• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে ইসলামী ব্যাংকের বুথ থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরি, উদ্ধার প্রায় ১৫ লাখ

টেকনাফে দিনের আলোতে গুলি ছুড়ে সাবেক শিক্ষককে অপহরণ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
টেকনাফে দিনের আলোতে গুলি ছুড়ে সাবেক শিক্ষককে অপহরণ
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে দিনদুপুরে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কামাল মাস্টার (৬৫) নামের এক সাবেক শিক্ষককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে অস্ত্রধারীরা। রবিবার (২৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অপহৃত কামাল মাস্টার ওই এলাকার মৃত মকবুল আহমদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে পাহাড় থেকে নেমে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী এলাকায় প্রবেশ করে। তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে কামাল মাস্টারকে তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অপহরণকারীরা আবারও গুলি ছুড়ে তাকে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকে কামাল মাস্টারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।

বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস বলেন, ‘আমাদের এলাকার একজন শিক্ষিত ও সম্মানিত ব্যক্তি কামাল মাস্টারকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অস্ত্রধারীদের গুলিতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটলে মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’

তিনি আরো বলেন, অপহরণকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর একটি ছয় সদস্যের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। পাশাপাশি অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে পাহাড়ের পাদদেশে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অপহরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপ খেলবে, সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপ খেলবে, সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশও একদিন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলোকে ওভারকাম করতে হবে। আগামী ১৫-২০ বছর পর বাংলাদেশের ফুটবল যাতে বিশ্ব মানচিত্রের উঁচু জায়গাতে পৌঁছাতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের ন্যাশনাল টিম ভালোভাবে চেষ্টা করছে। হামজা চৌধুরী থেকে শুরু করে জামাল ভূঁইয়া সবাই ভালো খেলছে।’ 

আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা সাব-কন্টিনেন্টে চেষ্টা করছি। আমাদের যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলোকে ওভারকাম করে যাতে ডমিনেট করতে পারি। নভেম্বরে আমাদের সাফ ফুটবল রয়েছে। ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এরপর দীর্ঘ সময় হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা সাফের সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা ফিরে পাইনি। বর্তমান বাংলাদেশ ফুটবল টিম অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ এবং ভালো একটি টিম। আমরা আশাবাদী আগামী সাফ ফুটবলে বাংলাদেশ শিরোপা পুনরুদ্ধার করবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াকে এগিয়ে নিতে ৩০০ ক্রীড়া কার্ডের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা যারা রাখছেন তাদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ক্রীড়া কার্ড আরো ২০০ বাড়িয়ে এই সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা হবে।’

কৃতী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আনসার গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খেলায় কৃতিত্ব রাখায় ২৩ জন আনসার সদস্যকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

নীলফামারী সংবাদদাতা
উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা এই ঢলে বন্যার কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। 

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর লালমনিরহাটের ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এর আগে সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা বেড়ে ৫২ দশমিক ২ সেন্টিমিটার ও বিকেল ৩টায় আরো এক সেন্টিমিটার বেড়ে ৫২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটারে পৌঁছায়, যা তখনো বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাত ৯টার মধ্যে পানি আরো কয়েক সেন্টিমিটার বেড়ে আবারও কমতে শুরু করবে। তবে নীলফামারীতে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি আরো জানান, নদীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চল

কারখানার সামনে মোটরসাইকেল মহড়া, ‘সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না’ বলে হুঁশিয়ারি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
কারখানার সামনে মোটরসাইকেল মহড়া, ‘সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না’ বলে হুঁশিয়ারি
ছবি : সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে একটি কারখানার সামনে কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেলের মহড়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মহড়ায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কারখানায় ঢুকে নিজেদের ‘বড় নেতার লোক’ পরিচয় দিয়ে কারখানার ঝুট (বর্জ্য) ব্যবসা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া অন্য কাউকে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে টঙ্গী শিল্পনগরীর পাগার এলাকায় অবস্থিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১১টা ৫৭ মিনিটের দিকে হঠাৎ কয়েক শতাধিক মোটরসাইকেল কারখানার সামনে জড়ো হয়। এতে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের অনেক দোকানপাটও বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মহড়ায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। পরে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কারখানার ঝুটের ব্যবসা অন্য কাউকে না দেওয়ার কথা বলে চলে যান।

ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা একজন বড় নেতার লোক পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। বলে গেছেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া ঝুট দেওয়া যাবে না।’

তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে বিদেশি ক্রেতা (বায়ার) অবস্থান করছিলেন, ফলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

কারখানার বর্তমান ঝুট ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ঝুটের ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’

কারখানার সামনের কয়েকজন দোকানি জানান, শত শত মোটরসাইকেলের বহর দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কারখানাটির ঝুটের ব্যবসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম নিয়ন্ত্রণ করতেন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারখানাটি কিছু সময় বন্ধ থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ঝুটের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর বিএনপির দুটি প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এটা তাদের ইন্টারনাল বিষয়। তবে মহড়ার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’