• ই-পেপার

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অভিবাসন নীতি কার্যকর

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৩ হাজার

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৩ হাজার
রয়টার্স ছবি

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৮৩ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তারা।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ৯৯৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ জনেরও বেশি মানুষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপে রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং জ্বালানির সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

‘ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না’

অনলাইন ডেস্ক
‘ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না’
সংগৃহীত ছবি

ইরানিরা আমেরিকানদের একেবারেই বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই। তিনি বলেন, ‘এই অবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা।’

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা।

তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরান শত্রুদের নেতৃত্বকে নির্মূল করতে এবং আগ্রাসীদের শক্তি ভেঙে দিতে সফল হয়েছে।

মোহসেনি এজেই বর্তমান যুদ্ধের শুরুতে গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, নিহত হওয়ার পর এই পরিষদ তেহরানের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
১২ লাখ ইউরোর গহনা জব্দ, তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : স্প্যানিশ ন্যাশনাল পুলিশ

স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ সাপাতেরো নতুন একটি তদন্তের মুখে পড়েছেন। তার কাছ থেকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গহনা উদ্ধারের পর তিনি নতুন এই তদন্তের মুখে পড়েছেন।  

সাপাতেরো ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্ব দেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলে প্রভাবশালী। এর আগে ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে দেওয়া সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইলআউট) নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগেও তিনি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন।

সেই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে তার অফিসে অভিযান চালানো হয়। স্প্যানিশ গণমাধ্যম জানায়, সেখানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল পাওয়া যায়। তার মুখপাত্র লুইস আরোয়ো জানিয়েছেন, তিনি বিচারকের সামনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব গহনা জিম্বাবুয়ে বা থাইল্যান্ড থেকে আসা স্বর্ণ, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি। তদন্তকারীদের দাবি, এসব গহনার শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে না পারার কারণে সাপাতেরোকে কর ফাঁকি ও চোরাচালানের সন্দেহে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা আগে জানিয়েছিলেন, এসব জিনিস পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া।
তিনি এ মাসের শেষ দিকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে।

স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আনা হলো। এর আগে অন্য কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে তলব করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি। এই ঘটনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ঘিরে চলমান বিতর্কের সর্বশেষ সংযোজন। জাপাতেরো দলটির একজন প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। 

প্লাস আলট্রা মামলায় জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫৩ মিলিয়ন ইউরোর সরকারি বেইলআউট অনুমোদনে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন নিয়েছিলেন। তবে তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

কভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার জন্য গঠিত একটি সরকারি তহবিল থেকে ওই বেইলআউট অনুমোদন করা হয়েছিল। গত মাসে কথিত দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সোশ্যালিস্ট পার্টির মাদ্রিদ সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু নথি জব্দ করে।

এ ছাড়া দলের এক শীর্ষ নেতা এবং এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী ও ভাইসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া
সংগৃহীত ছবি

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে চালানো রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার হামলার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে আরো বেশি সংগঠিত ও দক্ষ হয়ে উঠেছে। তারা এখন শুধু কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশই করছে না, বরং ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিচ্ছে। এ কাজে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের তথ্য অনুযায়ী, 'ফেমাস চোল্লিমা' নামে পরিচিত একটি উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার কার্যক্রমের ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানটি এই গোষ্ঠীকে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে সক্রিয় সাইবার হুমকিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দূর থেকে কাজ করার চাকরির জন্য আবেদন করে। তারা নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়।

এই পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা পাসপোর্ট, জাল পরিচয়পত্র এবং ভুয়া নথিও কাজে লাগানো হয়। চাকরি পাওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। বাইরে থেকে তাদের সাধারণ কর্মী মনে হলেও ভেতরে তারা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে।

ক্রাউডস্ট্রাইক বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও কৌশলগত- দুই ধরনের সুবিধাই পায়। হ্যাকারদের বেতন শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকারের কাছে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে তারা কোম্পানির গোপন তথ্য, প্রযুক্তিগত নকশা, মেধাস্বত্ব এবং ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করে।

কিছু ক্ষেত্রে চুরি করা তথ্য পরে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করে এবং অর্থ না দিলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন খাত। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং ব্লকচেইন ডেভেলপারদের তারা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

ক্রাউডস্ট্রাইকের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়া এখন ক্রমেই সাইবার চুরি ও ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার নাম উঠে এসেছে।

ক্রাউডস্ট্রাইক আরো জানিয়েছে, বর্তমানে 'হ্যান্ডস-অন-কিবোর্ড' ধরনের সাইবার হামলার ব্যবহার বাড়ছে। এ ধরনের হামলায় শুধু স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করা হয় না। বরং হামলাকারীরা সরাসরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে।

চুরি করা ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আগে থেকেই থাকা বৈধ সফটওয়্যার ও সরঞ্জাম কাজে লাগায়। ফলে অনেক সময় তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ব্যবহারকারীর কাজের মতো দেখায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।