• ই-পেপার

ইরান যুদ্ধ

শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’?

স্বামীর পর ২ শিশু নিয়ে স্ত্রীর আত্মহনন

অনলাইন ডেস্ক
স্বামীর পর ২ শিশু নিয়ে স্ত্রীর আত্মহনন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের ৪ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামী এবং দুই শিশু রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ফাঁস দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যার পর দুই শিশু নিয়ে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী। 

রাজ্যের ওয়াশিম জেলার মালেগাঁও তহসিলের তিভলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের কর্তা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ একটি কূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান পাঠান এনডিটিভিকে জানান, তিভলি গ্রামে একটি কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পাই যে তিভলি গ্রামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই খবরে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।

এসআই পাঠান আরো বলেন, ৪টি মরদেহ উদ্ধারের পর এখন ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

লক্ষ কোটি টাকার মালিক হয়েও কেন ৪০০ বর্গফুটের বাড়িতে থাকেন ইলন মাস্ক?

অনলাইন ডেস্ক
লক্ষ কোটি টাকার মালিক হয়েও কেন ৪০০ বর্গফুটের বাড়িতে থাকেন ইলন মাস্ক?
সংগৃহীত ছবি

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেসএক্স’-এর অভাবনীয় শেয়ার বিক্রির (আইপিও) পর ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হয়েছেন। তবে তার এই বিপুল সম্পদের বিপরীতে জীবনযাপনের এক অদ্ভুত সাদামাটা চিত্র পুরো বিশ্বকে অবাক করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সব বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে তিনি বর্তমানে টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট সেন্টারের কাছে মাত্র ৪০০ বর্গফুটের একটি ছোট ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন।

গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের বোকা চিকায় স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ রকেট সেন্টারের কাছে ইলন মাস্কের এই বাড়িটি অবস্থিত। ‘বক্সাবল’ কম্পানির তৈরি ২০x২০ ফুটের এই ঘরটি মূলত একটি তৈরি করা (প্রিফ্যাব্রিকেটেড) বক্সের মতো। বাড়িটির দাম মাত্র ৫০ হাজার ডলার, যা তিনি স্পেসএক্সের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন। এই ছোট ইউনিটটির ভেতরেই রয়েছে একটি বসার ঘর, শোবার জায়গা, রান্নাঘর ও একটি সাধারণ বাথরুম। মাস্ক নিজেই এই বাড়িটিকে দারুণ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইলন মাস্কের মা মে মাস্ক বাড়িটি ঘুরে এসে বলেছিলেন, ওখানকার ফ্রিজে কোনো খাবার পর্যন্ত থাকে না এবং ঘুমানোর ব্যবস্থাও খুব সাধারণ। বাড়িটিতে জায়গা বাঁচাতে দেয়ালের সাথে ভাঁজ করে রাখা যায় এমন ‘মারফি বেড’ এবং কিছু প্রয়োজনীয় রান্নার সরঞ্জাম রয়েছে। এর আগে টেসলা গাড়ির কারখানায় উৎপাদনের চাপ থাকার সময়ও মাস্ক বিলাসবহুল জীবনের চেয়ে কাজকে গুরুত্ব দিয়ে কারখানার মেঝেতেই ঘুমাতেন।

যদিও মাস্ক দাবি করেন যে বোকা চিকার এই ছোট বাড়িটিই তার প্রধান বাসস্থান, তবুও অস্টিনের কাছে তার কোম্পানির নামে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বেশ কয়েকটি বড় বাড়ি রয়েছে। সেগুলোর একেকটি প্রায় ৬ থেকে ৯ হাজার বর্গফুটের এবং সেগুলোতে সুইমিং পুলও আছে। তবে মাস্ক সেই বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে না থেকে কাজের সুবিধার্থেই এই ছোট বাড়িতে থাকেন।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ৪০০ বর্গফুটের বাড়িতে থাকার এই সিদ্ধান্ত মূলত মাস্কের কাজের প্রতি একাগ্রতারই প্রমাণ। তিনি মনে করেন, জাগতিক আরাম-আয়েশের চেয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও মানবজাতির ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। রকেট সেন্টারের ঠিক পাশেই থাকার কারণে তিনি স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট ‘স্টারশিপ’-এর কাজ সরাসরি তদারকি করতে পারছেন।

সূত্র : এনডিটিভি

রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী কারণ?

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের গণগ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী কারণ?
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ায় গত মে মাসে অন্তত আটজন প্রভাবশালী মুসলিম আলেম ও ধর্মীয় প্রতিনিধিকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উগ্র-ডানপন্থী সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, রাশিয়ার বাইরে থাকা গণমাধ্যমগুলো একে দেশটিতে  ইসলামবিদ্বেষের বড় লক্ষণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আবাসিক ভবনে জামাতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করে একটি নতুন বিতর্কিত আইন আনা এবং এর প্রতিবাদ করার পর থেকেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো ঘটেছে। 

২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চলের সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল, মর্দোভিয়ার মুফতি রয়াল আসেনভ এবং সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন আলেমকে আটক করা হয়। সরকারিভাবে তাদের বিরুদ্ধে ‘পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া’ কিংবা ‘ঘুষ চাওয়া’র মতো সাধারণ অভিযোগ আনা হলেও, তদন্তকারী নথিতে তাদের কয়েকজনকে নিষিদ্ধ ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এই দমন-পীড়নের নেপথ্যে রয়েছে একটি বিতর্কিত নতুন বিল, যেখানে অ্যাপার্টমেন্ট বা আবাসিক ভবনে যৌথভাবে উপাসনা ও নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের (ডিইউএম) প্রধান রাভিল গাইনুতদিন মে মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে চিঠি লিখে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, রাশিয়ায় পর্যাপ্ত মসজিদ বা উপাসনালয় নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয় না, তার ওপর এই আইন পাস হলে ঘরে বসে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে নামাজ পড়লেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রতিবাদের পরই আলেমদের টার্গেট করা শুরু হয়।

আলেমদের ওপর চাপের আরেকটি বড় উদাহরণ ডিইউএম-এর ডেপুটি দামির মুখেতদিনভ। তার কার্যালয়ে ‘মঙ্গোল-তাতার যুগ’-এর একটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম ঝুলিয়ে রাখার কারণে উগ্র জাতীয়তাবাদীরা তাকে ‘রাশিয়াবিরোধী’ আখ্যা দেয়। পরে আদালত তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করে। তীব্র সমালোচনার মুখে মুখেতদিনভ চিত্রকর্মটি সরিয়ে সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছবি বসাতে বাধ্য হন।

রাশিয়ার উগ্র-ডানপন্থী ও কট্টরপন্থী ব্লগাররা এই গণগ্রেপ্তারকে সানন্দে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এই আলেমদের বিদেশি গোয়েন্দা বা চরমপন্থী হিসেবে প্রচার করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সরকারি মুসলিম বোর্ড (ডিইউএম) এই গ্রেপ্তার নিয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও পরে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মুসলিম সমাজকে চরমপন্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেশে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাশিয়ায় প্রায় দুই কোটিরও বেশি মুসলিমের বসবাস। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে ক্রেমলিন ক্রমশ ‘অর্থোডক্স রাশিয়া’ বা কেবল স্লাভিক ঐতিহ্যভিত্তিক একচেটিয়া ধারণা প্রচার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে রাশিয়ার প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্য দেখালেই ধর্মীয় স্বাধীনতা পাওয়া যেত; কিন্তু সাম্প্রতিক এই আলেমদের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করছে যে—এখন শুধু আনুগত্যেও আর রক্ষা হচ্ছে না।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

চূড়ান্ত সমঝোতার বাধা কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
চূড়ান্ত সমঝোতার বাধা কোথায়?
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এর সময়, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

সাম্প্রতিক দু’পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্যগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে সমঝোতা স্মারকটি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে, তবে এটি সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে হবে, নাকি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বলছে, গত কয়েক দিনে সুইজারল্যান্ডে একটি সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হলেও এখন সে বিষয়ে আর কোনো আলোচনা শোনা যাচ্ছে না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটিকে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ইরান এখনও স্বাক্ষর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সময়সূচি নয়, চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিকেও যুক্ত করে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ আগে বলা হয়েছিল, পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয়গুলো চুক্তি-পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায় নিষ্পত্তি করা হবে।

অন্যদিকে ইরানও তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপ, বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলো সামনে আনছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় পক্ষই সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক শর্তগুলোকে নিজেদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজ নিজ জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিজেদের অবস্থানকে গ্রহণযোগ্য ও সফল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সমঝোতা স্মারকটি কেবল একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। প্রকৃত চ্যালেঞ্জ এবং সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনায়। সেখানেই পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর ইস্যুতে দুই পক্ষের সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা নির্ধারিত হবে।