আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা লিংগুয়াস্কিল বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করতে চালু করা এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সমৃদ্ধ, অনলাইন ও অন-ডিমান্ড এই মূল্যায়ন ব্যবস্থা দ্রুত, নমনীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলো বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রয়োজনীয় ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারবে।
লিংগুয়াস্কিল উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমাতে ব্যবহারিক ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা এমন একটি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন শিল্পখাত বাস্তব জীবনের ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রয়োজন থেকেই কেমব্রিজ একটি আধুনিক ও বাজার-উপযোগী সমাধান তৈরি করেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।’
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক যোগাযোগ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে লিংগুয়াস্কিল তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগকারী সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান কর্মবাজারে শুধু একাডেমিক বা কারিগরি জ্ঞান যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, উপস্থাপনা দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং ইতিবাচক মানসিকতা ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি চর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই ব্যবধান কমাতে সহজলভ্য ও কার্যকর শিক্ষণ-উপকরণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ডালসে লামাগনা বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি নাটক, উপস্থাপনা, প্রতিযোগিতা এবং শিল্পখাতভিত্তিক সিমুলেশনের মতো অভিজ্ঞতাভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ম্যারিয়ট কাউন্সিল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. আল-আমিন বলেন, আতিথেয়তা খাতে কার্যকর যোগাযোগ গ্রাহকের আস্থা তৈরি এবং সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, ক্রিয়েটিভ গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ইংরেজি শুধু মানুষের সঙ্গে নয়, প্রযুক্তির সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগের একটি অপরিহার্য দক্ষতায় পরিণত হয়েছে।
সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশের কান্ট্রি এইচআর প্রধান উপালা শফিক বলেন, বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পাশাপাশি ডিজিটাল সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।
আলোচনায় আরো উঠে আসে, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে ইন্টার্নশিপ, শিল্পখাত-নেতৃত্বাধীন অতিথি বক্তৃতা, মেন্টরশিপ, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার পর থেকেই কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারে।
কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ইংলিশ) মো. বদরুদ্দোজা এবং মার্কেটিং ম্যানেজার রাজগীর দেওয়ান।
গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ইংলিশোলজির চিফ বিজনেস লিড সাবিহা আশালতা। ইংলিশোলজি কেমব্রিজ ইংলিশের অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশের প্রথম অনুমোদিত লিংগুয়াস্কিল সেন্টার। কেমব্রিজের কৌশলগত মূল্যায়ন অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি শিক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার পাশাপাশি শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে আরো শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডভিত্তিক ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মপরিবেশে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাবে।




