• ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন পাঁচ শিক্ষার্থী

আনোয়ার ইস্পাতের আয়োজনে রুয়েটে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আনোয়ার ইস্পাতের আয়োজনে রুয়েটে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ
সংগৃহীত ছবি

আনোয়ার ইস্পাত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফুটবল ফেস্ট ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। গতকাল শনিবার (২৭ জুন) রোমাঞ্চকর প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ম্যাচে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থক দুই দল। মাঠজুড়ে ছিল ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা এবং প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

খেলা শেষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, আনোয়ার ইস্পাতের সম্মানিত ডিলার এবং আনোয়ার ইস্পাত এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতায় দৃক গ্যালারিতে পাঠাও-এর বিশেষ প্রদর্শনী

অনলাইন ডেস্ক
সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতায় দৃক গ্যালারিতে পাঠাও-এর বিশেষ প্রদর্শনী
সংগৃহীত ছবি

নিরাপদ সড়ক নিয়ে সবাইকে সচেতন করা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ও সুপারঅ্যাপ ‘পাঠাও’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে মাসব্যাপী ‘Safe থাকি, Safe রাখি’ কার্টুন প্রতিযোগিতা। গত ২০ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় হেলমেট ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এবং যানবাহনের ফিটনেসের মতো প্রতিদিনের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলো কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এই সচেতনতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পাঠাও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এর মাঝে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউরাপি) এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ছোটোদের সচেতন করতে একটি স্কুলে এবং 'কার্টুন পিপল'-এর সাথে মিলে গুলশান-২ এ সাধারণ মানুষের জন্য একটি লাইভ ড্রয়িং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

দেশজুড়ে দারুণ সাড়া জাগানো এই আয়োজনে বিভিন্ন শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষের কাছ থেকে ৪৫০টিরও বেশি কার্টুন জমা পড়ে। যার মধ্য থেকে বাছাই করা সেরা কার্টুনগুলো নিয়ে গত ২৬ জুন একটি সুন্দর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দৃক গ্যালারিতে বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা কার্টুনগুলোর সৃজনশীলতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তাগুলো সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ব্যক্ত করেন।

এই আয়োজন প্রসঙ্গে পাঠাও-এর সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা লক্ষ-কোটি মানুষের যাত্রার অংশ হয়েছি। আমাদের প্রতিদিনের যে কর্মক্ষেত্র, তা কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; আমাদের কর্মক্ষেত্র হলো এই রাজপথ, সারা দেশের রাস্তা। আর তাই রাস্তায় সবাইকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কারো একার কিংবা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়। এটি আমাদের সকলের একটি সামষ্টিক ও যৌথ দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘Safe থাকি Safe রাখি ক্যাম্পেইনে, আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে সবাইকে এই সচেতনতার যাত্রায় সম্পৃক্ত করার জন্য কার্টুনের মতো একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সৃজনশীল মাধ্যমকে বেছে নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, কার্টুনিস্টদের মেধা ও মনন সড়ক নিরাপত্তার মতো একটি সরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা খুব সহজেই সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকব, সবাইকে নিরাপন রাখব, শিক্ষা, সচেতনতা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আসুন আমরা এই রাজপথকে সবার জন্য নিরাপদ করে তুলি।’

অনুষ্ঠানে আগত বিশেষ অতিথি আহসান হাবিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কার্টুনিস্টদের পথচলা অনেক দীর্ঘ। আমরা যারা কার্টুন আঁকি, তাদের কাজটা শুধু একটা প্যানেলে একটা ছোট্ট ছবি এঁকে ছেড়ে দেওয়া নয়; এর পেছনে থাকে গভীর ভাবনার এক দীর্ঘ জার্নি। ‘সেফ থাকি সেফ রাখি’ ক্যাম্পেইনের এই আয়োজনে আমাদের প্রফেশনাল ও অ্যামেচার কার্টুনিস্টরা যেভাবে একটি সিংগেল প্যানেল মিডিয়ামের মাধ্যমে সামাজিক এই বার্তা ফুটিয়ে তুলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতিটি কার্টুনের পেছনে থাকা সেন্স অফ হিউমার এবং সামাজিক বার্তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি আমাদের কার্টুনিস্টরা তাদের তুলির আঁচড়ে এভাবেই সমাজ সচেতনতায় আরো বড় অবদান রেখে যাবেন ‘

তিনি আরো বলেন, ‘পাঠাও-কে ধন্যবাদ এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এই ক্যাম্পেইনটির উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সবাইকে সচেতন করা এবং প্রতিদিনের অভ্যাসের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো। কার্টুন ও সৃজনশীল গল্পের মাধ্যমে নিজেদের দৈনন্দিন যাতায়াতের অভ্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করা এবং সবার জন্য সড়ক নিরাপদ করতে অনুপ্রাণিত করাই ছিল এর লক্ষ্য।’

সারা দেশ থেকে আসা কার্টুনগুলোর বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন দেশের বিখ্যাত কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং জনপ্রিয় তরুণ শিল্পী মোরশেদ মিশু ও রাশাদ ইমাম তন্ময়। বিচারকদের রায়ে বিজয়ী সেরা ৬ জনকে মোট ১,০৫,০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০,০০০ টাকা পাচ্ছেন রাইল হোসেন। দ্বিতীয় পুরস্কার ২৫,০০০ টাকা পাচ্ছেন নাতাশা জাহান এবং তৃতীয় পুরস্কার ১৫,০০০ টাকা পাচ্ছেন ফরিদুর রহমান রাজীব। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে যথাক্রমে ৫,০০০ টাকা করে পাচ্ছেন জুরিস আল মাহি, শওকত রাসাদিন শওনি এবং মাহতাব রশিদ।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে চলমান এই প্রদর্শনীতে কার্টুন দেখার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য রয়েছে আরও অনেক আকর্ষণ। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীরা দেয়াল পেইন্টিংয়ে পার্টিসিপেট করার সুযোগ পাচ্ছেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে একটি আলোচনা সভা শুনতে পারবেন এবং একটি নাটক উপভোগ করতে পারবেন। বিনোদনের জন্য আরও থাকছে সরাসরি কার্টুন বা ক্যারিকেচার এঁকে নেওয়ার সুযোগ, মজার সব পেম এবং ছবি তোলার জন্য সুন্দর ফটো বুথ। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তরুণদের এই দারুণ উদ্যোগটি দেখার জন্য সবাইকে এই প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাও, এমন একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরি করছে যা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি সবার দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি এবং ই-কমার্স লজিস্টিকসে পাঠাও শীর্ষস্থানে রয়েছে। ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী, ৪,০০,০০০ পাঠাও হিরো ও ডেলিভারি এজেন্ট, ২,০০,০০০ মার্চেন্ট এবং ১৫,০০০ রেস্টুরেন্ট নিয়ে পরিচালনা করছে পাঠাও। প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশে ৬,০০,০০০-এরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

স্বাস্থ্যনীতি শক্তিশালী করতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু

দেশের স্বাস্থ্যখাতে নাগরিক অংশগ্রহণ, গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে “ডায়লগ অন হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ ২০২৬” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ সংলাপে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব এবং ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গভর্নিং বডির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আসিফ ইকবাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, সেরাক-বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক এস. এম. শাইকাত, ইটস হিউনিটি ফাউন্ডেশন -এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসাইন, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ -এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ -এর ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য) ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবির।

অনুষ্ঠানে “হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ” নামে একটি নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপ প্ল্যাটফরমের ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, স্থানীয় জনগণের মতামত এবং গবেষণালব্ধ তথ্যকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন ‘হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার’ নিয়ে একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক গঠন করা হবে। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা, নাগরিকদের মতামত, স্থানীয় চাহিদা ও সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সরকারি সংস্থার কাছে উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

আলোচকরা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাঁরা মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা গেলে স্বাস্থ্যখাতে আরও কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সরকারের বিকল্প নয়; বরং সরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে একটি সহায়ক নাগরিক প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের পক্ষে প্রতিটি এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ক্ষুদ্র সমস্যা জানা সম্ভব হয় না। তাই স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে তা স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের জাতীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, একাডেমিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন’। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফরমকে টেকসই করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও গবেষণার ঘাটতি নেই। দেশের গবেষকরা আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে নিয়মিত গবেষণা প্রকাশ করছেন। তবে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সেই ব্যবধান দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বক্তারা আরো বলেন, এ উদ্যোগ সরকারের সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ -ইউ এইচ সি ) অর্জনের লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এস ডি জি -৩) বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত নীতি সংলাপ, স্বাস্থ্য বাজেট বিশ্লেষণ, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচকরা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, অংশীজনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা, নিয়মিত গবেষণা এবং তথ্যভিত্তিক সুপারিশের মাধ্যমে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ দেশের স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়নে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এবং এর লোগো উন্মোচন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা উদ্যোগটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণাভিত্তিক ও নাগরিক-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি হেল্প দা ফিউচার-এর সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল স্টার্টআপ মাই ফার্মা লিমিটেড  ছিল পাওয়ার্ড বাই পার্টনার । সহযোগী হিসেবে ছিল এডুড্রাইভ , আয়ুশকান্দি আই হসপিটাল এবং বিশ্বনাথ আই হসপিটাল। কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস, ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ) এবং ইয়ুথ কানেক্ট।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)-এর সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এলপিজি ব্র্যান্ড ওমেরা এলপিজি আয়োজন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রিটেইলার এনগেজমেন্ট ক্যাম্পেইন ‘‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই’’-এর গ্র্যান্ড Winner's Night 2026।

ওমেরা এলপিজি সবসময়ই রিটেইলার্স-দের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করে। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় ব্যতিক্রমী এই ক্যাম্পেইন। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রিটেইলার্স-দের ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ডিং উপকরণ ও সিলিন্ডার ব্যবহার করে নিজেদের Retail Shop সাজিয়ে ছবি পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রিটেইলার্স-দের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশজুড়ে ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি আরও শক্তিশালী করা এবং Retail Network-এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করা। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য পরিকল্পিত হলেও সারাদেশের রিটেইলার্স -দের অভূতপূর্ব সাড়া, উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ক্যাম্পেইনের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

চার মাসব্যাপী এই আয়োজনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি Retailer অংশগ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement-এর ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ক্যাম্পেইনে জাতীয় পর্যায়ে Top 10 Winner-দের পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার সেরা Retailer-দের সম্মাননা প্রদান করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ তিন বিজয়ী হলেন—

  • চ্যাম্পিয়ন: জামালপুরের MS Raisha Trading-এর স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম রাসেল।
  • ১ম রানার-আপ: মৌলভীবাজারের Arif Sound & Lighting-এর স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলাম।
  • ২য় রানার-আপ: হবিগঞ্জের Tofazzal Diner Aroth-এর স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল।

চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পেয়েছেন দুইজনের বিদেশ ভ্রমণের আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ। এছাড়াও বিজয়ীদের জন্য ছিল মোটরসাইকেল, বিদেশ ভ্রমণ, বিভিন্ন হোম এপ্লিয়েন্স এবং আকর্ষণীয় গিফট হ্যামপার। ক্যাম্পেইনজুড়ে সাপ্তাহিক ও মাসিক বিজয়ীদেরও সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওমেরা এলপিজির সিইও তানজীম চৌধুরী, সিওও মাথীন্দ্র ডি জয়সা, সিএফও আতিয়ার রহমান, প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিজয়ী রিটেইলার্স এবং ওমেরা এলপিজির সেলস টিম-এর সদস্যরা।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মনোজ্ঞ আয়োজন এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই সন্ধ্যায় ওমেরা এলপিজির Management তাদের Retail Partners-দের আন্তরিক সহযোগিতা ও আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে নিরলসভাবে কাজ করা Field Sales Team-এর অবদানও বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

‘ওমেরার রঙে দোকান সাজাই, বিজয়ীর বেশে বিদেশ যাই" শুধু একটি ক্যাম্পেইন নয়; এটি ছিল রিটেইলার্স -দের সঙ্গে ওমেরা এলপিজির আস্থা, সম্পৃক্ততা ও অংশীদারিত্বের এক অনন্য যাত্রা। দেশজুড়ে হাজারো Retail Shop-এ ওমেরা এলপিজির ব্র্যান্ড উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাংলাদেশের এলপিজি শিল্পে Retailer Engagement ও Brand Visibility-এর ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

ওমেরা এলপিজি বিশ্বাস করে, একটি স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেয়, যখন সেই স্বপ্নে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বিশ্বাস করে। আর এই সাফল্যের প্রকৃত অংশীদার দেশের প্রতিটি রিটেইলার, যাদের ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও অংশগ্রহণেই সম্ভব হয়েছে এই অনন্য অর্জন।