• ই-পেপার

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

অনলাইন ডেস্ক
আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
আমির হামজা। ফাইল ছবি

আদলতে আত্মসমর্পণ করবেন আলোচিত ইসলামী বক্তা ও সংসদ সদস্য আমির হামজা। সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আজ রবিবার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা তার।

সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আমির হামজা আজ দুপুরে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন আমির হামজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়।

পরে ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। একই দিন আদালত তাকে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।

নুসরাত হত্যা

ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত

অনলাইন ডেস্ক
ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অন্তর্ভুক্ত
নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চের কজলিস্টে মামলাটি যুক্ত হয়।

নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যা সংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানানোয় মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর একই বছরের ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ-দৌলা, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ জন।

রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে পেপারবুক প্রস্তুত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ কারণে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও দায়ের করেছেন।

দীর্ঘদিন পর মামলাটি শুনানির কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল

রামিসা হত্যার আসামি সোহেল হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন

অনলাইন ডেস্ক
রামিসা হত্যার আসামি সোহেল হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন
সংগৃহীত ছবি

রামিসা ধর্ষণ-হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আজ রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর জেল আপিল শুনানি উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। জেল আপিলে আসামি সোহেল রানা ঘটনা স্বীকার করে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজেকে মাদকাসক্ত দাবি করেছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘আলোচিত শিশু ও নারী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সময় নেবে না। নিয়মিত শুনানি করা হবে। শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিলের পেপারবুক দ্রুত প্রস্তুত করা হবে।’

রামিসা হত্যা

সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

অনলাইন ডেস্ক
সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের জেল আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (১৪ জুন) বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষে এই শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জেল আপিলে আসামি সোহেল বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত, আর্থিক অভাবের কারণে রামিসার হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে। মাদকাসক্তির কারণে কিভাবে কী ঘটে গেছে তা-ও বুঝতে পারিনি।’

জেল আপিলে অপর আসামি স্বপ্না বলেন, ‘রামিসা হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আমাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।’

এ ছাড়া বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শিশু আছিয়া ও শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার আবেদন জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি বলেন, যেহেতু এ মামলাগুলো মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে, তাই দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করা প্রয়োজন।
 
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, এ মামলাগুলো কোনো মুলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানি করতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে, গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারের কনডেম সেলে স্থানান্তর করা হয়।
 
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা পেয়ে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। প্রধান আসামি ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।