• ই-পেপার

সারা দেশে বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সুন্দর আগামীর পথে

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন

বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের পক্ষ থেকে স্কুলে বাগান করে দেওয়া হবেএই খবরে শিক্ষার্থীরা বেশ খুশি হয়েছিল। বাগানের জন্য গাছ, বেড়া, বাঁশ স্কুল মাঠে নিয়ে আসা মাত্রই হাজির হয় একদল শিক্ষার্থী। কার আগে কে কোনটি নিয়ে যাবে এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছিল। সবার চোখে-মুখে আনন্দ খেলা করছিল। বেশ উচ্ছ্বসিত সবাই। আমাদের স্কুলে বাগান হবে। গাছে ফুটবে ফুল। ধরবে নানা ফল। বাড়বে স্কুলের সৌন্দর্য’—এভাবেই মুখস্থ পড়ার মতো আবেগ নিয়ে বলল তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরাও একই সুরে বলতে লাগল স্কুলের বাগান নিয়ে নানা স্বপ্নের কথা। এমন একটি বাগান যেন ছিল তাদের স্বপ্নে, নিত্যকল্পনায়। সবুজ পৃথিবী গড়তে এবং শিশুদের স্বপ্ন বুননে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলে বাগান করে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছে শুদ্ধতায় ২৫ বছর পেরোনো বসুন্ধরা টিস্যু।

গত ১৬ জুন মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা টিস্যুর সহায়তায় একটি বাগান করে দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ধাতুরপহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা রকম গাছে সমৃদ্ধ বাগানটি করে দেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। সবুজে সুন্দর আগামী’—এই স্লোগানে সারা দেশেই চলছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে ওই বিদ্যালয়ের বাগানে বিভিন্ন জাতের ফুল, ফল, পাতাবাহার, লেবুসহ নানা রকম গাছ লাগানো হয়েছে। বাগানের চারপাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উপহার হিসেবে বসুন্ধরা টিস্যুর বক্স দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দেবশ্রী পাল দীপা বলেন, কয়েক মাস আগে আমার বাড়ির পাশের একটি স্কুলে বাগান করে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এটি দেখে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একটি বাগান করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। আজ আমার স্কুলে বাগান হচ্ছে, খুব ভালো লাগছে। বসুন্ধরা টিস্যু ও শুভসংঘের প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃক্ষপ্রেমী ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদ খান, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জলিল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. আব্দুল হাকিম, বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা মো. সুমন মিয়া, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি জুটন বনিক, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব হুমায়ুন রহমান নয়ন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার শাহীন, আখাউড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, মুক্ত খবরের আখাউড়া প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান ও যায়যায়দিনের বিজয়নগর প্রতিনিধি আশীষ সাহা। এ ছাড়া ধাতুরপহেলা গ্রামের বিশিষ্টজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। 

মো. ইকবাল আহমেদ খান বলেন, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেছে। এই মুহূর্তে পৃথিবীকে সবুজ করার কোনো বিকল্প নেই। এটি বসুন্ধরা শুভসংঘের সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। দেলোয়ার হোসেন জলিল বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ মানেই ব্যতিক্রম কিছু। বাগান করার কার্যক্রমটি আমার কাছে দারুণ আইডিয়া মনে হয়েছে। আব্দুল হাকিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। ঠিক এই মুহূর্তে বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। হুমায়ুন রহমান নয়ন বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। বসুুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।

মায়ের পাশে দাঁড়াবেন বাবা হারা রিতা

শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান
মায়ের পাশে দাঁড়াবেন বাবা হারা রিতা

১০ বছর আগে বাবা হারিয়েছেন রিতা আক্তার। এখন মা আর ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁদের তিনজনের সংসার। বাবা ছিলেন রিতাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। বর্তমানে রিতার মা গ্রামেরই একটি কারখানায় কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। শত কষ্টেও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করেননি। রিতা স্থানীয় একটি কলেজে পড়েন। মায়ের স্বল্প আয়ে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করেন তাঁরা। পড়ার খরচ জোগাতে টিউশন করতে হয় রিতাকে। মা কখনো অসুস্থ হলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁদের। মায়ের স্বল্প আয়েই তো কোনোমতে খাবারের জোগান হয়। এ জন্য নিজের একটা অবলম্বন তৈরি করতে চাচ্ছিলেন রিতা। তাহলে সংসারে কিছুটা সহযোগিতা করা যেত, মায়ের পাশে দাঁড়ানো যেত। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই অবলম্বন তুলে দিয়েছে রিতার হাতে। তিন মাস সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে রিতার হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সেলাই মেশিন পেয়ে রিতা বলেন, ‘এটা কি স্বপ্ন না সত্যি।’ তাঁদের অভাব-অনটনের সংসার, অনেকেই জানেন, কেউ সেভাবে এগিয়ে আসেন না তাঁদের জন্য। বসুন্ধরা শুভসংঘর সদস্যরা তাঁদের খোঁজ রেখেছেন। তাঁকে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, আবার বিনামুল্যে সেলাই মেশিনও দিয়েছেন, যা একেবারেই নতুন। এ যেন সত্যিই স্বপ্নপূরণ। তিনি আরো বলেন, ‘এখন আর সংসারে অভাব থাকবে না, নিজেই কাজ করব নিজের সেলাই মেশিনে। আয় করব, তা দিয়ে সংসার এগিয়ে নেব। ছোট ভাইয়ের ছোট ছোট আবদার পূরণ করব তাকে লেখাপড়া শেখাব, মায়ের পাশে দাঁড়াব।’ নতুন সেলাই মেশিন পেয়ে চোখে তাঁর আনন্দাশ্রু। দোয়া করলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য, মহান আল্লাহপাক যেন তাঁকে ভালো রাখেন।

পরিবারের ভরসা হতে চান মীম

তরিকুল ইসলাম জেন্টু
পরিবারের ভরসা হতে চান মীম

পরিবারের বড় সন্তান শারমিন আক্তার মীম। সরকারি আজিজুল হক কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। হঠাৎ তাঁর বাবা মারা যান। তাঁর কাঁধে দায়িত্ব পড়ে সংসার সামলানোর। বাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার সামলাতেন মীম। বর্তমানে পড়াশোনা শেষ করে বাড়িতে বসে আছেন। ছোট দুই বোনের পড়ালেখা ও সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ার পর মীমের মা এবং ছোট বোনরাও বেশ খুশি। তাঁদের আনন্দ দেখে মনে হচ্ছিল, মীম এবার সত্যিকার অর্থে পরিবারের স্বপ্নপূরণের ভরসা হয়ে উঠবেন। দূর করবেন পরিবারের অর্থকষ্ট। শারমিন আক্তার মীম বলেন, ‘বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে। তিন বোনের মধ্যে আমি সবার বড়। সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজের এবং দুই বোনের পড়ালেখার খরচও জোগান দিতে হচ্ছে। বাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পড়িয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে টানাটানি করে চলছে আমাদের পরিবার। এমন দুঃসময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় পাওয়া সেলাই মেশিন আমাকে এবং পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তা হয়ে আশপাশের নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। বসুন্ধরা গ্রুপ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, আমিও একসময় অনেক মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিনামূল্যে দরিদ্র নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ করাব।’ মীমের মা আঞ্জু আরা বলেন, ‘আমার মেয়ে সেলাইয়ের কাজ করে এখন অন্তত পরিবার সামলাতে পারবে। আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের সবার জন্য অনেক দোয়া করি। বিপদে একমাত্র তাঁরাই পাশে দাঁড়ালেন।’

 

 

বসুন্ধরা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ

মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, সভাপতি, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপি

বসুন্ধরা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ

দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে বসুন্ধরা গ্রুপের এই যে মহতী উদ্যোগ, এটা দেশের অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। বগুড়ার গর্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীসমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সরকারের এমন কাজে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে এটা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। সরকারের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে বসুন্ধরার মতো বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ যদি এগিয়ে আসে, সরকারের কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। আমাদের দেশ তখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশ এগোতে বাধ্য। এ জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে।’ তাঁর সেই পরিকল্পনার মধ্যে আছে নারীদের স্বনির্ভর করা। বিএনপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা রেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে। সরকারের পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা দেশ গঠনে এগিয়ে এলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না। বিশ্বাস করি, বসুন্ধরা গ্রুপের যে উদ্যোগ, এর মতো অন্যরাও যদি এগিয়ে আসে, আমাদের অবহেলিত মা-বোনেরা যাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁরা স্বাবলম্বী হবেন। তাহলে কোনো নারী অবহেলিত থাকবেন না, তাঁরা কারো বোঝা হবেন না। যাঁরা বসুন্ধরার পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেলেন, তাঁরা মেশিনটি বিক্রি করবেন না। সেলাইয়ের কাজ করে যখন আপনি স্বাবলম্বী হবেন, তখন অন্য দরিদ্র মা-বোনকেও আপনারা কাজ শেখাবেন। তাহলেই বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিশ্রম সফল হবে।