• ই-পেপার

৪ মাসে হামলামুক্ত একটি দিন পেল লেবানন

লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে যত প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে যত প্রশ্ন
সংগৃহীত ছবি

চার মাস ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চার দফা আলোচনা হলেও কার্যত হামলা চলমান রেখেছে লেবানন ও ইসরায়েল। তবে সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে। সেই চুক্তির ছায়ায় ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফায় শুরু হচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েলের সরাসরি আলোচনা।

মঙ্গলবার এই আলোচনা শুরুর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং তাতে লেবানন ইস্যুর অন্তর্ভুক্তি আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ছাড়া বিকল্প নেই। গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লেবানন-ইসরায়েল চার দফা আলোচনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংঘাত কমে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং লেবানন সরকারের অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনসহ লেবাননের শীর্ষ নেতারা বারবার বলেছিলেন, তেহরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না।

লেবাননের এক কর্মকর্তা এবং লেবানন ইস্যুতে কাজ করা দুই বিদেশি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যত লেবাননের আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে এবং এই সপ্তাহের আলোচনার ফলাফল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

লেবাননের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এবং ইসরায়েলের মধ্যে এখনো মৌলিক আস্থার সংকট রয়েছে। আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারি না, আর তারা আমাদের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে।’

আসন্ন আলোচনায় লেবাননের প্রধান লক্ষ্য হবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি আদায় করা। তবে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তাদের সেনারা অনির্দিষ্টকাল সেখানে অবস্থান করবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের সঙ্গে একটি প্রকৃত শান্তি চুক্তি অর্জন করা।

তিনি দাবি করেন, ‘লেবাননের সঙ্গে চুক্তির পথে একমাত্র বাধা হিজবুল্লাহ। তাই আমরা বিশ্বাস করি, তাদের নিরস্ত্র ও ভেঙে দেওয়া উচিত।’

তবে লেবানন সরকার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় হিজবুল্লাহকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করে ধীরে ধীরে নিরস্ত্রীকরণের পথ অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক করিম সাফিয়েদ্দিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এই আলোচনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে ‘অসন্তুষ্ট ইসরায়েল’।

তিনি বলেন, ‘লেবাননে আপাত শান্তি এলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যা আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।’

হিজবুল্লাহর ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি তুলবে। ফলে তাদের মতে, সরাসরি আলোচনার চেয়ে তেহরানের কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপরই ভরসা করা উচিত।

'আইন সবার জন্য সমান’

অনলাইন ডেস্ক
'আইন সবার জন্য সমান’
সংগৃহীত ছবি

২১ বছর বয়সী গ্যাভিন হিঙ্কলে আর তার বাগদত্তা ২০ বছর বয়সী ম্যাডেলিন ফক্স তখন স্বপ্নে উড়ছিলেন, ভালোবাসার ওড়া। মাত্র এক সপ্তাহ পর তাদের বিয়ে। সে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, সামনে পড়ে থাকা গোটা জীবন সাজানোর গল্প—সব মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। হঠাৎ একটি ফোর্ড গাড়ি যমদূত হয়ে এসে তাদের বহনকারী টেসলার মাঝ বরাবর ধাক্কা দেয়। দুমড়ে-মুচড়ে যায় তাদের গাড়িটি। দুমড়ে মুচড়ে যায় দুই তরুণ প্রাণের স্বপ্নও। গ্যাভিন স্বপ্ন থেকে স্বপ্নে হারিয়ে যান। ম্যাডেলিন বেঁচে আছেন, তবে বেঁচে না থাকলেই বোধহয় ভালো হতো। স্বপ্ন হারিয়েছেন, প্রিয়তম চলে গেছে চিরতরে, নিজের জীবন আটকে গেছে বিছানায়। কিছুদিন কোমায় থেকে ম্যাডেলিন এখন স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার।

যে গাড়িটি যমদূত হয়ে এসেছিল সেটি চালাচ্ছিলেন গ্লিন উইলবার্ন নামক একজন ডেপুটি শেরিফ। তিনিও রাস্তায় একটি গুলির খবর পেয়ে সাইরেন বাজিয়ে, লাল বাতি জ্বালিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটছিলেন। অবশ্য দুর্ঘটনার ঠিক আগে তিনি জানতে পারেন, তার আগেই অন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গেছে এবং সন্দেহভাজন গাড়িটিও আর সেখানে নেই।

একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের সিগনাল অমান্য করা গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন একজন, গুরুতর আহত হয়েছেন আরো একজন। তাই ঘটনাটি তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার বিউমন্ট এলাকায়। গত সেপ্টেম্বরে এই দুর্ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তবে ঘটনার ৯ মাস পর নতুন করে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ রিভারসাইড কাউন্টি অফিসের ডেপুটি শেরিফ ৪২ বছর বয়সী উইলবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়ে তার বিচার শুরুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসতর্ক গাড়ি চালিয়ে হত্যা এবং অসতর্ক গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। 

গত সপ্তাহে রিভারসাইড কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিচার শুরুর কথা জানিয়ে বলা হয়, উইলবার্নকে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানায়, ‘একটি গুলির খবর পেয়ে উইলবার্ন বিউমন্ট থেকে ক্যালিমিসায় যাচ্ছিলেন। চেরি ভ্যালি বুলেভার্ড দিয়ে আনুমানিক ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে যাওয়ার সময় উইলবার্ন একটি ইন্টারসেকশনে প্রবেশ করেন এবং সিগনাল অমান্য করে ঘণ্টায় প্রায় ৭১ মাইল গতিতে চলা একটি বেসামরিক গাড়িকে পাশ থেকে ধাক্কা দেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়, উইলবার্ন চরম অবহেলার সাথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি সিট বেল্ট পড়া ছিলেন না। তদন্তে দেখা গেছে, ধাক্কা লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে উইলবার্ন সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, স্টিয়ারিং হুইলটি ডানদিকে ঘুরিয়েছিলেন, এক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে নিয়েছিলেন, ব্রেক চেপেছিলেন, ফলে গতি অনেকটাই কমে এসেছিল। তারপরও অতিরিক্ত গতির কারণে তিনি সিগনালে থামতে পারেননি। 
 
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উইলবার্নের অবহেলাই ছিল চালক গ্যাভিনের মৃত্যু এবং যাত্রী ম্যাডেলিনের গুরুতর আঘাতের কারণ।’ গ্যাভিনের পরিবার ডিস্ট্র্রিক্ট অ্যাটর্নির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আইনের লোকের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের বিরুদ্ধে হতার মতো গুরুতর অভিযোগ আমলে নেয়া প্রমাণ করে, আইন সবার জন্য সমান। তবে একই সঙ্গে এই ঘটনায় বেশকিছু বিষয় সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান? দুর্ঘটনায় উইলবার্ন নিজেও আহত হয়েছিলেন। তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না। কিন্তু দুর্ঘটনার পর আসা উদ্ধারকারীরা গুরুতর আহত গ্যাভিন ও ম্যাডেলিনকে ফেলে সামান্য আহত হওয়া ডেপুটি শেরিফকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা উইলিবার্নকেই আগে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অথচ দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারলে গ্যাভিন বেঁচে যেতে পারতেন, ম্যাডেলিনের ক্ষতিও অনেক কম হতে পারত। এখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন। 

একজন দায়িত্বরত ডেপুটি শেরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের স্পর্শকাতরতার বিষয়টিও মাথায় আছে প্রসিকিউটরদের। রিভারসাইড কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি মাইকেল হেস্ট্রিন বলেছেন, ‘যখন কোনো মামলায় কর্মরত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা জড়িত থাকেন, তখন সেই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব। যার মধ্যে রয়েছে যে ঘটনা শুনে ডেপুটি শেরিফ ছুটে যাচ্ছিলেন তার ধরন, ডেপুটি শেরিফের প্রতিক্রিয়া এবং জরুরি যানবাহন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড।’ তবে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ম্যাডেলিনের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। কোনো ব্যাজ, পদবি বা অবস্থান কাউকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না, বিশেষ করে যখন কারো বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে এমন বিধ্বংসী পরিণতি ঘটে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গ্যাভিন এবং ম্যাডেলিনের সাথে যা ঘটেছে তা ঠেকানো সম্ভব ছিল। ডেপুটি শেরিফকে উল্লেখযোগ্য কর্তৃত্ব এবং দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি জরুরি যানবাহন চালানোর সাথে সম্পর্কিত বাধ্যবাধকতাগুলো বুঝতেন। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা অবশ্য কিছু আইনী বিশেষ অধিকার পান। কিন্তু সে বিশেষ অধিকারগুলো কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন অন্যদের নিরাপত্তার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে তা প্রয়োগ করা হয়।’

এ মামলার শুনানির তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তবে সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগ, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার পাওয়া বিশেষ অধিকার, জরুরি যানবাহন পরিচালনার নীতি, উদ্ধারকারীদের অগ্রাধিকার নীতি- এমন অনেকগুলো গুরুতর বিষয় এখানে নিষ্পত্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্যাভিন ও মাডেলিনের পরিবারও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। ম্যাডেলিনের বাবা-মা এক বিবৃতিতে বলছেন, ‘আশা করি এ বিচার একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, যাদের ওপর জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ড যখন অকল্পনীয় ক্ষতির কারণ হয়, তখন তাদেরও অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
 

শুরু হয়েছে 'সুপার এল নিনো', বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের সতর্কতা নাসার

অনলাইন ডেস্ক
শুরু হয়েছে 'সুপার এল নিনো', বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের সতর্কতা নাসার
সংগৃহীত ছবি

পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে জারি করা ‘রেড হিট অ্যালার্ট’-এর মধ্যে অরেকটি দুঃসংবাদ দিল নাসা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা নিশ্চিত করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে 'সুপার এল নিনো' শুরু হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত সেন্টিনেল-৬ মাইকেল ফ্রেইলিচ স্যাটেলাইট আট জুন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা শনাক্ত করে। এই তথ্যই এল নিনোর শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। নাসা জানিয়েছে, সমুদ্রের পানি গরম হলে তা প্রসারিত হয়, ফলে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। তাই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সমুদ্রের তাপমাত্রা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়।

'এল নিনো' একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। যখন এটি শক্তিশালী আকার ধারণ করে, তখন তাকে 'সুপার এল নিনো' বলা হয়। এই সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও উচ্চতা দুই-ই বৃদ্ধি পায়, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। নাসা সতর্ক করে বলেছে, এবারের সুপার এল নিনোর প্রভাব ব্যাপক হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার এল নিনোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই তীব্র গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এই অবস্থার কারণে উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বড় অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায়ও দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ আবহাওয়া থাকতে পারে।

সেন্টিনেল-৬ প্রকল্পের বিজ্ঞানী ডা. সেভেরিন ফুরনিয়ে বলেন, ১৯৯৭ সালের বড় এল নিনো ঘটনার সঙ্গে চলতি বছরের আট জুনের পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি অনেকটাই মিল রয়েছে। ১৯৯৭ সালের সেই এল নিনো ছিল ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু পরিস্থিতি। এবারকার পরিস্থিতিও একই ধরনের শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুপার এল নিনো শুধু তাপমাত্রাই নয়, বৃষ্টিপাতের ধরনও বদলে দেয়। এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। যেমন—দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং আফ্রিকার কিছু এলাকা। অন্যদিকে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। উনিশ শতকের কিছু ঘটনায় ভারত, চীন ও ব্রাজিলে দুর্ভিক্ষে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। 
 

সমঝোতা বাস্তবায়নে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
সমঝোতা বাস্তবায়নে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আলোচনা সফল হওয়ার জন্য উভয়পক্ষের সম্মত বাধ্যবাধকতার প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আলোচনার কার্যকারিতা নির্ভর করে সম্মত দায়িত্বগুলোর প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার এবং সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে গৃহীত দায়িত্বগুলো বাস্তবে কতটা পালন করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে। সম্মত পাঠ্যের বাইরে দেওয়া বক্তব্য আলোচনা এগিয়ে নিতে সহায়ক নয়।’

পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের মাধ্যমে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে অবমুক্ত হওয়া ইরানি তহবিলের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাবির কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত।