• ই-পেপার

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৫৯২ মামলা

শিশুশ্রম নিরসনে সরকার আরো পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করবে : শ্রমমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিশুশ্রম নিরসনে সরকার আরো পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করবে : শ্রমমন্ত্রী
রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শিশুশ্রম নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ আরো জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসনে আরো পাইলট প্রকল্প গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সরকার।

রবিবার (২৯ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। 'শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি' প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফর্ম (সিএলইপি) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তারফদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে শিশুশ্রমের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে দেশের অগ্রগতির পাশাপাশি বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জও উপস্থাপন করা হয়। শিশুশ্রমে যুক্ত কয়েকজন শিশু তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং শিশু অধিকারভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, ‘এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা শিশুশ্রম নির্মূলে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ শিশুশ্রম নিরসনে খাতভিত্তিক (সেক্টরভিত্তিক) উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় পরিকল্পনা গ্রহণ করলে শিশুশ্রম নির্মূলে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগও তিনি তুলে ধরেন।’

প্রধান অতিথি আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘শিশুশ্রম নিরসনে সরকার আরো পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করবে। তার মতে, সচেতনতার অভাবও শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। তাই তৃণমূল পর্যায় থেকেই ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা গেলে শিশুশ্রম প্রতিরোধে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষের যৌথ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণে সরকার সবসময় উন্মুক্ত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, শিশুশ্রম একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এটি মোকাবিলায় সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

পরে বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ ও সবার যৌথ দায়িত্ব' শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং আইএলওর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় শিশুশ্রম নির্মূলে বাস্তবসম্মত কৌশল, অংশীজনদের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’

রাজধানীতে এক দিনে গ্রেপ্তার ৮৭

অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীতে এক দিনে গ্রেপ্তার ৮৭
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার (২৮ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন তালিকাবহির্ভূত চাঁদাবাজ। এ ছাড়া সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাতি সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ৩৭ জন এবং মাদক কারবারে জড়িত ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : রিজভী
ছবি: কালের কণ্ঠ

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে বিএনপি সরকারের সুদূরপ্রসারী ও নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে গবেষণা, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) থ্রিডি হলে ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তারা কৃষিকে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কৃষি খাতে সরকারি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও জাতীয় বাজেটে কৃষির অংশ ক্রমান্বয়ে কমে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সেমিনারে আরো চারটি প্রধান সুপারিশ তুলে ধরা হয়—জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড চেইন ও হিমাগার সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিতকরণ এবং স্মার্ট কৃষি ও ডিজিটাল কৃষিসেবার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ।

একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, দুর্বল তদারকি, কৃষক পর্যায়ে সহায়তা পৌঁছাতে অনিয়ম, আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় ঘাটতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ঘোষিত এই বাজেটে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, সার-বীজ-কীটনাশকে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস এম আকাশ। আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বারি) নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ আবদুস সালাম।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন অ্যাগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।

সবুজের শপথে নতুন প্রজন্ম

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ডিজিটাল যুগের শিশুরা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে এমন লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সবুজায়নের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ছায়াবৃক্ষ রোপণ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

র‌্যালিতে দেখা যায়,  শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘শিক্ষাঙ্গনে সবুজের বার্তা, সবুজ বাংলাদেশের নবযাত্রা’, আজকের বৃক্ষরোপণ, আগামীর জলবায়ুর সুরক্ষা,—এসব সচেতনতামূলক স্লোগান।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মোহসিন করিম (অব.) বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও তার উদ্যোগের উদাহরণ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ উদ্যোগ নিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিশেষ নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচি দেশ বিদেশে সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সরকারের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হলেও বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়েছে আরো দুই বছর আগে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশে প্রায় এক হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে সবুজায়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসও অনেক সময় গাছের নিচেই নেওয়া হয়, যেন শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

অধ্যক্ষ বলেন, প্রকৃতির কাছ থেকেই মানুষ সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়। সবুজ পরিবেশ মানুষের মন ও শরীরকে সতেজ রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের এমন একটি পরিবেশে বেড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে তারা প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিও সমান ভালোবাসা গড়ে তুলবে। এতে তাদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও মানবিক গুণাবলিও বিকশিত হবে।

তিনি আরো জানান, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি এরই মধ্যে রোপণ করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের ছাদে একটি শিক্ষামূলক বাগানও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা গাছের বৃদ্ধি, ফুল ফল ধারণ সবকিছুই তারা হাতে কলমে শিখতে পারছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফলদ গাছকে ব্যবহার করে বিজ্ঞান বিষয়ের বাস্তব পাঠও পরিচালনা করা হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আহনাফ বিন আলম বলে, প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না, মানুষের জীবনও রক্ষা করে। তাই সে নিজের হাতে একটি গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার অঙ্গীকার করেছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মারিয়া জানায়, গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে আরো কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি করে গাছের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরো সবুজ হয়ে উঠবে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি আন্দোলন। আজকের একটি গাছই আগামী দিনের সবুজ, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশের ভিত্তি হয়ে উঠবে।