• ই-পেপার

মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে পারেন নেতানিয়াহু, মার্কিন গোয়েন্দাদের হুঁশিয়ারি
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন,  যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।

বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে দেশের ভেতরে প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। এই চাপের কারণে তিনি লেবাননে চলমান যুদ্ধ অব্যাহত রাখার দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে এমন পদক্ষেপ নবগঠিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করবে, যেখানে লেবাননে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলের এই অবস্থান আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে নেওয়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কোনো সামরিক হামলা চালানো উচিত নয়, যে হামলা ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই বিশ্লেষণটি এমন এক সময়ে এলো, যখন নেতানিয়াহুর সরকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কোনো হামলা না চালানোর জন্য ইসরায়েলকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছে, যার কারণে  ট্রাম্পের চুক্তিটিকে ব্যাহত করতে পারে।

শুক্রবার, হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান হামলা চালায়। সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া আলোচনা তারা স্থগিত করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের, তিনিও তার সফর স্থগিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি লেবাননে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করেন, তাহলে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না, বরং এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারেন।

লেবানন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সামান্য মতবিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলি নেতাকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, তিনি নেতানিয়াহুকে বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর কোনো সদস্য কোনো ভবনে ঢুকলেই যেন সেটি ধ্বংস করে না ফেলা হয়।’

প্রতিবেদনটির বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, আসন্ন শরতের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে তিনি তার সমর্থকদের কাছে কতটা দৃঢ় অবস্থান দেখাতে পারেন, তার ওপর।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মতে, নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের বোঝাতে চাইছেন যে, তিনি লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করবেন না এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরো জোরদার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দেন। একই কারণে সাক্ষাৎকার দেওয়া অন্য কর্মকর্তারাও পরিচয় গোপন রেখেছেন।

একজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার শিকার হলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে। 

তাদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার যুদ্ধবিরতি বা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারকে রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখতে পারে। এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহর হামলা থেকে ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হিজবুল্লাহ হামাসের সঙ্গে মিলে ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে ইসরায়েলে শক্ত জনসমর্থন রয়েছে। উত্তর ইসরায়েলে হামলার কারণে ঘরছাড়া হওয়া হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কাছে হিজবুল্লাহকে দমন করার দাবি জানিয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিলে ভোটাররা এটিকে পরাজয় হিসেবে দেখবেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যদি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সেনা না সরায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নাজুক সমঝোতা ভেঙে পড়তে পারে। এতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক হ্যারিসন ম্যান বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভোটারদের দেখাতে চাইছেন যে তিনি নিরাপত্তা ও যুদ্ধের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। চাইলে ওয়াশিংটন অস্ত্র, সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া সীমিত করতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য যুদ্ধ চালানো আরো কঠিন করে তুলবে।

বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইসরায়েলের ওপর কিছু চাপ দিলেও কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ খুব কমই নিয়েছেন। তবে তার মতে, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা চালাতে থাকে, তাহলে ট্রাম্প আপত্তি করলেও নেতানিয়াহু পাল্টা জবাব দেবেন

রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে নিহত এক, আহত নয়

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে নিহত এক, আহত নয়
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার আকাশপথের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো নয়জন। শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে আছে। একই সময়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা আরো বাড়িয়েছে। খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় 'লক্ষ্য ভিত্তিক আকাশ বোমা' হামলা চালানো হয়। এতে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন নারী আটকা পড়েন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান মেয়র। তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ জানান, হামলাটি খারকিভের খোলদনোহিরস্কি জেলায় হয়েছে। এতে মোট নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলেও নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। জেলেনিভকা এলাকায় ৭২ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। একই অঞ্চলের কোরাবেলনি জেলাতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শনিবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সারা রাত ইউক্রেনের ১৮৭টি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এসব ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে বেশিরভাগই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে।

দুই দিন আগেই ইউক্রেন রাশিয়ার মস্কোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় আগুন লেগে একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মস্কোর একটি প্রধান বিমানবন্দর থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়।
 

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৫
ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ইসরাইলি হামলা হয়েছে। গত রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত এসব হামলা চালানো হয়- জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আরব সালিম গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর দুই দিক থেকে চালানো হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেইর আল-জাহরানি পৌর এলাকায় আরেকটি হামলায় নিহত হন আরো একজন। আরেকটি ঘটনায় দেইর গ্রামের পূর্ব প্রবেশপথে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতেও একজন নিহত হয়েছেন।

আল-নুমাইরিয়াহ গ্রামে চালানো বিমান হামলায় একাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে ওই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরাইলি যুদ্ধবিমান কাফর গোজ গ্রামে একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এর মাত্র আধা ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে একই এলাকায় আরেকটি ভবনেও হামলা চালানো হয় এবং সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া কফার রিমান, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা, শুকিন, হাব্বুশ, জেবদিন, সাজদ এবং মাহমুদিয়াহ গ্রামেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে নাবাতিয়েহ শহরের রাহবাতে এলাকা এবং আশপাশে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এসব হামলা এমন সময় হয়েছে যখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ফলে নতুন করে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দক্ষিণ লেবাননে।


 

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এইচ৫এন১ শনাক্ত, বার্ড ফ্লু এখন সব মহাদেশে

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এইচ৫এন১ শনাক্ত, বার্ড ফ্লু এখন সব মহাদেশে
ছবি : রয়টার্স।

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ স্ট্রেইনটি প্রথমবারের মতো সেখানে শনাক্ত হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই অত্যন্ত সংক্রামক প্রজাতিটি এখন প্রতিটি মহাদেশে পৌঁছে গেছে। শনিবার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানিয়েছেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখি `ব্রাউন স্কুয়ার' মধ্যে রোগটি শনাক্ত হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম অনুসারে, পাখিটিকে পার্থ থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৪ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে এস্পেরান্স শহরের কাছে কেপ লে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্কের একটি সৈকতে পাওয়া গেছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াই ছিল একমাত্র মহাদেশ যেখানে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু স্ট্রেইনটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এই স্ট্রেইনটি হাঁস-মুরগি এবং বন্য পাখিদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই রোগের কারণে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। কলিন্স একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা সবাই জানতাম যে আমরা চিরকাল বার্ড ফ্লু-মুক্ত থাকতে পারব না।’

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর আরও একটি সন্দেহজনক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, এস্পেরান্সের একটি সৈকতে ক্লান্ত অবস্থায় একটি সাউদার্ন পেট্রেল পাখি পাওয়া গেছে, যা বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, বর্তমানে ব্যাপক হারে পাখির মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা এবিসির প্রতিবেদনে বিপন্ন প্রজাতি বিষয়ক কমিশনার ফিওনা ফ্রেজার জানান, অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রাণীগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দিনের মধ্যেই নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা বেথ কুকসন জানান, এই পরিস্থিতির জন্য কর্তৃপক্ষ অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ কারণে জরুরি পশুরোগ বিষয়ক কমিটি শনিবার বৈঠকও করেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ ধরন শনাক্ত হয়।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকে হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার সীল শাবকের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারই এইচ৫এন১ সংক্রমণে মারা গেছে। অর্থাৎ, পুরো দলের ৭৫ শতাংশেরও বেশি শাবক মারা পড়েছে। গবেষকরা পেঙ্গুইনের মধ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মৃত্যুর ঘটনা লক্ষ্য করেছেন।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরাসি নিয়ন্ত্রিত ক্রোজে দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে গত আগস্টে এই দ্বীপগুলোতে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে।

বার্ড ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত পাখিদের আক্রান্ত করে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শিয়াল, সীল ও উদবিড়ালের মতো অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়াতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বন্য পাখিদের মধ্যে যে ধরনের বার্ড ফ্লু সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে, সেটি হলো এইচ৫এন১ ভাইরাস। এই ভাইরাসটি ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে চীনে প্রথম শনাক্ত হয়।

পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে এই রোগ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং গৃহপালিত ও বন্য পাখিদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়। খুব কম ক্ষেত্রে, আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে।