ফল চাষের কথা উঠলেই বেশির ভাই মানসপটে ভেসে ওঠে বিদেশের কোনো বিস্তীর্ণ বাগানের ছবি। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন আব্দুল আজিজ। শখের আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্প।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিশিক্ষক আব্দুল আজিজ ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ড্রাগন, আপেল কুল চাষে আগেই সফলতা পেয়েছেন তিনি। তবে এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর নিয়ে।
আব্দুল আজিজ জানান, মাত্র ৯ মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলক কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। ইউটিউবে চাষের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা করতে থাকেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম আর পরিকল্পনায় মিলেছে সফলতা।
তিনি জানান, প্রথম দিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকুনুর জাতের চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। পরে একটি গাছ থেকেই পান সাত-আট কেজি আঙুর। সেই সাফল্যই বদলে দেয় তার ভাবনা। পরে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন এই শিক্ষক।
আজিজের বাগানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে এখন পাঁচ জাতের আঙুর। বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। থোকায় থোকায় ফল ঝুলছে প্রত্যেক গাছেই।
আজিজ বলেন, ‘শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।’
এদিকে আজিজের এই উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছে স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষ। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন, কিনছেন চারাও। স্থানীয়রা বলছে, এভাবে আঙুর চাষ বাড়ানো হলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলায়ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর ফলতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরাও চারা নিয়ে বাড়িতে লাগানোর চিন্তা করছি।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের ফলন ছিল আশাব্যঞ্জক।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আব্দুল আজিজ তা প্রমাণ করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।