• ই-পেপার

মিসরকে জিতিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়লেন সালাহ

ডালাসে মেসি উৎসব

ক্রীড়া ডেস্ক
ডালাসে মেসি উৎসব

ফুটবলে মেসি জাদু দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব। বিশ্বকাপেও বাদ পড়েনি মেসি ম্যানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের যে শহরে আর্জেন্টিনার খেলা রয়েছে, সেখানে ঢল নামে মানুষের। তেমনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডালাসে মাঠে নামার আগে পুরো শহর যেনো উৎসবে পরিণত হয়েছে। তেমনি এক উৎসবের চিত্র উঠে এসেছে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে, যা কালের কষ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

নিউ জার্সি, এমনকি ফিলাডেলফিয়াতেও যখন ছিলাম, হাতঘড়ির দিকে তাকালে সময়ের হিসাবটা একদম সোজা ছিল, ভারতের সঙ্গে সময়ের পার্থক্যটা সাড়ে ন’ঘণ্টার। কিন্তু ডালাসে বিমান থেকে নেমে ঘড়ি দেখে যা বুঝলাম, আমেরিকা হচ্ছে একটি মায়াজাল। আরো এক ঘণ্টা পিছিয়ে গিয়েছি। মানে, পাক্কা সাড়ে দশ ঘণ্টা এখন ভারত থেকে পিছিয়ে। একটাই দেশ। অথচ তার চার-চারটি ভূখণ্ডে, চারটি টাইম জোন!

সে আমেরিকার টাইম জোন যাই হোক না কেন, মেসির ‘টাইম জোনে’ জনপ্রিয়তার কোনও বিভাজন নেই। তা চলছে অশ্বমেধের ঘোড়ার গতিতে। ডালাস বিমানবন্দরে নেমেই যাঁর সঙ্গে প্রথম কথা হল, তিনি মাইক ওকোরো। ঠিকই ধরেছেন, একদা ইস্টবেঙ্গলের আশিয়ান জয়ের অন্যতম স্থপতি, মাইক ওকোরো। ‘তুমি কি কোনওভাবে আর্জেন্টিনা ম্যাচের একটি টিকিট জোগাড় করে দিতে পারবে?’’ বুঝুন তাহলে অবস্থা। 

ডালাসে পা দিয়ে অন্তত এটুকু বুঝে গিয়েছি, মাইক ওকোরোর সেই মসৃণ ড্রিবল সামলানোর চেয়েও এখন কঠিন কাজ, ডালাসের বুকে আর্জেন্টিনা ম্যাচের একটা টিকিট সংগ্রহ করা।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ কভার করতে ডালাসে আসা টিওয়াইসি সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল বলছিলেন, চার বছর আগে কাতারে জেতা বিশ্বকাপটি দুই হাত উঁচু করে মেসি ধরে আছেন। আর মেসির বুকে খোদাই করা আছে আর্জেন্টিনার তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক, ‘তিন তারা’। 

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির হ্যাটট্রিকের ঠিক আগের দিনই আর্জেন্টিনায় মেসির বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক এখন কেন? গ্যাব্রিয়েল যা জানালেন, তার সারমর্ম হল, বিশ্বের সব প্রান্তের সবাই মেসির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাই। যেমন কোঁত্রাল শহরের মেয়র রামন রিওসেকো জানিয়েছেন, ঠিক এই সময় মেসির মূর্তি স্থাপনের আসল কারণ। পাতাগোনিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে এমন কিছু জিনিস নেই যা, পর্যটকদের আকর্ষিত করে শহরে নিয়ে আসতে পারে। আর তাই মরুভূমির বুকে বসিয়ে দেওয়া হল বিশ্বে মেসির সবচেয়ে বড় ভাস্কর্যটিকে। যাতে কাতারে কাতারে মেসি-ভক্তরা এই ভাস্কর্য দর্শনে কোঁত্রাল শহরে ছুটে আসে।

মেসিকে নিয়ে খোদ আর্জেন্টিনায় যদি এরকম হয়। তাহলে অনুমান করুন, যে শহরে মেসি খেলতে আসছেন। সেই ডালাসে মেসিকে ঘিরে কী হতে পারে? 

কানসাসেস বেসক্যাম্পে প্র্যাকটিস করে বিকেলের দিকে ডালাসে আসবে আর্জেন্টিনা। তারপরই অস্ট্রিয়া ম্যাচের সাংবাদিক সম্মেলনে আসবেন কোচ স্কালোনি। সঙ্গে অবশ্যই একজন ফুটবলার।

সেই ফুটবলারটি মেসি হবে কি না, এখনও জানা যায়নি। তবে ডালাসে মেসির পদার্পণের অনেক আগেই আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষ করে মায়ামি থেকে হাজার হাজার আর্জেন্টিনার ভক্তরা ডালাসে চলে এসেছেন। শহরে, রাস্তায়, হোটেলে শুধুই ১০ নম্বর জার্সি পরে লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। টিকিটের দামও সেরকম আকাশচুম্বী। 

ডালাসের মাটিতে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে স্রেফ একটি গোল করতে পারলেই ১৭ গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নাম প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। আর সেই কারণেই বিশ্বফুটবলের এই চিরকালীন অমর মুহূর্তটির স্বাক্ষী থাকার জন্যই সকলের মধ্যে একটি ম্যাচ টিকিট সংগ্রহ নিয়ে একম পাগলের মতো ব্যাকুলতা। সেই কারণে এই মুহূর্তে ডালাসে চাকরি করা মাইক ওকোরোও সন্ধান করছেন একটা মেসি ম্যাচের টিকিটের। আর এই কাজটা যে তাঁর ড্রিবলের মতো এত সহজ কাজ নয়, তা এতক্ষণে বুঝে গিয়েছেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল তারকা। 

কারণ, এই মুহূর্তে যদি আর্জেন্টিনা ম্যাচের কোনও টিকিট পাওয়া যায়, তাহলে তার সর্বনিম্ন মূল্য দাঁড়িয়েছে, খুব কম করে হলেও ‘আড়াই হাজার ডলার।’  

আর মোটামুটি ভালো আসনের জন্য টিকিটের দাম, প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ডলার। শুধু এই একজন ফুটবলারকে কেন্দ্র করেই ডলার উড়ছে আমেরিকা বিশ্বকাপে।

ডালাসের, ফোর্ট ওয়ার্থ মেট্রোপ্লেক্স এলাকাটি আমেরিকার ফাইনান্সিয়াল হাব। আমেরিকান এয়ারলাইন্স, এক্সনমোবিল-সহ বহু বড় কোম্পানির সদর দফতর এখানে। আর ১৯৩০-র দিকে টেক্সাসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে ডালাস এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী শহর। ফলে এহেন অঞ্চলে মেসি দর্শনের জন্য ডলার উড়বে। বলাই বাহুল্য।

আর প্রশাসনও চুপ করে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারছে না। সবাই যে সোমবার মাঠে ঢোকার সুযোগ পাবে, এর কোনও গ্যারান্টি নেই। ফলে ডালাস শহরটির বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। আর সেখানেই হাজির হওয়া আর্জেন্টাইন ফ্যানদের রাস্তাঘাটে সামলানোটাই এখন সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ ডালাস প্রশাসনের। আর এই সব কিছুর কেন্দ্রেই একটা নাম ঘোরা ফেরা করছে ডালাসে। লিওনেল মেসি।

কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে : ইরানি কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে : ইরানি কোচ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ শুরু আগে থেকেই যুদ্ধের কারণে নানা ধকল সামলাতে হচ্ছে ইরান ফুটবল দলকে। সব কিছুকে মানিয়ে নিয়ে দারুণ শুরু করেছে মেহদি তোরাবিরা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবলাররা দারুণ খেলা উপহার দিয়েছে বলে প্রশংসা করেছেন কোচ ইরানের হেডকোচ আমির ঘালেনোই।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফরাও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন। এমনকি উইঙ্গার মেহদি তোরাবিকেও নতুন করে ভিসা জোগাড় করতে হয়েছে। এসব বিধি-নিষেধের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন কোচ। 

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কোচ বলেন, ‘আমরাই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল।’ 

একই সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ওরা দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে।’

গোলরক্ষক বেইরানভান্দের বিশেষ প্রশংসা এবং ৭টি সেভ করে ইরানকে একটি মূল্যবান পয়েন্ট এনে দেওয়ায় তাকে ‘ইরানি ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক’ বলে অভিহিত করেছেন কোচ গালেনোই। টিম মেলির কোচ জোর দিয়ে বলেন, ‘এই খেলোয়াড়রা তাদের সর্বস্ব দিয়ে খেলছে এবং মনপ্রাণ দিয়ে খেলছে। ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সর্বদা মনে রাখবে।’

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে ইরান। প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে উঠতে গেলে মহম্মদ সালাহদের হারাতে হবে আমির ঘালেনোইয়ের শিষ্যদের।

বাংলাদেশ যুব দলের নতুন কোচের নাম ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ যুব দলের নতুন কোচের নাম ঘোষণা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক হান্নান সরকারকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বোর্ড। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সব ধরনের খেলা থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেওয়ার আগেই এবার নতুন ভূমিকায় এই কিংবদন্তি। যুব দলের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শুধু অনূর্ধ্ব-১৯ দলই নয়, ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ের বিভিন্ন দলের পরামর্শক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের সাথেও তাকে রাখতে চায় বিসিবি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করা সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েসকেও সেই সিরিজে কোচিং প্যানেলে কাজে লাগাতে চায় বিসিবি। 

হান্নান সরকার অবশ্য ক্লাব ক্রিকেটে কোচিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বোর্ড জানিয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা থাকাকালে যুব দলের সাথেই কাজ করতে হবে তাকে। আর বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় থাকা কোচরা ডিপিএল ও বিপিএলের যেকোনো একটিতে কাজ করতে পারবেন।

হান্নান সরকার বলেন, 'স্বপ্ন তো অনেক আগে থেকেই ছিল। নির্বাচক হওয়ার আগেও কোচ ছিলাম। ৯ বছর পর সিলেকশনে আসা। এরপর বোর্ড যখন দেশিদের প্রমোট করছে, সেখান থেকে নতুন করে স্বপ্ন দেখা।'

আসন্ন ২০২৮ যুব বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাজ শুরু করেছে বিসিবি। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগও। খুলনায় বর্তমানে চলেছে ৪৫ জন নিয়ে ট্রেনিং সেশনও। সেই লক্ষ্যে নতুন কোচ ও পরামর্শক নেয়াগ দিল বোর্ড।

শান্তির বার্তা দিয়ে ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে গেলেন ইরানি ফুটবলাররা

ক্রীড়া ডেস্ক
শান্তির বার্তা দিয়ে ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে গেলেন ইরানি ফুটবলাররা

যুদ্ধে নাকাল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। এরই মাঝে অংশ নিয়েছে বিশ্বকাপে। দুই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন আমির ঘালেনোই শিষ্যরা। বাঁচিয়ে রেখেছে নকআউট পর্বে ওঠার আশা। শক্তিমত্তায় জোজন এগিয়ে বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে ম্যাচে শেষে হাতে লেখা চিঠিতে দিয়ে গেলেন শান্তির বার্তা ইরানি ফুটবলাররা।

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে এই চিঠি রেখে যান টিম মেল্লিরা।

ম্যাচের পর প্রকাশ পাওয়া লেখা চিঠিতে বলা হয়, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান। আমাদের আত্মা আজও জীবন্ত ও অটুট।’ 

এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা লিখেছে, ‘আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ, লস অ্যাঞ্জেলেস। আমরা গর্ব নিয়ে এসেছিলাম। সম্মানের সঙ্গে লড়েছি। মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।’ ইরানি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। ‘এই ১৮০ মিনিটে যাঁরা সর্বস্ব দিয়ে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ।’

‘সকল জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।’ বলে শেষ হয় লেখা চিঠিটি।  লকার রুমে রাখা চিঠিতে #168 এবং #Minab হ্যাশট্যাগেরও ব্যবহার দেখা যায়। 

আমেরিকা-ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে মিনাব শহরের এক স্কুলে বোমা হামলার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত হিসাবেই এই হ্যাশট্যাগের ব্যবহার। বিশ্বকাপে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি ইরান। আমেরিকার অভিবাসন নীতির বিধিনিষেধের কারণে ম্যাচ খেলেই চটজলদি ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ফলে অ্যারিজোনার টুসন থেকে ঘাঁটি সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ক্যাম্প করছে ইরান। সেখান থেকেই ম্যাচ খেলতে আমেরিকা যাতায়াত করছে দেশটি।