চার মাস ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চার দফা আলোচনা হলেও কার্যত হামলা চলমান রেখেছে লেবানন ও ইসরায়েল। তবে সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ছায়ায় ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফায় শুরু হচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের সরাসরি আলোচনা।
মঙ্গলবার এই আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং তাতে লেবানন ইস্যুর অন্তর্ভুক্তি আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই। গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লেবানন-ইসরায়েল চার দফা আলোচনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংঘাত কমে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং লেবানন সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনসহ লেবাননের শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছিলেন, তেহরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না।
লেবাননের এক কর্মকর্তা এবং লেবানন ইস্যুতে কাজ করা দুই বিদেশি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যত লেবাননের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং এই সপ্তাহের আলোচনার ফলাফল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লেবাননের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এবং ইসরায়েলের মধ্যে এখনো মৌলিক আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারি না, আর তারা আমাদের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে।’
আসন্ন আলোচনায় লেবাননের প্রধান লক্ষ্য হবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি আদায় করা। তবে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের সঙ্গে একটি প্রকৃত শান্তি চুক্তি অর্জন করা।
তিনি দাবি করেন, ‘লেবাননের সঙ্গে চুক্তির পথে একমাত্র বাধা হিজবুল্লাহ। তাই আমরা বিশ্বাস করি, তাদের নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়া উচিত।’
তবে লেবানন সরকার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় হিজবুল্লাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করে ধীরে ধীরে নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক করিম সাফিয়েদ্দিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এই আলোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে ‘অসন্তুষ্ট ইসরায়েল’।
তিনি বলেন, ‘লেবাননে আপাত শান্তি এলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যা আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।’
হিজবুল্লাহর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে। ফলে তাদের মতে, সরাসরি আলোচনার চেয়ে তেহরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপরই ভরসা করা উচিত।







