বিশ্বকাপ শুরু আগে ভিসা ইস্যু, উচ্চ টিকিট মূল্যসহ বেশ কিছু কারণে বিতর্কের জন্ম দেয় আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আয়োজক দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহের কমতিতে উদ্বেগ ছিল বিদেশি দলের ফুটবলপ্রেমীদের। তবে খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন শহরগুলোর উষ্ণ আতিথেয়তা ও স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যর্থনা বিদেশি সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে।
কঠোর ভিসা নীতিমালার কারণে ইরান, হাইতি, আইভরি কোস্ট এবং সেনেগালের মতো বেশ কিছু দেশের বড় একটি অংশ নিজ দেশ থেকে এসে গ্যালারিতে যোগ দিতে পারেনি। এই শূন্যতা পূরণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন।
আমেরিকান স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেডিয়ামগুলোতে নিজেদের দেশের মতো সমর্থন না পাওয়া আন্ডারডগ দলগুলোকে আপন করে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের মন জয় করছেন।
বর্ণিল আয়োজন, সুসজ্জিত ফ্যান জোন এবং স্থানীয়দের আন্তরিক অভ্যর্থনা মাঠের বাইরের পরিবেশকে আরো আনন্দময় করে তুলেছে। যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।
বোস্টনের একটি পাবে এসেছিলেন ‘টারটান আর্মি’র স্কটিশ ভক্ত গেইল নিকোল। এ সময় তিনি বলেন, ‘বোস্টনের একটি পাবে দুজন চমৎকার মেয়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেদিন মেয়েটির জন্মদিন ছিল, সে ককটেল খাচ্ছিল। আমি তাকে আরেকটি কিনে দিলাম এবং তারা বারবার বলছিল ‘বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে স্বাগতম!’ তারা আমাদের খুব পছন্দ করেছে, আমরাও তাদের পছন্দ করেছি... এখানকার সবাই খুব বন্ধুত্বপূর্ণ, খুব ভালো।’
‘এখানকার মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও খোলামেলা মনমানসিকতা আমার কাছে একেবারেই নতুন’— জুরিখ থেকে আসা এক সুইস সমর্থকের এমন মন্তব্য বেশ সাড়া ফেলেছে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপ দেখতে আসা বিদেশি ভ্রমণকারীরা পরিচিতি নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরল্যান্ডো শহরের বাইরেও কানসাস সিটি, আটলান্টা ও হিউস্টনের মতো জায়গাগুলোর সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছে।
কানসাস সিটিতে ঘাঁটি গেড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। শহরটিতে সমবেত হয়েছেন আর্জেন্টিনার নাগরিকরা। যাদের সংস্কৃতিতে ‘আসাদো’ বারবিকিউ খাওয়া ফুটবলের মতোই প্রায় অপরিহার্য—সেখানকার স্থানীয় ‘ড্রাই রাব’ (শুকনো মশলা মাখানো) ঘরানার গ্রিল করা মাংসের স্বাদ নিতে সমবেত হয়েছিলেন আর্জেন্টাইনরা।
খেলা দেখতে আসা আর্জেন্টিনার সমর্থক ক্রিশ্চিয়ান গাস্তেস বরেছেন, আর্জেন্টাইন বারবিকিউ আমার সবচেয়ে প্রিয়। তবে এটিও সত্যিই বেশ চমৎকার।
ডালাসে ডুসেলডর্ফ থেকে আসা জার্মানির সমর্থক মাক্সিমিলিয়ান কির্খও সেখানকার বারবিকিউর স্বাদ নিয়েছিলেন—এবং নিজের নতুন কেনা টেক্সান কাউবয় হ্যাটটি প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘আমি এই সংস্কৃতির আরো অভিজ্ঞতা নিতে চাই।’
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেসব উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, তার কয়েকটি এখনো কাটেনি। বিশেষ করে মায়ামির মতো জায়গাগুলোর তীব্র গরম খেলোয়াড় এবং দর্শকদের জন্য বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে; অথচ ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে গ্রীষ্মের আরো এক মাস বাকি।
যদিও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি বেশ ভালো। তবে টিকিট এবং যাতায়াতের উচ্চ খরচের কারণে অনেকেই এই সফরে আসার আগ্রহ হারিয়েছেন।
তাছাড়া, ভিসার কড়াকড়ি এবং ভিসা না পাওয়ার কারণে অনেক ফুটবল ভক্তকে শেষ পর্যন্ত ঘরে বসেই টিভিতে খেলা দেখতে হচ্ছে।