• ই-পেপার

ইউজিসি মেধাবৃত্তি পেলেন বাকৃবির অনুষদসেরা ৬ শিক্ষার্থী

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি করে নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

বাসস
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দুটি করে নতুন বিষয় : মাহদী আমিন

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে নতুন বিষয় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ এবং ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা এবং ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন’ নামে আরো দুটি নতুন বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে সরকারের ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন শিক্ষাব্যবস্থা চায়, যা শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলবে। এ লক্ষ্যেই দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গার্লস গাইড, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে দেশব্যাপী ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইনোভেশন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং কর্মজীবনমুখী দক্ষতা গড়ে তোলাই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনের জন্য আরো প্রস্তুত হয়ে উঠবে।

২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু

আগামী ২০২৭ বর্ষ থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ‘পরীক্ষা পদ্ধতি’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা একটি নামমাত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখানে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসে না। ক্যাচমেন্ট এরিয়া প্লাস পরীক্ষা এই দুইটার সমন্বয়ে ভর্তি নেওয়া হবে।

এর আগে যে ভর্তি পরীক্ষার সিস্টেম ছিল— তখন ব্যাপক অনিয়ম হতো বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করে। পরে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। পরবর্তীতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয় এবং এরপর থেকে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে ফের ৬ বছর পর ফের স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকের সব দপ্তর ও বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিকের সব দপ্তর ও বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বকেয়াসহ চলতি বছরের ভূমি উন্নয়ন কর দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সব দপ্তরকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ-রাজস্ব বিভাগের সহকারী পরিচালক সেলিনা আখতার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পত্রে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে অধিদপ্তরের অধীন সব প্রতিষ্ঠানের ভূমি উন্নয়ন কর (কোড-৩৮২১১০২) পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিভাগীয় উপ পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই), উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের সব দপ্তরকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে বকেয়া ও চলতি বছরের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ভূমি উন্নয়ন কর সময়মতো পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে বিক্ষোভ

খুবি প্রতিনিধি
খুবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগে বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুপ্রস্তাব ও অশালীন বার্তা দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক রেজাউল ইসলামের কুশপুত্তলিকায় জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষকের দেওয়া বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান তারা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি তোলেন।

এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে শিক্ষক রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোনটি গত ফেব্রুয়ারিতে হারিয়ে গেছে। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। অপপ্রচার শুরু হওয়ার পর আমি আমার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছি। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে, তবে এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি। ডিসিপ্লিনের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি এবং শিক্ষার্থীদের কিছু অনিয়মে বাধা দিয়েছি। ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

তবে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অভিযোগ এড়ানোর জন্যই তিনি মোবাইল হারানোর কথা বলছেন। তারা বলেন, ‘তিনি নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং ফেসবুকেও সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পরই তিনি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেন। এর আগে সবকিছুই তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।’

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘এমন শিক্ষকের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই না। বারবার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে অশালীন আচরণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবারই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিচারের নামে প্রহসন করে। সাময়িক বহিষ্কার বা অবকাশে পাঠিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা শিক্ষক রেজাউল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করছি।’

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো উত্ত্যক্তমূলক বার্তার স্ক্রিনশট ও অন্যান্য প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেন। একইসঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের অব্যাহতির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আরো কয়েকজনের বক্তব্যও সামনে আসে।