• ই-পেপার

লালমনিরহাটে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের গাছের চারা বিতরণ

গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
গাইবান্ধায় বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ
ছবি : কালের কণ্ঠ

আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, পেয়ারা, লটকনসহ নানা মৌসুমি ফলের স্বাদে আনন্দে মেতে উঠেছে গাইবান্ধার সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও শিশুরা। বসুন্ধরা শুভসংঘ গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ ফল উৎসব শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি মৌসুমি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখে।

শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এটিআই) চত্বরে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত নারী, পুরুষ ও শিশুদের হাতে বিভিন্ন মৌসুমি ফল তুলে দেওয়া হয়। ফল হাতে পেয়ে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর হাসিতে পুরো আয়োজনস্থল মুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ এবং নাট্যকর্মী ও বাচিকশিল্পী শিরিন আক্তার।

বাচিকশিল্পী শিরিন আক্তার বলেন, “প্রকৃতি আমাদের জন্য যে মৌসুমি ফলের ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তা শুধু সুস্বাদুই নয়, শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এমন আয়োজন শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করে।”

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ বলেন, “মানবিক সমাজ গঠনে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘ যে ভালোবাসা নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত।”

এর আগে আয়োজনে বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সাবেক জেলা সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ বিপ্লব, জেলা সভাপতি আহসান আজিম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আহসানিয়া তাসনিম স্নিগ্ধা, সদর উপজেলা সভাপতি সামিউল বাসির এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের গাইবান্ধা প্রতিনিধি অমিতাভ দাশ হিমুন।

হুমায়ূন আহমেদ বিপ্লব বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। প্রতিবছর শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে শিশুদের পুষ্টি ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

ফল উৎসবকে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা শুভসংঘের বিপুলসংখ্যক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি অংশগ্রহণকারী শিশু ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বসুন্ধরা শুভসংঘের বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশিদুল ইসলাম, জিহাদ আকন্দ, তৌহিদুল ইসলাম, সুমাইয়া আক্তার, ইভা আক্তার, লিজা সরকার, মো. সাকিব মিয়া, মো. আতিকুর রহমান, মো. মিল্লাত, এ. জে. আশিকুর রহমান শাওন, অনিক চন্দ্র শীল, আরাফাত রহমান আরিফসহ অন্যরা।

দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক

বসুন্ধরা শুভসংঘ ডেস্ক
দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত হলে কমবে ধর্ষণ ও নির্যাতন : শুভসংঘের আলোচনাসভায় রাবি অধ্যাপক
ছবি : কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘ধর্ষণ, বলাৎকার ও নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন একাডেমিক ভবনের ২০৬ নম্বর কক্ষে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনাসভার শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রাবি বসুন্ধরা শুভসংঘের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ এবং কার্যকরী সদস্য মিরা আক্তার।

আরিফ মাহমুদ বলেন, ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন শুধু আইনি নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণসমাজকে আরো দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে।

মিরা আক্তার বলেন, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; সমাজে সম্মান, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নারী ও শিশু নিরাপত্তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে।

আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক এবং সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস।

প্রধান আলোচক ড. মুর্শিদা ফেরদৌস বিনতে হাবীব বলেন, নৈতিকতার অবক্ষয়, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের অন্যতম কারণ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিশেষ আলোচক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ অপরাধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অপরাধকে সামাজিকভাবে ঘৃণিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।

অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি সামাজিক প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব।

সভায় বসুন্ধরা শুভসংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আলফাজ উদ্দিন টনিকের সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভসংঘের সদস্যরা অংশ নেন। তারা বিষয়ভিত্তিক মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার উদ্যোগে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ

রানা মিত্র পটিয়া, চট্টগ্রাম
বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া শাখার উদ্যোগে ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ

তরুণ সমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ পটিয়া  উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এলাকার শিক্ষার্থী ও তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ পান।

পুরো আয়োজনটিতে সহযোগিতায় ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এস এম এ জুয়েল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন–বসুন্ধরা শুভসংঘের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. সোলাইমান, মো. তানবির, সৈয়দ আহনাফ, জাহেদুল ইসলাম, সাইমুন ইসলাম শাকিব, মো. জাবেদ হোসেন, আব্বাস, নওরিন মুনিরা আনিকা, আফরিন গুহ, নাদিয়া, নুসরাত, পারভীন, মেহেরুন নেছা মনি, রুপ কুমার আইচ, মো. কাইয়ুমসহ শুভসংঘের বন্ধু ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি  এস এম এ জুয়েল বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, যুগোপযোগী দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। কম্পিউটার শিক্ষা বর্তমানে চাকরি, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং এবং উচ্চশিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজ করে আসছে। আমরা চাই তরুণরা প্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলুক এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।’

শুভসংঘ বন্ধু মো. সোলাইমান বলেন, ‘অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে না। তাদের জন্য এই বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রশিক্ষণ তাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।’

বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি—সবখানেই কম্পিউটার জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সুমাইয়া তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেকেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক কারণে সুযোগ পাইনি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের জন্য বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, এমএস অফিস, ইন্টারনেট পরিচালনা, টাইপিং দক্ষতা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল টুলস সম্পর্কে জানতে পারব, যা আমাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শুভসংঘের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, সমাজের উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তারা সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদেরও এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সফলতা ও দেশের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, বসুন্ধরা শুভসংঘের শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে সংগঠনটি আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করবে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীকে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ

ধামইরহাট (নওগাঁ)
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীকে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করল বসুন্ধরা শুভসংঘ
সংগৃহীত ছবি

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীকে তার ব্যবসা পরিচালনা ও জীবিকার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের পণ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যানের উত্তর প্রান্ত সীমান্ত পিলারঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইয়ুব আলীর দোকানে গিয়ে এসব পণ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আইয়ুব আলী বলেন, গত ২৫ বছর পূর্বে আমার দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়। চোখের প্রেসারে আমি পরবর্তীতে দুই চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলি। জীবিকার তাগিদে সেই থেকে আমি ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাকে ব্যবসায়  সহযোগিতা করেন আমার স্ত্রী আক্তার বানু। আমার মতো একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। আমার দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল প্রদান করায় অভাব-অনটন কিছুটা দূর হবে। এতে আমার সংসার চালাতে পারব। আমি বসুন্ধরা শুভসংঘকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম বদিউল আলম জানান, একজন অন্ধ মানুষ জীবিকার তাগিদে ক্রেতাদের ওপর বিশ্বাস রেখে ব্যবসা করে। এর থেকে বড় কিছু আর নেই। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে মানবিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সহায়তা তার ব্যবসা পরিচালনায় নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে। পাশাপাশি তাকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে আরো এগিয়ে আনবে।

ধামইরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী  সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বসুন্ধরা শুভসংঘ এর মতো সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম বদিউল আলম, ধামইরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.হায়দার আলী, বসুন্ধরা শুভসংঘের ধামইরহাট উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সাংবাদিক মো. হারুন আল রশীদ, সাংবাদিক রেজুয়ান আলম, সাংবাদিক মুমিনুল ইসলাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের উপজেলা শাখার সদস্য শাকিলা খাতুন,আইয়ুব আলীর স্ত্রী আক্তার বানু।

আইয়ুব আলীর স্ত্রী আক্তার বানু জানান, দুই ছেলে দুই মেয়ে থাকার পরও অন্ধ মানুষটিকে দু’মুঠো ভাতের জন্য দোকানদারি করতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পর ছেলেরা আলাদা হয়ে গেছে। তাই বাধ্য এ বয়সে ক্রেতার ওপর বিশ্বাস রেখে ব্যবসা করতে হচ্ছে। আমাদের জীবিকার কথা চিন্তা করে যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে তা দিয়ে যেন আমরা সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যেতে পারি। আমরা সবার নিকট দোয়া প্রার্থনা করি।