• ই-পেপার

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে যা জানা গেল

বাংলাদেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু নিয়ে মুখ খুলল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু নিয়ে মুখ খুলল ভারত
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালুর পর পরই নতুন ঘোষণা দিল ভারত। যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা নিয়ে দেশটির রেলওয়ে বিভাগ জানিয়েছে, কথাবার্তা চলছে, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। নির্দেশ আসলেই এ পরিষেবা চালু করতে প্রস্তুত তারা।

বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় পূর্ব রেলের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজিব সাক্সেনা, পূর্ব রেলের একাধিক কর্মযজ্ঞ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এসময় এ ইঙ্গিত দেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজিব সাক্সেনা জানান, কথাবার্তা চলছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এখন যখন মনে হবে পরিস্থিতি ঠিকঠাক হচ্ছে, আমাদের কাছে যখনই নির্দেশ আসবে আমরা তখনই চালু করে দেবো।

জুলাই আন্দোলনের সময় দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা আসে। যখন এই ঘোষণা আসে তখন বাংলাদেশেই আটকা পড়ে মিতালী এক্সপ্রেস। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের মাটিতে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে ভারতের মিতালী এক্সপ্রেসের কোচগুলো একেবারেই যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় কোচগুলি ফিরিয়ে আনে ভারত। মৈত্রী ও বন্ধন ট্রেনগুলিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এমন অবস্থায় ট্রেন পরিষেবা চালুর করার রাজনৈতিক নির্দেশ আচমকা চলে এলে পরিষেবা পুনঃস্থাপিত করতে রেল কতটা প্রস্তুত?

এমন প্রশ্নের জবাবে রাজিব সাক্সেনা বলেন, আমাদের কাছে অনেক কোচের স্টক আছে, আমরা যেরকম স্পেশাল ট্রেন চালাই বেশ কয়েকটা কোচকে একসাথে করে। সেই রকম ভাবেই ট্রেন তৈরি হয়ে যাবে। নতুন একটা ট্রেন তৈরি করা সমস্যার নয়। তবে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশ নেই। আবারও বলছি এটা রাজনৈতিক বিষয়। ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে এখন চালানোর দরকার আছে। আমরা চালিয়ে দেব। আমাদের তরফ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।’

স্থলপথ আকাশপথের পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম সহজ মাধ্যম ছিল ট্রেন পরিষেবা। মৈত্রী, বন্ধন , মিতালি তিনটি ট্রেন পরিষেবা চলতো দুই দেশের যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে। জনপ্রিয় এই ট্রেন পরিষেবা ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই থেকে নিরাপত্তা জনিত কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মৈত্রী এক্সপ্রেস : কলকাতা থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনটি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।

বন্ধন এক্সপ্রেস : কলকাতা থেকে খুলনার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনটি ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।

মিতালী এক্সপ্রেস : নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।

চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর, আসছে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর, আসছে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
সংগৃহীত ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আবারও লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে একদিন ম্যানেজ করলেই টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট নির্বাহী আদেশে একদিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। দিনটি বুধবার পড়েছে। অর্থাৎ, পরদিন ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) একদিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে মোট ২ দিন ছুটি কাটানো যাবে।

অন্যদিকে পরের দু’দিন পড়েছে শুক্র ও শনিবার। সবমিলিয়ে আগস্টে একদিনের ছুটি নিতে পারলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৪ দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

এর আগে সবশেষ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ছিল। দীর্ঘ ওই ছুটির পর এবার আবারও সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

জরুরি সেবায় কল

মেঘনায় চলন্ত লঞ্চে অসুস্থ নারীকে বাঁচাল কোস্ট গার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
মেঘনায় চলন্ত লঞ্চে অসুস্থ নারীকে বাঁচাল কোস্ট গার্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে হঠাৎ মুমূর্ষু হয়ে পড়া এক নারীকে মাঝনদী থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে কোস্ট গার্ড। জরুরি সেবা নম্বর  ১৬১১১-এ কল পেয়ে দ্রুততম সময়ে কোস্ট গার্ডের একটি মেডিকেল টিম চলন্ত লঞ্চে গিয়ে ওই নারীর প্রাণ রক্ষা করে।

বুধবার (১ জুলাই) রাতে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোস্ট গার্ড জানায়, আজ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি সোনার তরী-১’। লঞ্চটিতে এক ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসছিলেন। তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ওই নারীর শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।

স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখে অসহায় স্বামী তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করে সাহায্য চান।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কল পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা থেকে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম অক্সিজেন সিলিন্ডার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে দ্রুত গতিতে স্পিডবোট যোগে নদীর বুকে চলন্ত লঞ্চটির উদ্দেশে রওনা হয়।

কোস্ট গার্ডের মেডিকেল টিম মাঝনদীতেই লঞ্চে উঠে ওই নারীকে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা ও অক্সিজেন সেবা প্রদান করে তার অবস্থা স্থিতিশীল করে। এরপর নদীপথে সময় অপচয় রোধ করতে রোগীকে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব বোটে তুলে দ্রুত সদরঘাটে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য পুরান ঢাকার নিকটস্থ মিলেনিয়াম স্পেশালাইজড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জননিরাপত্তা ও জনসেবায় কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

ঢাকার যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোড (বৃত্তাকার সড়ক) নির্মাণ এবং ঢাকাকে ঘিরে থাকা নদীপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

হাসান শিপলু বলেন, ‘এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কিভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।’

বৈঠকে জানানো হয়, রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পটি গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যানবাহনকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করতে হবে না। ফলে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যাও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

বৈঠকে ইনার সার্কুলার রিং রোডের পাশাপাশি ঢাকাকে ঘিরে থাকা প্রায় ১১০ কিলোমিটার নদীপথকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের একটি মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, এ নৌপথ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বৃত্তাকার নদীপথে সহজেই যাতায়াত করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার কারিগরি দিক তুলে ধরে বলেন, নদীপথ ব্যবহারের ফলে পরিবেশদূষণ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাতায়াতের সময়ও কম লাগবে। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এ নৌপথে চলাচলকারী নৌযানগুলো হবে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বৈঠকে অংশ নেন।