ২৫ খুন

চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। গত ২২ মাসে রাউজানে খুন হয়েছে ২৫ জন। বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় কাটা, মাটি কাটা, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে রাউজানে এসব খুনের ঘটনা ঘটছে। এসব খুনের ঘটনায় অনেক আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, খুন করে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে পালিয়ে যায়, যে কারণে তাদের ধরা কঠিন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজানে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।

সর্বশেষ গত শনিবার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাঙ্গুনিয়া বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী তাঁর বড় ভাই। পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদুল। এ ছাড়া তাঁর বালুর ব্যবসাও ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে পাঁচজনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় দুজনের হাতে শটগান ও তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। তারা প্রথমে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা করে। এরপর গুলি ছুড়ে সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। মাসুদুল হত্যাকাণ্ডের পেছনে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ক্যাডার বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা আছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, বেতাগী ইউনিয়নের পাশেই রাউজানের পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়ন। তিন ইউনিয়নের দক্ষিণাংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কর্ণফুলী নদী। নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই বালু উত্তোলন কিংবা বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার ঘোষণা দেওয়ার কারণেই মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাউজানে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ২৫টি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার বলছে, প্রকৃত খুনি ও অস্ত্রধারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

রাউজানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সন্ত্রাসীরা সিএনজি অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। টার্গেট ব্যক্তিকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে আবার পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়। পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা বলছেন, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী ও হালদা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া পাহাড় কাটা, ইট ও মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেও রাউজানে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাউজানে ৫ আগস্টের পর সংঘটিত হত্যা মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কি না তা আমি নিশ্চিত নই। বিষয়টি দেখার সুযোগই পাইনি। আমার যোগদানের দুদিনের মাথায় আরেকটি ঘটনা ঘটে গেল। তিনি আরো বলেন, সংঘটিত প্রতিটি হত্যার আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। পাহাড় ও দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল ও চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মাসুদুল হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। সবাই রাউজানের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি বলেন, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির প্রাকৃতিক পাহাড়ের সুবিধা নেয় সন্ত্রাসীরা। তবে এই সুবিধা বেশিদিন ব্যবহার করতে পারবে না।

সীমান্তে পুশ ইনকে কেন্দ্র করে একাধিক স্থানে উত্তেজনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সীমান্তে পুশ ইনকে কেন্দ্র করে একাধিক স্থানে উত্তেজনা

সীমান্তে পুশ ইনকে কেন্দ্র করে দেশের একাধিক স্থানে উত্তেজনা, ব্যর্থ অপচেষ্টা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইন নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, আর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে আটকে পড়া এক ভারতীয় বৃদ্ধকে পরে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সাপ্পারবাড়ি (আজিজপুর) সীমান্তে রবিবার রাতে কাঁটাতারের বেড়ার গেটের কাছে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিএসএফের বিরুদ্ধে। তবে বিজিবির তৎপরতা ও সীমান্তবাসীর উপস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত ওই চেষ্টা সফল হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে কাঁটাতারের গেট দিয়ে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে কাঁটাতারের ওপার থেকে কয়েকটি ককটেল ছুড়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিএসএফ পুশ ইন করা লোকজনসহ নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়।

তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ৬১ বিজিবির (তিস্তা ব্যাটালিয়ন) সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

অন্যদিকে বিজিবি জানায়, সার্চ লাইট বন্ধ রেখে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলেও তাদের সক্রিয় অবস্থানের কারণে বিএসএফ তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

এদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ ইনের শিকার নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১২ জনকে চার দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। গতকাল সোমবার সকালে প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় দ্বিতীয় দফা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। পরে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। পরে দুই দফা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, প্রথম দফা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার আরেকটি বৈঠক হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে সোমবার চূড়ান্ত বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় অবস্থানের কারণে তারা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের হঠাৎপাড়া এলাকায় পুশ ইন করা এক ভারতীয় বৃদ্ধ নাগরিককে রবিবার রাতে বিএসএফ ফিরিয়ে নেয়। বিজিবির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, ৫ জন ভারতীয়কে পুশ ইন করার চেষ্টা করা হলেও চারজন ফিরে যায়, এক বৃদ্ধ আটকে পড়ে। পরে তাঁকে বিএসএফ ফিরিয়ে নেয়।

হাটখোলা গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিজিবির বাধায় পুশ ইন ভেস্তে যায় এবং পরে বৃদ্ধকে ফেরত নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

হাটখোলা সীমান্তের কম্পানি কমান্ডার আনিছুর রহমান বলেন, বৃদ্ধকে ফেরত নেওয়ার পর সীমান্ত পরিস্থিতি এখন শান্ত। বিজিবি সব সময় সতর্ক রয়েছে।

গত রবিবার সকালেও হাটখোলা সীমান্তে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে পুশ ইন করার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে বিজিবির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।