• ই-পেপার

কেতনের টাকায় জীবন সাজাতে চেয়েছিল সিয়া-চেতন

এমএইচ৩৭০ খোঁজার অভিযান চলবে আরো এক বছর

অনলাইন ডেস্ক
এমএইচ৩৭০ খোঁজার অভিযান চলবে আরো এক বছর
ছবি : রয়টার্স

নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর জন্য পানির নিচে অনুসন্ধান চালানোর উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী সংস্থা ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে মালয়েশিয়ার চুক্তি এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর সন্ধানে সমুদ্রের তলদেশে অনুসন্ধান চালানোর জন্য গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সোমবার দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

২০১৪ সালে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী বিমান রহস্যে পরিণত হয়। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিমানটির জন্য পরিচালিত একাধিক অনুসন্ধান অভিযান ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।

ওশান ইনফিনিটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিমানটির জন্য অনুসন্ধান চালিয়েছিল। গত বছর সংস্থাটি মালয়েশিয়ার সঙ্গে ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার (৫৭৯২ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করার জন্য একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেখানে শুধু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেলেই সংস্থাটিকে ৭০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে।

মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী অ্যান্টনি লোক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাস বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর যাত্রীদের নিকটাত্মীয়দের জন্য একটি চূড়ান্ত সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারের ধারাবাহিক ও অবিচল প্রতিশ্রুতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ।’

অ্যান্টনি বলেন, এই মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্য হলো—ওশান ইনফিনিটির মাধ্যমে অবশিষ্ট সাত হাজার ৪২৮.৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার অনুসন্ধান সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন করা। তিনি আরো বলেন, এতে ওশান ইনফিনিটির নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর জন্য ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে অনুসন্ধানের প্রধান সরঞ্জামগুলোকে সাময়িকভাবে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।

ইরানি সাইবার হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, দাবি ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানি সাইবার হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে, দাবি ইসরায়েলের
ছবি : রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) একজন ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে

ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি জার্মান সংবাদপত্র ‘ডাই ওয়েল্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলাকালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায় ১,৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলা নথিভুক্ত করেছিল। তবে ২০২৬ সালের ঠিক একই মাসে (চলতি জুন মাসে) এই হামলার সংখ্যা তিন গুণ বেড়ে প্রায় ৪,৮০০টিতে দাঁড়িয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কারাদি বলেন, কিছু হ্যাকার গোষ্ঠী খুবই দক্ষ। আমরা পরিস্থিতি সামলাতে পারছি, কিন্তু তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রচলিত যুদ্ধের ময়দানের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। এই সাইবার হামলাগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে কারাদি দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর আসা সব হামলা তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থার পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের কোম্পানি, সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত সিস্টেম এবং বিভিন্ন আইন ও হিসাবরক্ষণ (অ্যাকাউন্টিং) সংস্থাকে লক্ষ্য বানানো হয়েছে। যে কম্পানিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বা সহজে অনুপ্রবেশযোগ্য ছিল, হ্যাকাররা সেগুলোর কম্পিউটার সিস্টেমের সমস্ত ডেটা বা তথ্য মুছে দিয়েছে। সাইবার হামলার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেছে ইরান।

পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত : আফগান সরকার

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত : আফগান সরকার
ছবি : রযটার্স

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছেন তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র। 

হামদুল্লাহ ফিতরাত তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘গত রাতের হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন এবং আরো ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।’

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবিবার পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একটি স্থল অভিযান চালায় এবং এরপর জঙ্গিদের আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালায়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, দেশজুড়ে একাধিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতার বেশির ভাগের জন্য তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবান এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে।

বন্দুক ও বিস্ফোরক সজ্জিত যোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তিন সেনাকে হত্যা করার এক দিন পর এই ঘটনা ঘটল। নিরাপত্তা বাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করেছে এবং আহত অবস্থায় থাকা আরেক হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে সামরিক বাহিনী একজন আফগান নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেছে।

পাকিস্তানি তালেবানের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ জামাত-উল-আহরার শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারার বলেছেন, আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের সর্বশেষ অভিযানে পাকিস্তানি তালেবানের গোপন আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

পাকিস্তানি তালেবান আফগান তালেবান থেকে একটি পৃথক একটি গোষ্ঠী, যদিও তারা পরস্পরের মিত্র। আফগান তালেবান ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। সর্বশেষ এই অভিযানগুলো ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে খারাপ করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানে গোপন আস্তানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে রবিবারের এই আন্তঃসীমান্ত হামলা ও স্থল অভিযান চালানো হলো। একটি স্থায়ী শান্তি স্থাপনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে ইসলামাবাদের ভাষায় ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’-এর পর প্রায় এক মাস ধরে চলা আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটাল এই হামলাগুলো।

দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাতের জেরেই এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে বিমান হামলা চালালে আফগানিস্তান পাল্টা হামলা চালায়, যার পর থেকে সীমান্ত-পার লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিক দফা শান্তি আলোচনা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। চীনও এপ্রিলে উভয় পক্ষকে আতিথ্য দিয়েছিল এবং বেইজিং পরে বলেছিল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান তাদের সংঘাত না বাড়াতে এবং একটি সমাধান খুঁজতে সম্মত হয়েছে।

গত বছর থেকে পাকিস্তান সীমান্তে এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপি ও অন্য জঙ্গিদের কথিত আস্তানা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে, আফগানিস্তানের আফগান তালেবান সরকার, বিশেষ করে টিটিপিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রাণঘাতী হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে।
 

৮০তম জন্মদিনে ভেসপার নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮০তম জন্মদিনে ভেসপার নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম
সংগৃহীত ছবি

মহাকাব্যিক রোমান্টিক সিনেমা ‘রোমান হলিডে’ গ্রেগরি প্যাক আর অড্রে হেপবার্নকে তো অমরত্ব দিয়েছেই, বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল দুই চাকার এক স্কুটারকেও। ১৯৫৩ সাংবাদিক গ্রেগরির ভেসপার পেছনে বসে রাজকুমারী হেপবার্নের রোমের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য এখনও নস্টালজিক করে কোটি কোটি মানুষকে। সেই যে ভেসপার দুরন্ত গতি, তা আর থামেনি। এখন আধুনিক সব মোটর সাইকেলের ভিড়েও ভেসপা টিকে আছে তার আভিজাত্য, আইকনিক স্টাইল নিয়ে; কোটি মানুষের নস্টালজিয়া হয়ে।

১৯৪৬ সালে প্রথম ভেসপা নেমেছিল রাস্তায়। তারপর ১৯৫৩ সালে রোমান হলিডের পর্দা ধরে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। সেই ভেসপার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ঐতিহাসিক রোম সেজেছিল রঙিন সাজে। চারদিনের এ উৎসবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভেসপাপ্রেমীরা জড়ো হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে রবিবার শেষ হয়েছে বর্ণাঢ্য ভেসপা উৎসব। শনিবার ছিল ভেসপার গ্র্যান্ড র‌্যালি। সেদিন রোমের আইকন কলোসিয়াম আর রোমান ফোরামের আশেপাশের রাস্তা ছিল ভেসপায় সয়লাব। ১০ হাজারেরও বেশি ভেসপাপ্রেমী তাদের প্রিয় বাহন নিয়ে সামিল হয়েছিলেন র‌্যালিতে। ভেসপার চেনা খটখট আওয়াজে সেদিন আড়ালে ছিল বিলাসবহুল সব গাড়িও। 
ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও এবং ভেসপাপ্রেমীদের বৈশ্বিক সংগঠন ভেসপা ওয়ার্ল্ড ক্লাব এ উৎসবের আয়োজন করে। ঐতিহাসিক রোম শহরের পৌর প্রশাসন এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এ ফিতা কেটে উৎসববের উদ্বোধন করার পর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা নেচে, গেয়ে, স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে উৎসবে যোগ দেন। অনেকেই সরাসরি উপহারের দোকানের দিকে ছুটে যান। সেখান থেকে তারা ভেসপা জ্যাকেট ও টুপি থেকে শুরু করে ভেসপা কম্বল, ভেসপা পানির বোতল এবং ভেসপার ছাতা পর্যন্ত কিনে নেন। যারা একদম শুরুতে এসেছিলেন, তাদের বেশিরভাগেরই নজর ছিল সীমিত সংস্করণের হেলমেটের দিকে, যাতে লেখা ছিল ‘৮০ ইয়ার্স অফ অ্যান আইকন’। একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ভেসপার কিছু ক্লাসিক দৃশ্য দেখানো হয়েছিল— যেমন ফুলের মাঠে পিকনিক করা দম্পতি, বিকিনি ও বিচবল নিয়ে সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটানো বা ভূমধ্যসাগরীয় রোদের নিচে রোড ট্রিপ। এর পাশাপাশি এমন কিছু দৃশ্যও ছিল যা কেউ কল্পনাও করবে না, যেমন ১৯৬৩ সালে অভিযাত্রী সোরেন নিলসেনের ভেসপায় চড়ে সুমেরু বৃত্তে পৌঁছানো। 

ভেসপার জন্মদির বৃহস্পতিবার থেকেই নানা প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা রোমে জড়ো হন। তাতে বদলে যায রোমের চেনা চেহারা। শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট নানান রঙের ভেসপা আর একই রঙের টি-শার্ট পরা মানুষে সয়লাব। স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এর বাইরের পার্কিং লটে আট দশকের সব মডেলের ভেসপার সারি দেখতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। রোমের মোড়ে মোড়ে সুন্দর করে সাজানো ভেসপার খটখট আওয়াজ মুহূর্তে মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ষাটের দশকে। ঐতিহাসিক এ শহরে নস্টালজিয়ার টান- দুয়ে মিলে অন্যরকম এক সুর।

ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, জামানি, জাপান- বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ রোমে এসেছেন ভেসপার আহবানে, ভালোবাসার টানে। ফ্রান্স থেকে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত নাটালি ডুনান্ড। ভেসপার ৮০তম জন্মদিনের সাখে ‍নিজের ৬১তম জন্মদিনও উদযাপন করছেন এই নারী, ‘ভেসপার প্রতি এই ভালোবাসা আসলে ইতালীয় শৈলী, স্বাধীনতা আর ষাটের দশকের প্রতি টান থেকে। আমি এটি খুব ভালোবাসি।’ ডুনান্ডের প্রিয় বাহনের পেছনে বসেছিল তার প্রিয় পোষা কুকুরটিও। আট বছর বয়সী মেয়েকে পেছনে বসিয়ে টোকিও থেকে এসেছেন এক ভেসপাপ্রেমী। আলাদা করে অনেকের নজর কেড়েছেন জার্মানি থেকে আসা এক ব্যক্তি। তার বাম পায়ের পেশিবহুল গোড়ালিতে ভেসপা লোগোর ট্যাটুর পাশে সুন্দর হাতের লেখায় তিনটি শব্দ লেখা ছিল, ‘লা দোলচে ভিটা’, যার অর্থ ‘মধুময় জীবন’।

ভেসপা মানে শুধু নস্টালজিয়া নয়, যারা ষাটের দশকে জন্ম নেননি; তারাও ভেসপা ভালোবাসেন। এ  যেন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। অনেকেই বলছেন, তারা বড় মোটরসাইকেল ছেড়ে হালকা এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ভেসপা বেছে নিয়েছেন। কারণ এটা চালাতে কোনো ঝামেলা নেই। ৫৯ বছর বয়সী ট্রাক ড্রাইভার অ্যান্ড্রু ওয়ালটন ২০ বছর আগে প্রথম ভেসপা কিনেছিলেন, তারপর অন্য দিকে নজর দেননি। তিনি বলেন, ‘শুধু উঠুন, মোচড় দিন আর চলতে শুরু করুন। একদম সহজ কাজ।’ তিনি নিউক্যাসল থেকে আট দিন ধরে ভেসপা চালিয়ে রোমে এসেছেন উৎসবে যোগ দিতে। প্রথমে ফেরি দিয়ে রটারড্যাম, তারপর জার্মানির রাইন নদী হয়ে অস্ট্রিয়ার রোমান্টিক রোড এবং সবশেষে ইতালির উপকূল ধরে নিচে নেমে এসেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অল্পকিছু মানুষ ভেসপার প্রেমে মজেছেন। এ এমনই এক টান, একবার পড়লে আর ফেরা যায় না। ইন্ডিয়ানার ১০৮ বছর পুরোনো এক গাড়ি ডিলারশিপের মালিক বার্ক স্যান্ডম্যান দুই দশক আগে প্রথম ভেসপা কিনেছিলেন। আশেপাশে এর কোনো বিক্রেতা নেই দেখে তিনি সরাসরি ভেসপা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারেরও ভেসপা বিক্রি করেছেন এবং নিজের জন্য রেখেছেন ১৫টি। ভেসপা ভিলেজের ভেতরে দাঁড়িয়ে স্যান্ডম্যান বলেন, ‘ভেসপা নিয়ে কেউ কখনো কোনো খারাপ কথা বলে না। সত্যি বলতে, এটা অবিশ্বাস্য। যারা অন্য ব্র্যান্ড ছেড়ে ভেসপা ব্যবহার শুরু করে, তারা আর কখনো পেছনে ফিরে তাকায় না। এর মধ্যে অন্যরকম একটা ব্যাপার আছে। আর সবাই ইতালীয় জিনিস পছন্দ করে। ইউরোপ থেকে ফিরে এসে অনেকেই এই ভেসপার প্রেমে পড়ে যান।’
চার চাকার জগতে ফোক্সওয়াগনের বিটলের যে মর্যাদা, দুই চাকায় ভেসপা তেমনি। আবেগ, ভালোবাসা আর স্মৃতির এক রোমান্টিক রসায়ন। একবার কেউ ভেসপায় চড়লে তা আর ছাড়তে পারেন না, অন্তত ভুলতে তো পারেনই না।
ভেসপার শুরুর গল্পটা বেশ মজার। ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও আসলে বিমান বানাতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পিয়াজিও উদোক্তারা দেখতে পান, তাদের কারখানাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে আবার বিমান বানানো সম্ভব নয়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পিয়াজিও আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসেন। বানান দুই চাকার ভেসপা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বানানো সেই ভেসপাই পিয়াজিওকে আবার খ্যাতির আকাশে তুলে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির অর্থনীতিতে গতি আনতেও এই দুই চাকার ভেসপার অবদান কম নয়।

পিয়াজিওর বিপণন বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড জানোলিনির জানান, ‘প্রথম দিকে নারীরাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য, কারণ তারা দীর্ঘ স্কার্ট পরেও পা না দেখিয়ে এটি সহজেই চালাতে পারতেন। এর গঠন, এর মার্জিত রূপ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভঙ্গিটি পুরুষের চেয়ে নারীর সাথেই বেশি মানানসই।’ তবে ভেসপার প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়নি। নারীরা তো বটেই, বিশ্বের কোটি পুরুষের হৃদয়ও জয় করেছে ভেসপা। ষাটের দশকে প্রেমিকাকে কল্পনায় অড্রে হেপবার্ন ভেবে ভেসপায় ঘুড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, এমন রোমান্টিক পুরুষ খুঁজে পাওয়া ভার। জানোলিনি জানান, গত ৮০ বছরে পিয়াজিও বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ভেসপা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১১০টি দেশে এটি বিক্রি হয়।