চোখে দেখতে পারেন না, হাঁটাচলাও করতে পারেন না, বয়স প্রায় ১০০ ছুঁইছুঁই। এমন এক বৃদ্ধার দেখা মিলেছে দিনাজপুরের হিলির এক রাস্তাার পাশে। শুধু নাম বলতে পারেন মতিউর, আর ঠিকানা রংপুরে, এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারেন না তিনি। স্থানীয়রা বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২টার সময় হিলি চরমাথা মসজিদের পাশের এক দোকানে কাছে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে রেখে চলে যায়। এরপর কয়েকজন তাকে প্রথমে মসজিদের ভেতরে রাখলে সেখান থেকে তিনি বর্তমানে মসজিদ গেটের সামনে বসে অবস্থান করছেন। কিছু জিজ্ঞাসা করলে বলছেন রংপুর থেকে এসেছি। যাব পাঁচবিবি বড় মসজিদ।
এমন এক বৃদ্ধাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়াটা তার পরিবারের মোটেও উচিত হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। কোথায় যাবেন কিভাবে থাকবেন এসব নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এলাকাবাসী বলছেন, যেহেতু ৯০ বছরের এই বৃদ্ধা একাই চলাফেরা করতে পারছেন না সেহেতু তাকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একটা ব্যবস্থা করা হোক। এদিকে ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান থানার ওসি। পরে নাম-ঠিকানা পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তাান্তর করা হবে।
কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, হাতে লাঠি আর একটি বস্তা নিয়ে বসে আছেন রাস্তার পাশে ৯০ বছরের একজন বৃদ্ধ। নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে শুধু বলেন, নাম মতিউর আর রংপুর বাড়ি। এর থেকে আর কিছুই বলতে পারেন না তিনি। কথাও অস্পষ্ট, হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। সন্তান-সন্ততি আছে কি না তাও জানা যাচ্ছে না। খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছেন রাস্তার ওপর। দেখার কেউ নেই। রাস্তার পথচারীরা দয়া করে কিছু দিলে খাচ্ছেন, না দিলে না খেয়ে থাকছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, আজকে দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে একটি দোকানের পাশে রেখে চলে যায়। তখন তারা তাকে মসজিদের ভেতরে রাখেন কিন্তু তিনি বর্তমানে সেই মসজিদের গেটে রাস্তার পাশে বসে আছেন। তার পরিবারের কেউ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। শুধু বলছেন রংপুর থেকে আসছি আর যাব জয়পুরহাটের পাঁচবিবি বড় মসজিদে। দেখতে মনে হবে বাবা-দাদার মতো। চুল-দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে। চোখে ছাপ পড়ে গেছে, কিছু দেখতে পারেন না। সম্বল বলতে হাতে একটি লাঠি আর একটি সাদা কাপড়ের বস্তা। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে তার থাকার একটা ব্যবস্থার করা হোক।
বৃদ্ধ মতিউর রহমান বলেন, ‘অটোরিকশায় চড়ে এখানে এসেছেন, কিন্তু কোনো ছেলেমেয়ে নেই। আরো কিছু জানতে চাইলে বলতে পারছেন না তিনি।
হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, রাস্তায় বসে থাকা সেই বৃদ্ধকে চিকিৎসা প্রদানের জন্য হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, ‘এমন বয়সে এই বৃদ্ধকে রাস্তায় থাকতে দেখে সবারই মনে প্রশ্ন রয়েই যায়, কে এর সন্তান আর কেনইবা রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে। যত বড়ই খারাপ হোক না কেন এই বয়সে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোমতেই বিবেচ্য হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ‘ওই বৃদ্ধকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়েছে। এখানে আপাতত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তার। যদি পরিবারকে পাওয়া যায় তাহলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’