• ই-পেপার

রাজধানীতে এক দিনে গ্রেপ্তার ৮৭

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৫৯২ মামলা

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২৫৯২ মামলা
ফাইল ছবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২৫৯২ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

রবিবার (২৮ জুন) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করে।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১২ টি বাস, ১টি ট্রাক, ৭ টি কাভার্ডভ্যান, ২১ টি সিএনজি ও ২৭ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২১ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫ টি বাস, ৬ টি ট্রাক, ২ টি কাভার্ডভ্যান, ২৪ টি সিএনজি ও ১৮১ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৭৯ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৫ টি বাস, ১ টি ট্রাক, ১৫ টি কাভার্ডভ্যান, ৯৫ টি সিএনজি ও ২৭৩ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৬৩ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩০ টি বাস, ১৫ টি ট্রাক, ১৪ টি কাভার্ডভ্যান, ২৩ টি সিএনজি ও ৬৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯০টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৩ টি বাস, ৬ টি ট্রাক, ১০ টি কাভার্ডভ্যান, ৭৮ টি সিএনজি ও ১৭৮ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪৮ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৭ টি বাস, ১১ টি ট্রাক, ২১ টি কাভার্ডভ্যান, ৭০ টি সিএনজি, ২৯৫ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৮৮ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৫২ টি বাস, ৩ টি ট্রাক, ১৬ টি কাভার্ডভ্যান, ৮৭ টি সিএনজি ও ১৬০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৪৩ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩১ টি বাস, ২ টি ট্রাক, ১৩ টি কাভার্ডভ্যান, ৫৭ টি সিএনজি ও ৯৪ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৬০ টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানকালে মোট ৫৪৯ টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২৮৫ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : রিজভী
ছবি: কালের কণ্ঠ

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তনে বিএনপি সরকারের সুদূরপ্রসারী ও নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি খাতকে আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে গবেষণা, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) থ্রিডি হলে ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তারা কৃষিকে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রান্তিক কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কৃষি খাতে সরকারি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও জাতীয় বাজেটে কৃষির অংশ ক্রমান্বয়ে কমে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সেমিনারে আরো চারটি প্রধান সুপারিশ তুলে ধরা হয়—জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড চেইন ও হিমাগার সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ নিশ্চিতকরণ এবং স্মার্ট কৃষি ও ডিজিটাল কৃষিসেবার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ।

একই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, দুর্বল তদারকি, কৃষক পর্যায়ে সহায়তা পৌঁছাতে অনিয়ম, আন্তর্জাতিক বাজারে উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় ঘাটতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি বিপ্লবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের ঘোষিত এই বাজেটে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, সার-বীজ-কীটনাশকে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষিবিদদের নিরলসভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস এম আকাশ। আলোচনায় অংশ নেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুর রহিম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বারি) নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ আবদুস সালাম।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন অ্যাগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।

সবুজের শপথে নতুন প্রজন্ম

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ডিজিটাল যুগের শিশুরা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে এমন লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সবুজায়নের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ছায়াবৃক্ষ রোপণ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

র‌্যালিতে দেখা যায়,  শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘শিক্ষাঙ্গনে সবুজের বার্তা, সবুজ বাংলাদেশের নবযাত্রা’, আজকের বৃক্ষরোপণ, আগামীর জলবায়ুর সুরক্ষা,—এসব সচেতনতামূলক স্লোগান।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মোহসিন করিম (অব.) বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও তার উদ্যোগের উদাহরণ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ উদ্যোগ নিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিশেষ নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচি দেশ বিদেশে সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সরকারের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হলেও বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়েছে আরো দুই বছর আগে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশে প্রায় এক হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে সবুজায়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসও অনেক সময় গাছের নিচেই নেওয়া হয়, যেন শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

অধ্যক্ষ বলেন, প্রকৃতির কাছ থেকেই মানুষ সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়। সবুজ পরিবেশ মানুষের মন ও শরীরকে সতেজ রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের এমন একটি পরিবেশে বেড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে তারা প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিও সমান ভালোবাসা গড়ে তুলবে। এতে তাদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও মানবিক গুণাবলিও বিকশিত হবে।

তিনি আরো জানান, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি এরই মধ্যে রোপণ করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের ছাদে একটি শিক্ষামূলক বাগানও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা গাছের বৃদ্ধি, ফুল ফল ধারণ সবকিছুই তারা হাতে কলমে শিখতে পারছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফলদ গাছকে ব্যবহার করে বিজ্ঞান বিষয়ের বাস্তব পাঠও পরিচালনা করা হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আহনাফ বিন আলম বলে, প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না, মানুষের জীবনও রক্ষা করে। তাই সে নিজের হাতে একটি গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার অঙ্গীকার করেছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মারিয়া জানায়, গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে আরো কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি করে গাছের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরো সবুজ হয়ে উঠবে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি আন্দোলন। আজকের একটি গাছই আগামী দিনের সবুজ, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশের ভিত্তি হয়ে উঠবে।

৩০০ ফিটে মৃত্যুফাঁদ ‘রেসিং’

বসানো হবে এআই ও স্পিড ক্যামেরা

অনলাইন ডেস্ক
৩০০ ফিটে মৃত্যুফাঁদ ‘রেসিং’
রাজধানীর ৩০০ ফিটে রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেলচালকরা। ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ রেসিং ও তীব্রগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে দৃষ্টিনন্দন ৩০০ ফিট সড়ক পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। সড়কটি মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত পুরোপুরি ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগায় রেসাররা। তখন তরুণদের জন্য এ সড়ক হয়ে যায় রেসিং ট্র্যাক। শুরু হয় বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা। মাসে প্রায় দেড় শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে এ সড়কে। মারা যায় অনেকেই। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অল্পবয়স্ক তরুণ তরুণী।

স্থানীয়দের বরাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন এক প্রতিবেদনে জানায়, দিনের তুলনায় রাতে এ সড়কে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা মোটরসাইকেল নিয়ে রেসিং করতে আসা বেশির ভাগ চালকই ধনী পরিবারের সন্তান। অনেক সময় নেশাগ্রস্ত হয়ে রেসিং প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন তারা। আবার অনেকে টিকটক কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিলস ভিডিও বানাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে স্টান্ট করে। এতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটে দুর্ঘটনা।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে ৩০০ ফিট সড়কে সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে সড়কে দলবেঁধে মডিফাই করা মোটরসাইকেল নিয়ে উপস্থিত হন। প্রাথমিকভাবে গাড়ি নিয়ে ভিডিও করতে দেখা যায়। তবে রাত গভীর হলে পাশের সার্ভিস রোডে রেসিংয়ের জন্য প্রস্তুত হন তারা। কিছুদূর গেলে শুরু হয় তাদের আসল প্রতিযোগিতা। ওঠেন প্রধান সড়কে। তীব্র গতি ও শব্দ করে ৩০০ ফিট সড়ক ছুটে বেড়ান তারা। রাস্তাটি পরিণত হয় তাদের খেলার জায়গায়। রাস্তায় পর্যাপ্ত পরিমাণে টহল ও নজরদারি না থাকায় চালকদের মধ্যে কোনো রকমের শৃঙ্খলা দেখা যায় না। সড়কে সরকার নির্ধারিত গতিসীমা মোটরসাইকেলের জন্য ৬০ কিলোমিটার প্রাইভেটকারের জন্য ৮০ কিলোমিটার লেখা থাকলেও চালকরা এ গতিসীমা মানেন না। কয়েকটি পয়েন্টের চেকপোস্ট পার হলেই তীব্রগতিতে গাড়ি চালানো শুরু হয়। এসব প্রতিরোধে এক্সপ্রেসওয়েটিতে স্বয়ংক্রিয় স্পিড মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনেজের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সড়কের অনেকাংশে সৌর স্ট্রিট লাইটগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি চুরি ছিনতাই, মাদকগ্রহণের মতো অবৈধ কার্যক্রম চলে।

জানা যায়, রেসিং অথবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনই টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়। অনেক সময় এক্সপ্রেসওয়ে ছেড়ে ভিতরের রাস্তায় চলে যায় রেসিং করতে। তাই তাদের ধরা যায় না। আর রেসাররা বেশির ভাগই আসে পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি এবং ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে।

নীলা মার্কেটে ব্যবসা করেন স্থানীয় রুবেল মিয়া এমন এক দুর্ঘটনার কথা জানান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে। তিনি বলেন, মডিফাইড করা মোটরসাইকেল ও দামি প্রাইভেট কার নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন চালকরা। এদের গতি অনিয়ন্ত্রিত থাকায় অনেক সময় ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এক লেন থেকে অন্য লেনে গিয়ে পড়ে। কিছুদিন আগেও বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন একজন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লাগলে তিনি সেখানেই মারা যান।

ডিএমপির খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, ৩০০ ফিট সড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু থানায় সেভাবে কেউ অভিযোগ করেন না। কোনো দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলেও তার স্বজনরা আমাদের জানাতে চান না। যখন ক্ষতিপূরণ, বিআরটিএতে অভিযোগের মতো বিষয়গুলো আসে শুধু তখনই অভিযোগ করতে আসেন কেউ কেউ।

ওসি আরো বলেন, যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। তারা থানা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে আমরা তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।

ট্রাফিকের গুলশান বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, যেসব গাড়ি আইন ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিতই মামলা দেওয়া হচ্ছে, রেকারে পাঠানো হচ্ছে। এরপরও অনেকে আইন মানতে চান না। এজন্য এআই ক্যামেরা বসানো এবং রাজউকের মাধ্যমে স্পিড ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বসানো হলে গাড়ির গতি কমে আসবে।