• ই-পেপার

সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী ও তার স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের দায়ে মানবাধিকারকর্মী মোস্তাকিন শরীফ ও তার স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শাহানাজ সুলতানা এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু রায়হান সরকার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে হাজির ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় গৃহকর্মী হাওয়া আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর হাওয়া জানায়, ওই বছরের ১ জুলাই থেকে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করে। কাজের সামান্য ত্রুটির অজুহাতে তাকে প্রতিনিয়ত গালাগাল, লোহার খুন্তি ও গরম রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। নির্যাতনের সময় একজন ধরে রাখতেন এবং অন্যজন মারধর করতেন। মেয়েটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে আসামিরা হাসাহাসি করতেন। এমনকি তাকে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।

এই ঘটনায় ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর খিলগাঁও থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পরের বছরের (২০১৯ সাল) ২২ অক্টোবর দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও খিলগাঁও থানার এসআই প্রশান্ত বালা।

অভিযোগপত্রে হাওয়া আক্তারের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে বলা হয়, আসামিরা সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় ২০১৮ সালের ৭ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হাওয়াকে আটকে রেখে লোহার খুন্তি ও রড গরম করে ছ্যাঁকা দেন। গ্যাসের চুলার আগুনে তার চুল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, গরম চাকু দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার পর সেই জখম স্থানে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি করা হতো। এই অমানবিক ও অকল্পনীয় নির্যাতনের ফলে হাওয়া আক্তারের সমস্ত শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় এবং সে চিরতরে পঙ্গু হয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। বিচার চলাকালীন আদালত মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, এনসিপি নেতা আরো ২ দিনের রিমান্ডে

জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। 

রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার সময় আনোয়ার বলেন, ‌‘আমার অপরাধ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে এনি চৌধুরীর খাস লোক বিএনপির সভাপতি মিঠু। আমাকে মারধর করলে যখন ঘরে দৌড়ে পালাই তখন মিঠু এক হাজার লোক নিয়ে বাড়ি ঘেরাও করে।’

অন্য জুলাইযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আপনাকে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, ‘আমাকে দিয়ে শুরু করছে। আমি এনি চৌধুরীর যত অন্যায় দুর্নীতি সব তুলে ধরছি। আওয়ামী লীগের সময়ও এসব অন্যায়-দুর্নীতি তুলে ধরছি। তখনো হামলা-মাইরের শিকার হয়েছি। কিন্তু বিএনপির আমলে আরো বেশি হয়েছি। বিএনপি আমারে অতিরিক্ত মারছে। বিএনপি আমার মা, বউ, ভাইসহ সবাইরে মারছে। ভাইয়ের ঘর ভাঙচুর করছে।’

আপনে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে গ্রেপ্তার হয়েছেন বললে আনোয়ার বলেন, ‘এটা আমার বাকস্বাধীনতা, বলতেই পারি।’

আপনি প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা করেছেন কি-না জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ‘এগুলো মিছা কথা।’

এর আগে গত সোমবার (২২ জুন) প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় করা মামলায় একই আদালত থেকে  তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

জামালপুরের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ তিন দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর তেজগাঁও থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। 

তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল সরকার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

এর আগে গতকাল রাতে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কামরুল হোসেন, আব্দুর রহিম, মাহবুব হোসেনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণি সড়কে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূর মোহাম্মদ তাঁর ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ একটি অবৈধ মিছিল বের করেন। দেশের পরিস্থিতি অস্থির করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে তাঁরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।ওই ঘটনায় হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামি নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারের পর সাক্ষ্য-প্রমাণে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।

জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত সেই মিষ্টি সুবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার আলোচিত সেই মিষ্টি সুবাস
মডেল মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় আসা মডেল মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাসকে এবার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ দেন।

মিষ্টি সুবাসের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আজ এ আসামির গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে জামিন চাই। তবে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।’

গত ২৪ জুন এই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম। আদালত ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ রবিবার দিন নির্ধারণ করেন। 

আদালতে তোলার সময় মিষ্টি সুবাস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি কিছু বললে কারাগার থেকে বের হতে পারব না। আমি কারাগার থেকে বের হতে চাই।’

পরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় মিষ্টি সুবাস বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার নাতনি, আমাকে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এজন্য কথা বলতে চাই না। কথা বললে বের হতে পারব না।’

আটকের আবেদনে বলা হয়, আসামি খারাপ প্রকৃতির লোক। সহযোগীদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা হাঙ্গামা করে বেড়ান। এই মামলার বাদী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। ফলে ছাত্র আন্দোলনের সব মিছিলে বাদী উপস্থিত ছিলেন। আসামি এই মামলার এজাহার নামীয় আসামিদের সঙ্গে মামলার ঘটনা সংগঠন করেছে মর্মে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় বাদী মো. শাকিল বাবু তার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে বাইপাইল মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহন করেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার সময় আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আসামিরাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ও বহিরাগত অজ্ঞাতনামা আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসহ হামলা করে। এ সময় আসামিরা বাদীর ডান পায়ের পেছনে গুলি করে। গুলিতে বাদীর রগ ছিঁড়ে বের হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বাদী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে তার সহযোদ্ধারা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ দুপুর ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২ বা ২৫ জন নেতা-কর্মী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানব না, শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে স্লোগান দেয়। এ সময় মিষ্টি সুবাসসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসলে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।