• ই-পেপার

পাকিস্তানে জোড়া বিস্ফোরণ, নিহত ৭

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ, জাতিসংঘ বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ, জাতিসংঘ বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

সংঘাতকালে যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এক ফোরামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকের আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

সম্প্রতি প্যাটেন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শুনানিতে ড্যানন ও প্যাটেন মুখোমুখি হলে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং বৈঠকের পরিবেশ তীব্র হয়ে ওঠে।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মহাসচিবের প্রবণতার কাছে আপনি নতি স্বীকার করেছেন।’

এ বক্তব্যের পরই জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার আপত্তি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড্যানন ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।

ফ্রেজিয়ার তার দপ্তরের প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। জবাবে ড্যানন কড়া ভাষায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র। আর আপনি জাতিসংঘের কর্মচারী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন..।’ ড্যানন বলেন, ‘আপনি কেন এই অবস্থান নিয়েছেন তা আমরা জানি। আমরা আপনাকে এই লজ্জাজনক প্রচারণার অংশ হতে দেব না। আমি আমার কথা শেষ করব।’

তিনি কথা চালিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার তাকে বাধা দেন এবং আপত্তি জানান। এরপর সভার আয়োজকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবুও তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনি যদি শুনতে না চান, তাহলে বাইরে চলে যান।’

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই সপ্তাহের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ঘটানোর কারণে কালো তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহভাবে বেড়েছে। 

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত! বাস্তবতা ও সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন।’ 

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ এই বছর শেষ হবে।

প্যাটেন ও ফ্রেজিয়ারের প্রতিবেদন দুটিতেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তার বার্ষিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেন।

 

বদলে যাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বদলে যাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকের একটি হলো এয়ারফোর্স ওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আকাশপথে যেখানেই যান এয়ারফোর্স ওয়ান তাকে বহন করে। এয়ারফোর্স ওয়ান নিছক একটি বিমান নয়, একে বলা হয়, উড়ন্ত হোয়াইট হাউস। এতে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে আকাশপথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বিমানে বসেই তিনি দেশ শাসন করতে পারবেন, আসলে বলা ভালো বিশ্ব চালাতে পারবেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে রয়েছে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা আকাশে শত্রুর যেকোনো আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। রাষ্ট্রপতি, কর্মী, ক্রু ছাড়াও এয়ারফোর্স ওয়ানে একশরও বেশি অতিথি ভ্রমণ করতে পারেন। এয়ারফোর্স ওয়ানে একটি সার্জিক্যাল রুমসহ জরুরি চিকিৎসার জন্য সকল আধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জাম ও ওষুধ মজুদ থাকে। আকাশে উড়তে উড়তেই রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে এই এয়ারক্র্যাফটে।

বর্তমানে বোয়িং ৭৪৭-২০০ সিরিজের দুটি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকেই বিমান দুটি মার্কি প্রেসিডেন্টদের বহন করে আসছে। তবে পুরোনো বিমান দুটি বদলে বোয়িং এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত করতে আরো দুটি অত্যাধুনিক বিমান বানাচ্ছে। নতুন বিমান দুটি বহরে যুক্ত হতে অন্তত আরো দুই বছর সময় লাগবে। কিন্তু তর সইছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুরোনো বিমান আর ভালো লাগছে না তার। নতুন বোয়িংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয়তো ফুরিয়ে যাবে ট্রাম্পের মেয়াদ। তাই মধ্যবর্তী সময়ের জন্য একটি আধুনিক বোয়িং ৭৪৭-৮ এয়াক্র্যাফটকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

শুক্রবার ম্যারিল্যান্ডের বেজ অ্যান্ড্রুজে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান উদ্বোধন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি ঘুরে দেখার পর লাল গালিচা বিছানো সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসার সময় বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে।’

নতুন বিমানটিকে সবচেয়ে বিলাসবহুল হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’

গত বছর কাতার রাজপরিবারের পক্ষ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এ বিলাসবহুল জাম্বো জেটটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। ভিন্ন একটি দেশের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের উপহার নেওয়ার নৈতিক, আইনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকে উপেক্ষা করেই এটিকে এয়ারফোর্স ওয়ানে বদলে দেওয়ার কাজ শুরু করে মার্কিন বিমানবাহিনী।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে আগের সব সুবিধা তো থাকছেই, তাতে যুক্ত হচ্ছে আরো আভিজাত্য, আধুনিকতা আর বিলাসিতা। বিমানটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বড় ধরনের উন্নয়ন আনা হয়েছে। বিমানবাহিনীর দাবি, এই বিমানে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে লেজের অংশে থাকা আমেরিকান পতাকা আগের চেয়ে কিছুটা ঢিলেঢালা। ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে একটা ঢেউয়ের ছোঁয়া দিয়েছি। আমরা সবসময় সোজা নুডলসের মতো নকশা ব্যবহার করে এসেছি, যা আমি কখনই খুব একটা পছন্দ করিনি।’ এটা ঠিক এয়ারফোর্স ওয়ান সাজানোর ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুচিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

বহরে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান যুক্ত হলে পুরোনো বিমান দুটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাদুঘরে পাঠানো হবে। ১৯৯০ সাল থেকে আগের বিমান দুটি দুই জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মাইল উড়েছে।

এয়ারেফোর্স ওয়ানে যুক্ত হওয়ার আগে শিগগিরই নতুন বিমানটি ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ শুরু করবে। কমিশনিং ফ্লাইটকে আসলে বিমানটি পরিবর্তনের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা করছেন আগামী ৪ জুলাই, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মদিনের আগেই নতুন বিমানটিতে চড়ে মাউন্ট রাশমোরে যেতে পারবেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসের দিন তিনি নতুন উড়ন্ত হোয়াইট হাউস নিয়ে আসল হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে চান।

বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, এগোচ্ছে ভারতের পাল্টা প্রকল্পও

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, এগোচ্ছে ভারতের পাল্টা প্রকল্পও
সংগৃহীত ছবি

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পটি তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অংশে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর অবস্থান ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চীনের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হতে যাচ্ছে।

চীনের এই প্রকল্পের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতও একটি বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। এর নাম সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি)। এটি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ক্ষমতা ধরা হয়েছে ১১ হাজার মেগাওয়াট। এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজও করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনএইচপিসি এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান। 

তবে দুই দেশের প্রকল্পের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। চীনের মেডগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটি ইতোমধ্যেই নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি এখনো প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে আছে। নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। চীনের প্রকল্পের সক্ষমতা ভারতের তুলনায় অনেক বেশি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছে। একই সঙ্গে চীনের প্রতিটি পদক্ষেপও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। কারণ এই নদী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে।

চীনের ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করার পর সিয়াং নদী নামে পরিচিত হয়। এরপর এটি আরো বিস্তৃত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উজানে বড় বাঁধ তৈরি হলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বদলে যেতে পারে। এতে পরিবেশের বড় ক্ষতি হতে পারে। কৃষি উৎপাদনও প্রভাবিত হতে পারে। পাশাপাশি ভাটির এলাকায় হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

ভারতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, তারা ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকায় সব ধরনের কার্যক্রম সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও রয়েছে। সরকার আরো জানিয়েছে, ভাটির এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে, সীমান্ত অতিক্রম করা নদীগুলোর প্রকল্পে স্বচ্ছতা রাখতে হবে এবং আগাম তথ্য দিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্পটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেও তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উজানের পানি প্রবাহের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার দিকটিও এতে যুক্ত রয়েছে। এই প্রকল্পকে ঘিরে কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও বাড়িয়েছে।

ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন,  যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে দেশের ভেতরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এই চাপের কারণে তিনি লেবাননে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এমন পদক্ষেপ নবগঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করবে, যেখানে লেবাননে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এই অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নেওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন একসময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কোনো সামরিক হামলা চালানো উচিত নয়, যে হামলা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই বিশ্লেষণটি এমন একসময়ে এলো, যখন নেতানিয়াহুর সরকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কোনো হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছে, যার কারণে  ট্রাম্পের চুক্তিটিকে ব্যাহত করতে পারে।

শুক্রবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান হামলা চালায়। সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা তারা স্থগিত করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, তিনিও তার সফর স্থগিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি লেবাননে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করেন, তাহলে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না, বরং এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারেন।

লেবানন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সামান্য মতবিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলি নেতাকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি নেতানিয়াহুকে বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর কোনো সদস্য কোনো ভবনে ঢুকলেই যেন সেটি ধ্বংস করে না ফেলা হয়।’

প্রতিবেদনটির বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে আসন্ন শরতের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে তিনি তার সমর্থকদের কাছে কতটা দৃঢ় অবস্থান দেখাতে পারেন, তার ওপর।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতে, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের বোঝাতে চাইছেন যে, তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করবেন না এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরো জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দেন। একই কারণে সাক্ষাৎকার দেওয়া অন্য কর্মকর্তারাও পরিচয় গোপন রেখেছেন।

একজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার শিকার হলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। 

তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধবিরতি বা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারকে রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখতে পারে। এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর হামলা থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হিজবুল্লাহ হামাসের সঙ্গে মিলে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ইসরায়েলে শক্ত জনসমর্থন রয়েছে। উত্তর ইসরায়েলে হামলার কারণে ঘরছাড়া হওয়া হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে হিজবুল্লাহকে দমন করার দাবি জানিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিলে ভোটাররা এটিকে পরাজয় হিসেবে দেখবেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যদি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা না সরায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নাজুক সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে। এতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক হ্যারিসন ম্যান বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভোটারদের দেখাতে চাইছেন যে তিনি নিরাপত্তা ও যুদ্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। চাইলে ওয়াশিংটন অস্ত্র, সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া সীমিত করতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ চালানো আরো কঠিন করে তুলবে।

বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইসরায়েলের ওপর কিছু চাপ দিলেও কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ খুব কমই নিয়েছেন। তবে তার মতে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে ট্রাম্প আপত্তি করলেও নেতানিয়াহু পাল্টা জবাব দেবেন।