রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুরনাহার বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বজনদের হাতে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক লাঞ্ছিতের অভিযোগ ওঠে। এরপর মরদেহ মর্গে আটকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে মরদেহের দাবিতে হাসপাতালের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন স্বজনরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শনিবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল প্রশাসন, পুলিশ ও উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত এক রোগী হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অক্সিজেন মাস্কের প্রয়োজন হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্ক না পাওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বজনরা। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাদের স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ওই চিকিৎসক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে দাবি করে রংপুর মেডিক্যালের এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকের ওপর হামলার খবর হাসপাতালের অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা দ্রুত একত্রিত হন। হামলার প্রতিবাদ এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন তারা। একই সঙ্গে হাসপাতালের মর্গের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর স্বজনরা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোগীর ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘আমাদের রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্ক না পাওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এখন বিষয়টি আড়াল করতে মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে। আমরা দ্রুত মরদেহ ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’
চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। তারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এক চিকিৎসক বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।’
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। খুব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি।’
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনা হয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






