• ই-পেপার

কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসালেন শ্রেয়াস

২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সঙ্গে খেলতে চান রোনালদোর ছেলে
২০৩০ বিশ্বকাপে বাবার সতীর্থ হয়ে খেলতে চান ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ছবি : এক্স থেকে

আজন্ম স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বর্তমানে বিশ্বকাপে মজে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ হওয়ায় সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার এটা শেষ সুযোগ বলে অনেকে মনে করছেন। 

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ নাও হতে পারে। পরের বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে পারেন। এমন ইঙ্গিতই ‘সিআর সেভেনের’ কণ্ঠে।

বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের বিপরীতে আরেকটি স্বপ্ন দেখছেন রোনালদো। তার চাওয়া, ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলবেন তিনি। এমন ইচ্ছের কথা অনেকবারই সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক। 

ছেলেকে তো অবশ্যই বলেছেন। তা না হলে কি আর রোনালদোকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলতেন ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। তা কি বলেছেন তার ছেলে চলুন শুনি রোনালদের মুখেই। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেছেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র সবসময় আমাকে বলে খেলা চালিয়ে যাও। যেন ২০৩০ বিশ্বকাপে আমরা সতীর্থ হতে পারি।’

বাবার স্বপ্নপূরণে সঠিক পথেই আছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রও। ১৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বাবার মতো গতির সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়েও দুর্দান্ত। লেফট উইঙ্গার হলেও ৬ ফুট ৩ ইঞ্চির ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র আক্রমণভাগের যেকোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে সক্ষম।

তার প্রমাণ ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে তিনটি শিরোপা। এর মধ্যে ভ্লাতকো মাকোভিচ টুর্নামেন্টে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলও করে। এদিকে বাবার সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৬ গোলও করা হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আছে ১৫টি অ্যাসিস্টও। সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে নিয়মিত গোলও করে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র।

তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণেই সম্প্রতি সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল উইয়াম’ জানিয়েছে, রোনালদোর বড় ছেলেকে ২০২৬-২৭ মৌসুমে মূল দলের অনুশীলনে যুক্ত করতে পারে আল নাসর। সংবাদ সত্যি হলে ছেলের সঙ্গে নিজের ট্রেডমার্ক উদযাপন ‘সিউউউ’ হয়তো হাতছোঁয়া দূরত্বেই থাকবে।

ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা

ক্রীড়া ডেস্ক
ফ্রান্সকে কেন কালো বাহুবন্ধনি পরে খেলতে দিল না ফিফা
ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করছেন ফ্রান্সের ফুটবলাররা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ চলাকালীন দুঃসংবাদ শোনেন দিদিয়ের দেশম। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন তার মা। মায়ের শেষকৃত্যে থাকতে তাই প্যারিসে ফিরে গেছেন তিনি। গতকাল নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ডাগআউটে তাই সহকারি কোচ গাই স্টিফেনকে দেখা গেছে। 

গুরু ডাগআউটে না থাকলেও ঠিকই জ্বলে উঠেছে ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকে প্রতিপক্ষ নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তবে জয় পাওয়ার আগে এই ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরতে চেয়েছিল ফ্রান্স।

দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। তার জন্য ফিফার কাছে অনুমতিও চেয়েছিল এফএফএফ। তবে অনুমতি দেয়নি ফিফা। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘দেশমের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরার অনুমতি চেয়েছিল ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন। ফিফা সে অনুমতি দেয়নি।’ অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, দেশমের মা যেহেতু বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি নন, তাই দেওয়া হয়নি।

 

বিকল্প হিসেবে এক মিনিট নীরবতা পালন করার কথা ছিল। তবে সেটাও পরে হয়নি। অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগে ১ মিনিটের যে নীরবতা পালন করা হয় তা ছিল ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। 

ফিফা অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফ্রান্সের অনেক ভক্ত-সমর্থক। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘শ্রদ্ধা কখনোই বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। সহানুভূতি এবং ফুটবল একসাথে চলতেই পারে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘একজন কোচের মায়ের মৃত্যুর পর শোক জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরা ফিফা আটকে দিয়েছে, যা ফিফার মানদণ্ডের চরম সংকীর্ণতা।’

ফিফার ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে একজন লিখেছেন, ‘ফিফার কেন সব সময় এমন দুমুখো নীতি থাকে? তাদের কি মানবিকতাবোধ বলতে কিছু নেই?’

আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক
মিসরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও না পাওয়ার হতাশা ফুটে উঠেছে ইরানের অধিনায়ক তারেমির চোখেমুখে। ছবি : রয়টার্স

শুধু মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, বাইরেও লড়তে হচ্ছে ইরানকে। কাগজে-কলমে সবার জন্য নিয়ম একই থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে আলাদা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাই হয়ে আসছে।

অন্যরা নিজেদের ম্যাচের ভেন্যুর কাছাকাছি ক্যাম্প করার সুযোগ পেলেও ইরানকে ম্যাচ খেলতে হয় অন্য দেশ থেকে এসে। ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ হতেই তাদের ফিরতে হয় মেক্সিকোয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে দলের অনেকে আবার পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও। সবকিছু মিলে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভই ঝারলেন ইরানের অধিনায়ক মেহদী তারেমি। তার মতে, ইরানের সঙ্গে ফিফা অন্যায় করছে। টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বাদ পড়া যেন দেখতে চায় আয়োজকরা।

ইরারের ভোগান্তি নিয়ে তারেমি বলেছেন, ‘জঘন্য একটা বিশ্বকাপ। সব সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল  ফিফার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের ড্রেসিং রুমে এসে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, সব সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ফিফা কিছুই করেনি। অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে জানিয়েছে তারেমি বলেছেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়, তাহলে ঠিক আছে। আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। লজিস্টিক সমর্থন দেওয়ার মতো এখানে কেউ নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’

ইরান বিশ্বকাপে থাকুক এমনটা চায় কিনা জানতে চাওয়া হলে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। মানুষ কি চায়, জানি না। তবে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মনে হয় হ্যাঁ, তারা এরকমই চাচ্ছে। তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায়ায় আমাদের ফিরে যেতে হবে কেন?’

সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা ইরান এখন নকআউটে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরাদের তালিকায় ৬ নম্বরে আছে। শেষ ৩২ এ সুযোগ পাবে কিনা তা আজই জানা যাবে। কেননা তাদের নকআউট ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য ম্যাচগুলোর ওপরে। অবশ্য আজ মিসরের বিপক্ষে জিতলেই সরাসরি সুযোগ পেত ইরান। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানও করেছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তাদের গোলটি।

‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কেপ ভার্দের কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কেপ ভার্দের কোচ
নকআউট নিশ্চিত হওয়ার পর শিষ্যদের সঙ্গে বুবিস্তা। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের অভিষেকে চমক দেখাচ্ছে কেপ ভার্দে। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েই নকআউটের টিকিট কেটেছে তারা। এবার ৩২ পেরিয়ে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

তবে কাজটা সহজ হবে না। কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসিরা প্রতিপক্ষ হলেও তাদের হারানো অসম্ভব কিছু নয় বলে জানিয়েছেন কোচ বুবিস্তা।

মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেছেন, ‘আমাদের জন্য কোনো কিছু অসম্ভব নয় (আর্জেন্টিনাকে হারানো)। এখন পর্যন্ত কেপ ভার্দে যা করেছে তাতে আমাদের এবং দেশের মানুষদের গর্ব হওয়া উচিত। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।’

এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে অপরাজিত আছে কেপ ভার্দে। তিনটি ম্যাচই ড্র করায় ৩ পয়েন্ট পেয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে রানার্সআপ হয়েছে তারা। এতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গী হয়ে নকআউটে জায়গা পেয়েছে।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নাকি কেপ ভার্দের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়া। গকতাল সৌদি আরবের সঙ্গে ম্যাচ ড্র করার পর বুবিস্তা বলেছেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল নিজের দেশকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। এই পর্যায়ে এসে আর্জেন্টিনা এবং মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য দারুণ এক ব্যাপার। ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন।’

নকআউটের ম্যাচ আগামী ৪ জুলাই খেলবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে।