• ই-পেপার

আত্মঘাতী গোলে অতিরিক্ত সময়ে গড়াল মিশরের ম্যাচ

কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ, রক্ষণে চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশ, রক্ষণে চমক

শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে আজ ভোরে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে লিওনেল স্কালোনির দলে আবার শুরুর একাদশে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। 

আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হচ্ছেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর হুলিয়ান আলভারেজ থাকছেন বেঞ্চে। এছাড়া একাদশে চমক আছে একটি। সেটি হলো নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে ফাকুন্দো মেদিনা লেফট-ব্যাকে শুরু করবেন।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো দি পল, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি ও লাওতারো মার্তিনেজ।

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম নকআউট ম্যাচ জিতল মিশর। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানের এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিটও নিশ্চিত করলেন মোহাম্মদ সালাহরা। এর আগে ১৯৩৪ সালে শেষবার নকআউটে খেলেছিল মিশর।

টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে গড়বড় করে বসে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। বারের ওপর দিয়ে বল মেরে দেন তিনি। এরপর মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা সকারুজদের স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল পায়।

তৃতীয় শটে ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। আওয়ার মাবিল গোল করেন। মিশরের তৃতীয় শটও হয় ঠিকঠাক। চতুর্থ স্পটকিক মিস করে অস্ট্রেলিয়াকে বেকাদায় ফেলেন ১৮ বছর বয়সী হেরিংটন। এরপর আবদেল বল জালে জড়ালে উৎসব শুরু হয় মিশরের।

এর আগে প্রথমার্ধ শেষে ইতিহাস গড়ার সুবাস পাচ্ছিল মিসর। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের এক চরম নাটকীয়তায় অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ফিরতেই যেন সব ওলটপালট হয়ে যায়।

ম্যাচের মাত্র ১৩ মিনিটেই ইমান আশুরের সেই চোখধাঁধানো গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছিই পৌঁছে গিয়েছিল তারা।

কিন্তু ফুটবল বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় স্তব্ধ হয়ে যায় মিসর শিবির।

অস্ট্রেলিয়ার একটি ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বল ডি-বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন মিসরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। কিন্তু টাইমিংয়ের গড়বড়ে বল ঠিকঠাক সংযোগ না হয়ে উল্টো নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়! হানির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আত্মঘাতী গোলেই সমতায় ফেরে সকারুজরা।

এরপর বাকি সময়ে দুই দলই লিড নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়লেও জালের দেখা মেলেনি আর।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ১-১ সমতায় ম্যাচ গড়ায় ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কেউ শেষ হাসি হাসতে না পারায় শুরু হয় স্নায়ুক্ষয়ী টাইব্রেকার।

২ গোল করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিশরের ডিফেন্ডার!

ক্রীড়া ডেস্ক
২ গোল করে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বিশ্বরেকর্ড গড়লেন মিশরের ডিফেন্ডার!
সংগৃহীত ছবি

ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলের লাইনে পজিশন নিয়েছিলেন নিখুঁতভাবেই। উঁচুতে লাফিয়ে উঠে মাথাও ছোঁয়ালেন দারুণভাবে। বল গিয়ে আছড়ে পড়ল জালে! কিন্তু এমন নিখুঁত ফিনিশিংয়ের পরও বুনো উল্লাসের বদলে দুই হাতে মুখ ঢেকে মাঠেই মুষড়ে পড়লেন মোহামেদ হানি। কারণ, বলটি তিনি প্রতিপক্ষের নয়, জড়িয়েছেন নিজেদের জালেই!

ডালাস স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে এই এক আত্মঘাতী ভুলেই যেন ‘ট্র্যাজিক হিরো’ বনে গেলেন ৩০ বছর বয়সী মিসরীয় ডিফেন্ডার। আর এই এক গোলের সৌজন্যেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিলেন হানি, যা কোনো ফুটবলারই কখনো স্বপ্নেও চাইতে পারতেন না।

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। সেদিনও লাল-সবুজ জার্সিধারীদের পয়েন্ট হারানোর নেপথ্য খলনায়ক ছিলেন এই হানি। বেলজিয়ামের সেই একমাত্র গোলটিও এসেছিল তারই আত্মঘাতী উপহার থেকে।

আর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফের নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক ‘আত্মঘাতী’ গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এখন পর্যন্ত হানির মতো দুর্ভাগ্য সঙ্গী করে গোল করেছেন আরও ৬৫ জন ফুটবলার। তবে অভিশপ্ত সেই তালিকায় দুইবার নাম লেখানোর নজির নেই আর কারও!

হানির এই ‘উপহার’ অবশ্য ২০২৬ বিশ্বকাপকেও তুলে দিয়েছে ইতিহাসের নতুন পাতায়। চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মোট ১৩টি আত্মঘাতী গোল দেখল ফুটবলবিশ্ব, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল দেখেছিল দর্শকেরা।

কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
কেন হোটেলের ঠিকানা গোপন রেখে ‘ঘুমপাড়ানি মেশিন’ লাগাচ্ছে ইংল্যান্ড
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহারণ। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মেক্সিকো। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের নানা সমীকরণ আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ভাবিয়ে তুলছে ইংল্যান্ড শিবিরকে। স্বাগতিক মেক্সিকান সমর্থকদের সম্ভাব্য ‘শব্দসন্ত্রাস’ রুখে দিয়ে হ্যারি কেইনদের শতভাগ চনমনে রাখতে এবার নজিরবিহীন বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে থ্রি-লায়নরা।

মেক্সিকোর অতিউত্সাহী সমর্থকদের বিরক্ত করার রেকর্ডটা বেশ পুরোনো। শেষ বত্রিশের ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইকুয়েডরের। তাদের অভিযোগ ছিল, গভীর রাতে হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে লাউডস্পিকার, হর্ন আর মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে ফুটবলারদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল স্থানীয় সমর্থকেরা। জল ঘোলা হয়েছিল ফিফার সদরদপ্তর পর্যন্ত। সেই একই ফাঁদে পা দিতে নারাজ ইংল্যান্ড। ফুটবলারদের পর্যাপ্ত ঘুম আর বিশ্রাম নিশ্চিত করতে রীতিমতো গোপন মিশন বেছে নিয়েছে তারা; গোপন রাখা হয়েছে দলের হোটেলের অবস্থান!

অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হোটেল লোকেশন কতক্ষণ গোপন থাকবে, তা নিয়ে খোদ ইংলিশদের মনেই ধন্দ আছে। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই বিশেষ বন্দোবস্ত করে রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যেসব ফুটবলার বা স্টাফ সঙ্গে শব্দরোধক (ইয়ারপ্লাগ) বা ঘুমের সরঞ্জাম আনেননি, তাদের জন্য প্রাকৃতিক ঘুমের উপকরণ এবং বিশেষ সাউন্ড-মাস্কিং যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ম্যাচের আগের দিন স্বাগতিক শহরে আংশিক উন্মুক্ত অনুশীলন করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে ম্যাচের আগের রাতে নয়, বরং দুই দিন আগেই মেক্সিকো সিটিতে আস্তানা গেড়েছে ইংল্যান্ড।

তবে শুধু সমর্থকদের কোলাহলই নয়, ইংলিশদের আসল পরীক্ষা নেবে মেক্সিকো সিটির ভৌগোলিক অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই শহরের পাতলা বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম, যা সমতল থেকে আসা ফুটবলারদের দম ফুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিপরীতে, চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের চারটি ম্যাচই এমন উচ্চভূমিতে খেলেছে মেক্সিকো। এর মধ্যে তিনটি মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে এবং একটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৫৬৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত গুয়াদালাহারায়।

সাধারণত এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে (অ্যাক্লিম্যাটাইজেশন) যেকোনো অ্যাথলেটের অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। কিন্তু ইংল্যান্ডের হাতে সেই বিলাসের সুযোগ নেই। দলের হেড কোচ টমাস টুখেলও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে অকপটে বললেন, ‘উচ্চতা আমাদের জন্য বড় একটা অসুবিধা হতে যাচ্ছে। এত অল্প সময়ে, বিশেষ করে মাত্র চার দিনে এর সঙ্গে শারীরিকভাবে মানিয়ে নেওয়া অসম্ভব। এই সুবিধাটা মেক্সিকো আগে থেকেই পাবে এবং আমরা তা জানতাম। আমাদের এখন শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমার দল সেই মানসিকতা নিয়েই প্রস্তুত।’