• ই-পেপার

‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কেপ ভার্দের কোচ

আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
আয়োজকরা আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়—ইরানের অধিনায়ক
মিসরের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও না পাওয়ার হতাশা ফুটে উঠেছে ইরানের অধিনায়ক তারেমির চোখেমুখে। ছবি : রয়টার্স

শুধু মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয়, বাইরেও লড়তে হচ্ছে ইরানকে। কাগজে-কলমে সবার জন্য নিয়ম একই থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে আলাদা। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাই হয়ে আসছে।

অন্যরা নিজেদের ম্যাচের ভেন্যুর কাছাকাছি ক্যাম্প করার সুযোগ পেলেও ইরানকে ম্যাচ খেলতে হয় অন্য দেশ থেকে এসে। ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ হতেই তাদের ফিরতে হয় মেক্সিকোয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে দলের অনেকে আবার পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও। সবকিছু মিলে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শেষে তাই ক্ষোভই ঝারলেন ইরানের অধিনায়ক মেহদী তারেমি। তার মতে, ইরানের সঙ্গে ফিফা অন্যায় করছে। টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বাদ পড়া যেন দেখতে চায় আয়োজকরা।

ইরারের ভোগান্তি নিয়ে তারেমি বলেছেন, ‘জঘন্য একটা বিশ্বকাপ। সব সমস্যার সমাধান করা উচিত ছিল  ফিফার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের ড্রেসিং রুমে এসে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, সব সমস্যার সমাধান করা হবে। কিন্তু ফিফা কিছুই করেনি। অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ এখানে নেই। কারণ, তারা ভিসা পাননি।’

ইরানের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে জানিয়েছে তারেমি বলেছেন, ‘এটি অন্যায়। আমাদের মতে, এটি চরম অবিচার। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? ঠিক আছে, তাদের জন্য ভালো। তারা যদি টুর্নামেন্ট থেকে আমাদের বাদ পড়া দেখতে চায়, তাহলে ঠিক আছে। আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। লজিস্টিক সমর্থন দেওয়ার মতো এখানে কেউ নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’

ইরান বিশ্বকাপে থাকুক এমনটা চায় কিনা জানতে চাওয়া হলে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। মানুষ কি চায়, জানি না। তবে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে মনে হয় হ্যাঁ, তারা এরকমই চাচ্ছে। তা না হলে ৯০ মিনিট খেলার পর আবার তিহুয়ানায়ায় আমাদের ফিরে যেতে হবে কেন?’

সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করা ইরান এখন নকআউটে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় সেরাদের তালিকায় ৬ নম্বরে আছে। শেষ ৩২ এ সুযোগ পাবে কিনা তা আজই জানা যাবে। কেননা তাদের নকআউট ভাগ্য নির্ভর করছে অন্য ম্যাচগুলোর ওপরে। অবশ্য আজ মিসরের বিপক্ষে জিতলেই সরাসরি সুযোগ পেত ইরান। শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানও করেছিল তারা। কিন্তু অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় তাদের গোলটি।

কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসালেন শ্রেয়াস

ক্রীড়া ডেস্ক
কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসালেন শ্রেয়াস

ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচ হেরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। বেলফাস্টে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে ম্যাচে হেরে সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩৪ রানে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নেয় আইরিশরা।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত হারের ফলে শ্রেয়াস আইয়ার ভারতের ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি অভিষেক নেতৃত্বেই ম্যাচ হারার তিক্ত স্বাদ পেলেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। খবর এবিপি

বেশির ভাগ ভারতীয় অধিনায়কই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দায়িত্ব পাওয়ার পর জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। বীরেন্দ্র শেবাগ, এম এস ধোনি, রোহিত শর্মা এবং এমনকি আয়ারের ঠিক আগের পূর্বসূরি সূর্যকুমার যাদবের মতো কিংবদন্তিরাও জয় দিয়ে তাদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের যাত্রা শুরু করেছিলেন।

তবে বেলফাস্টের এই ধাক্কার ফলে আয়ার একটি বিশেষ, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যানগত ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে হার দিয়ে যাত্রা শুরু করে অধিনায়করা হলেন বিরাট কোহলি, ঋষভ পান্ত,  শুভমান গিল  এবং সর্বশেস শ্রেয়াস আইয়ার (সর্বশেষ অন্তর্ভুক্ত)।

অভিজ্ঞতার বিচারে টি-টোয়েন্টিতে আইয়ারের ওপর ব্যাপকভাবে ভরসা রেখেছিলেন নির্বাচকরা। কারণ ১ বছর বয়সে তিনি শিখর ধাওয়ান এবং সূর্যকুমার যাদবের পরেই তৃতীয়-বয়স্ক ভারতীয় অভিষেককারী অধিনায়ক হিসেবে এই দায়িত্বে আসেন।

এ ছাড়া টসের জন্য মাঠে নামার আগে আইয়ারের ঝুলিতে ছিল রেকর্ড সৃষ্টিকারী ১১৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। যা দিয়ে তিনি অধিনায়কত্বের আগে রোহিত শর্মার খেলা ৮০ ম্যাচের পূর্ববর্তী মাইলফলককে ছাড়িয়ে যান।

বিশ্বকাপে এই মাইলফলকেও প্রথম ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে এই মাইলফলকেও প্রথম ব্রাজিল
ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসন বেকারের একটি দুর্দান্ত সেভ। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সফলতম দল ব্রাজিল। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি সর্বাধিক গোলও করেছে। 

এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিল একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেলেসাওরা ৫০ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। অর্থাৎ দলটির গোলকিপারদের নামের পাশে মোট ৫০ বার ক্লিনশিট লেখা।

গত পরশু (২৫ জুন) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় ব্রাজিল। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে ম্যাচের সংখ্যায় গোল না খাওয়ার ‘হাফ সেঞ্চুরি’ করে সেলেসাওরা। 

ব্রাজিলের পরেই আছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। জার্মানরা ৪১ ম্যাচে কোনো গোল খায়নি। ৩৭ ম্যাচে নিজেদের জাল সুরক্ষিত রেখে তিনে আছে ইংল্যান্ড। টানা তিনবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে না পারা ইতালি আছে চারে। তারা প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি ৩২ ম্যাচে।

ব্রাজিলের গোলকিপারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮টি করে ম্যাচে গোল খাননি ১৯৭০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী এমারসন লিয়াও এবং ক্লদিও তাফারেল। বর্তমান গোলকিপার আলিসন বেকার ৭ ম্যাচে ব্রাজিলের জাল সুরক্ষিত রেখেছেন।

আগামী সোমবার (২৯ জুন) রাতে রাউন্ড অব ৩২-পর্বের ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে জাপানকে গোল করতে না দিলেই লিয়াও এবং তাফারেলকে স্পর্শ করবেন আলিসন।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পরিসংখ্যান
ম্যাচ : ১১৭
জয় : ৭৮
ড্র : ২০
হার : ১৯
মোট গোল : ২৪৪
মোট ক্লিনশিট : ৫০

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিট 

ব্রাজিল ⚽ ৫০ ম্যাচ
জার্মানি ⚽ ৪১ ম্যাচ
ইংল্যান্ড ⚽ ৩৭ ম্যাচ
ইতালি ⚽ ৩২ ম্যাচ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান

ক্রীড়া ডেস্ক
যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান
ইরান ফুটবল দল। ছবি: ফিফা

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ড্র করে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ দেশ; সেটাও কি না গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে!

কেপ ভার্দের মতোই গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিন ম্যাচ ড্র করেছে অনেক ঝড়-ঝাপ্টা পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া ইরান। নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়ামের পর আজ মিশরকেও রুখে দিয়েছে তারা। 

কিন্তু ইরানের নকআউট পর্বে ওঠার ভাগ্য এখনো সুতোয় ঝুলছে। ‘জি’ গ্রুপের তিনে থেকে শেষ করায় কোনো কিছুই আর নিজেদের হাতে নেই। যদিও ইরানিরা এখনো গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার শীর্ষ আট দলের তালিকার আছে। তবে পরের রাউন্ডে খেলতে হলে কয়েকটি সমীকরণ তাদের পক্ষে যেতে হবে।

তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের মধ্যে ইরান এই মুহূর্তে ৬ নম্বরে আছে। অর্থাৎ আর দুটি দল ইরানের ওপরে উঠলেই তারা নয়ে নেমে যাবে। সে ক্ষেত্রে তাদের নকআউট পর্বে খেলার আশা শেষ হয়ে যাবে।  

যেভাবে এখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারে ইরান, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

[১] অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচে যেকোনো এক দলকে জিততে হবে। কোনোভাবেই ড্র হওয়া যাবে না। তবে অস্ট্রিয়া জিতলে ইরানের জন্য ভালো। 
[২] ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে উজবেকিস্তানকে জিততে হবে অথবা ম্যাচটি ড্র করতে হবে।
[৩] ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ঘানাকে জিততে হবে।