একসময় আনসু ফাতিকে ভবিষ্যৎ মহাতারকা হিসেবে দেখা হতো। লামিনে ইয়ামালের আবির্ভাবের আগে ফাতিকেই বার্সেলোনার সবচেয়ে প্রতিভাবান বিবেচনা করা হতো।
সেই ফাতির পারফরম্যান্সের ধার কমতে কমতে এতটাই নিচে নেমেছে যে, বার্সেলোনা ছেড়ে ধারে ব্রাইটন ও এএস মোনাকোয় খেলতে হয়েছে। স্পেনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও জায়গা হয়নি তার।
তাতে অবশ্য জীবনের এক অধ্যায় শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন ফাতি। আপাতত ফুটবলকে দূরে ঠেলে সংগীতশিল্পী বনে গেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
সম্প্রতি নিজের একক গানের ভিডিও প্রকাশ করেছেন ফাতি, স্প্যানিশ ভাষায় যার নাম Sea Como Sea (বাংলা অর্থ যাই হোক না কেন)। গানের রেকর্ডিং ও মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে।
সংগীত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মিউজিক ব্রোকার্সের সঙ্গে একটি বৈশ্বিক বিতরণ চুক্তি করেছেন ফাতি, যা সনি মিউজিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তিনি বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক গান প্রকাশ করলেন।
২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই গানে আফ্রোবিটস, রেগেটন এবং অ্যামাপিয়ানো সঙ্গীতধারার মিশ্রণ রয়েছে। ফাতির জন্মস্থান গিনি-বিসাউয়ের সঙ্গীত প্রভাব, স্পেনের আন্দালুসিয়ায় বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় অ্যামাপিয়ানো ধারার ছাপ এই গানে ফুটে উঠেছে।
ফাতির সংগীতচর্চার শুরু করেছেন বেশ আগেই। ২০২০ সালে করোনাকালে গুরুতর হাঁটুর চোটে দীর্ঘ পুনর্বাসনের সময় তিনি গান লেখা শুরু করেন। এএস মোনাকোয় যোগ দেওয়ার পর স্টুডিওতে নিয়মিত সময় কাটাতে থাকেন এবং ধীরে ধীরে এই ইচ্ছাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নিজের গান সম্পর্কে ফাতি বলেছেন, ‘অনেক মানুষ মনে করেন, তারা আমার গল্প জানেন। কারণ তারা আমাকে গোল করতে দেখেছেন। কিন্তু এই গান তাদের সামনে আমাদের জীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরবে। বিশ্বকাপ চলাকালীন গান প্রকাশ করা পরিকল্পিত ছিল না। বরং এটি আমার বর্তমান জীবনেরই একটি অংশ।’
ফুটবল ও সংগীত—দুই জগতকেই ফাতি সমানতারে এগিয়ে নিতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার এই নতুন যাত্রা এরই মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দিপোর্তিভো জানিয়েছে, এএস মোনাকোতে পাকাপাকিভাবে থেকে যাচ্ছেন ফাতি। ফরাসি লিগ আঁ-এর ক্লাবটি শিগগিরই তাকে বার্সেলোনার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেবে।






