প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। কিন্তু এরপর তারা তিন গোল খেয়ে বসে। ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয়ে সেনেগালকে বিদায় করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্বে উঠেছে বেলজিয়াম।
হৃদয়বিদারক এই হারের পর সেনেগালের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। কোচিং স্টাফের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছে পাপে গেয়ে। ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাপে থিয়াউয়ের নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফ দায়িত্বে থাকলে তিনি আর কখনো দেশের হয়ে খেলবেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে পাপে গেয়ে লিখেছেন, ‘এই বিদায় নিয়ে আপনাদের কিছু কথা বলতে আমি আবারো ফিরে আসব। তবে আজ আমি ঘোষণা করছি যে, বর্তমান কোচিং স্টাফ দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমি জাতীয় দল থেকে বিরতি নিচ্ছি।’
ম্যাচের গল্পটা অবশ্য হতে পারত অন্য রকম। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের হাতেই। মনে হচ্ছিল, অনায়াসেই পরের রাউন্ডে যাচ্ছে তারা। চলতি বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে থাকা পাপে গেয়ে নিজেও টুর্নামেন্টে দুটি গোল করেছেন।
ম্যাচের ৬০ মিনিট পার হওয়ার কিছু পরেই কোচ পাপে থিয়াউ রক্ষণ সামলে লিড ধরে রাখার কৌশল নেন। তিনি পাপে গেয়েকে তুলে মাঠে নামান লামিনে কামারাকে। আর এটাই হয়তো কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচের শেষ চার মিনিটে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্সের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আবারো হতাশ হতে হয় সেনেগালকে।
বক্সের ভেতর সেনেগালের বদলি খেলোয়াড় কামারার একটি ফাউল ভিএআরে ধরা পড়লে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম। স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত করেন টিলেমান্স।
দুই গোলে এগিয়ে থেকেও এমন পরাজয় যেমন মেনে নিতে পারেনি সেনেগালের সমর্থকরা, তেমনি মেনে নিতে পারেননি পাপে গেয়েও। কোচের কৌশল আর সিদ্ধান্তের ওপর এই মিডফিল্ডারের ক্ষোভ কতটা তীব্র, সেটা তার এই অভিমানেই স্পষ্ট।
একবুক হতাশা আর কোচের ওপর একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের সমান্তরালে জাতীয় দলকেও একরকম বিদায় বলে দিলেন স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের খেলোয়াড় পাপে গেয়ে।




