• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল অপ্টা

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১২ পয়েন্ট কাটা গেল ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১২ পয়েন্ট কাটা গেল ইংল্যান্ডের
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে তাদের ১২ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

দ্য ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ২৫৩ রানের বড় জয় পেয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ শেষে আইসিসির পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ১২ ওভার পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। এর ফলেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের।

আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইংল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক জো রুট অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। পয়েন্ট কর্তনের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানাও করা হয়েছে।

১২ পয়েন্ট হারানোর ফলে ডব্লিউটিসি টেবিলে ইংল্যান্ডের অবস্থান সপ্তমেই থাকলেও তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৩৪.৭২ থেকে নেমে হয়েছে ২৬.৩৮। এতে আগামী বছরের ডব্লিউটিসি ফাইনালে ওঠার পথ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে ইংলিশদের জন্য।

বর্তমানে ডব্লিউটিসি পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ দুই দল আগামী বছর লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে।

এদিকে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দলে ফিরছেন নিয়মিত অধিনায়ক বেন স্টোকস। লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে কারফিউ ভঙ্গের ঘটনায় স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন দ্বিতীয় টেস্টে নিষিদ্ধ ছিলেন। নটিংহ্যামে অনুষ্ঠেয় শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ডব্লিউটিসি লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চ্যালেঞ্জ থাকবে ইংল্যান্ডের সামনে।

রোনালদোকে পাস দিতে কোনো চাপ নেই, জানালেন তার সতীর্থ

ক্রীড়া ডেস্ক
রোনালদোকে পাস দিতে কোনো চাপ নেই, জানালেন তার সতীর্থ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক ড্রয়ের পর পর্তুগালের আক্রমণভাগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের তরুণ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কয়েনসিসাও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পর্তুগাল দলের খেলোয়াড়রা রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করেন না।

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো পুরো সময় খেললেও তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, তার কমে যাওয়া গতি ও চলাফেরা কি পর্তুগালের আক্রমণকে সীমিত করে দিচ্ছে?

রোববার সংবাদ সম্মেলনে কনসেইসাও বলেন, ‘আমরা রোনালদোকে বল দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি না। আমি সেই খেলোয়াড়কেই পাস দিই, যাকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে এবং প্রতিপক্ষের নজরদারির বাইরে মনে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিস্তিয়ানো আমাদের দলের আর দশজন সদস্যের মতোই একজন। দলের সাফল্যের জন্য প্রত্যেকের অবদান প্রয়োজন।’

তবে রোনালদোর গুরুত্ব অস্বীকার করেননি কনসেইসাও। তিনি বলেন, ‘৪১ বছর বয়সেও তার যে ক্ষুধা ও জয়ের মানসিকতা, তা অসাধারণ। নেতৃত্ব এবং গোল করার ক্ষমতার দিক থেকে তিনি সবার জন্য উদাহরণ। গোল করার ক্ষেত্রে তার মতো আর কেউ নেই।’

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না দলটি।

কনসেইসাও বলেন, ‘খারাপ ফলের কষ্ট সবচেয়ে বেশি আমরা নিজেরাই অনুভব করি। আমরা জানি প্রথম ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। ফল ভালো না হলে চাপ ও সমালোচনা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তাই পরের ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে জয় তুলে আনতে চাই।’

গ্রুপ ‘কে’-তে নকআউট পর্বের আশা জিইয়ে রাখতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় এখন পর্তুগালের জন্য প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অঘটন ঘটাবে অস্ট্রিয়া! ভিন্ন পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অঘটন ঘটাবে অস্ট্রিয়া! ভিন্ন পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ম্যাচে চমক দেখাতে পারে রাল্ফ রাংনিকের অস্ট্রিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের ধারণা, আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করতে পারেন লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ, আর অস্ট্রিয়ার হয়ে জালের দেখা পেতে পারেন মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক করেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৬, যা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডের সমান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল পেলেই ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৬ ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। টানা আট জয়ের ধারায় থাকা আর্জেন্টিনা এই ম্যাচেও ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে।

তবে অস্ট্রিয়াকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, গত ১২ ম্যাচে ১০ জয় তুলে নিয়েছে রাংনিকের শিষ্যরা। এই সময়ে তাদের একমাত্র হারটি এসেছে রোমানিয়ার বিপক্ষে।

বিশ্লেষকদের বিশ্বাস, অস্ট্রিয়ার হাই-প্রেসিং ফুটবল আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সেট-পিস থেকে তারা বিপদ তৈরি করার সক্ষমতা রাখে। যদি মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং সুযোগগুলো কাজে লাগানো যায়, তাহলে বড় অঘটন ঘটাতেও পারে ইউরোপের দলটি।

তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মেসি। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা এই কিংবদন্তি এখন নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তার পা থেকে আরেকটি গোল এলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার মুকুট এককভাবেই মাথায় উঠবে।

সালাহ-জাদুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় মিশরের

ক্রীড়া ডেস্ক
সালাহ-জাদুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় মিশরের
ম্যাচে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেন সালাহ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মিশর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোল পিছিয়ে থাকা অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাহর দল। এই জয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মিসরের জন্য সুখকর ছিল না। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। প্রথমার্ধজুড়ে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি মিশর। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে এক ভিন্ন মিশর। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে সমতায় ফেরে দলটি। ডান প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হানির দারুণ ক্রসে হেডে জাল খুঁজে নেন মোস্তফা জিকো।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় মিসর। ৬৭ মিনিটে দলের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ জ্বলে ওঠেন। জিকোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে মিশরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর ৮১ মিনিটে সালাহর আরেকটি নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় ট্রেজেগে। সেই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় মিশরের জয়।

ম্যাচে এক গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন সালাহ। অধিনায়কের নেতৃত্বে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মিশর। অন্যদিকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।

প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ড্র করার পর এই জয় মিশরের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে সালাহরা। এখন শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।