একসময় বাঙালি সমাজে মা-বাবার সেবা করাকে পরম দায়িত্ববোধের অংশ মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিকতার আবহে সেই চিরায়ত মূল্যবোধে কিছুটা চির ধরেছে। বর্তমান সমাজে প্রবীণদের একাকিত্ব, তাদের অধিকার রক্ষা এবং জীবনের রূঢ় বাস্তবতা নিয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক ব্যতিক্রমী আলোচনাসভা ও পদক বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণদের দীর্ঘদিনের সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মহাত্মা গান্ধী প্রবীণ সেবা পদক-২০২৫’ প্রদান করা হয়।
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং জুরি বোর্ডের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারুক মেহেদী। অনুষ্ঠানে গুণী ব্যক্তিত্ব জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়কে এই সম্মাননা পদক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবীণ জীবনের নানা সংকট ও একাকিত্ব নিয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের সাহিত্য আর ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এই নৈতিক পতনের অন্যতম কারণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো সাহিত্যিকরা বারবার মা-বাবার প্রতি কর্তব্যের কথা বলে গেলেও, নতুন প্রজন্ম যেন সেই শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক মেহেদী বলেন, “উন্নত বিশ্বে প্রবীণ নিবাসকে ‘গোল্ডেন হোম’ বা সোনালি ঘর বলা হলেও আমাদের দেশে প্রবীণ হওয়া মানেই যেন নিঃসঙ্গ আর ‘একা বোকা’ হয়ে যাওয়া। অথচ এই প্রবীণরাই সারা জীবন তিলে তিলে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সুখের জন্য।” তিনি নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলে প্রবীণদের ভেতরের ইতিবাচক শক্তিকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রবীণদের নিরাপদ জীবন ও তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বোধ নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাওয়ার জন্য গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস এবং প্রবীণ বিষয়ক সংগঠক ও লেখক হাসান আলীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।




