• ই-পেপার

৮ বছর পলাতক থাকার পর বাঞ্ছারামপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

মাদারীপুর প্রতিনিধি
শিবচরে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
সংগৃহীত ছবি

প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন নাভিশ্বাস, তখন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত লোডশেডিং। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জানা যায়, শিবচর পৌর অঞ্চলে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর নিয়ম করে লোডশেডিং করা হলেও গ্রাম অঞ্চলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। আবার কখনো টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালি কাজে ব্যাঘাত ঘটায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, শিবচর উপজেলায় ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট। এ চাহিদার তুলনায়  সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট যা অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এলাকাভিত্তিক সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এক এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে পরের ঘণ্টায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ দিয়ে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হয়।

পৌর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়। আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হইতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসারে বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, লোডশেডিংয়ে শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের রোগীরা খুব কষ্টে আছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগী খবির মিয়া বলেন, হাসপাতালে আইছি সুস্থ হইতে, কিন্তু কারেন্ট না থাকায় গরমে মনে হয় দমই বন্ধ হইয়া যাইব। সারাক্ষণ ঘেমে থাকি, চোখে ঘুম আসে না। এই কষ্টে রোগ ভালো হওয়ার বদলে আরো বাড়তাছে।

এ বিষয়ে শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, শিবচরে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। 

পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
পাওনা টাকার বিরোধে সরাইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১
ছবি: কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রবিবার (২৮ জুন) রাতে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে মো. খাদিম নামে একজন নিহত হয়েছন। সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে সংঘর্ষ হওয়ায় টর্চ লাইটের আলো ব্যবহার করা হয়।

নিহত খাদিম মিয়া উপজেলার ধরন্তি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। সংষর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজন সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে মাছের পার্টি বিক্রির এক লাখ টাকা পাওনা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় মোশারফ মিয়া ধরন্তি  গ্রামের আলাল ও আশিক এর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চায়। এসময় মোশারফকে জানানো হয় যে খাদিম মিয়া টাকা দিতে বারণ করেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতে সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়। 

সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সংঘর্ষে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
টঙ্গীতে আরফিনার ভবনে অভিযানে মিলল মাদক ও নগদ অর্থ, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

টঙ্গীর শীর্ষ মাদক সম্রাজী আফরিনা বেগমের মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনসহ তার একাধিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল,  ইয়াবা ও মাদক সেবনের নানা সরঞ্জাম, ৪৬টি মোবাইল ও নগদ ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে জিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ এই অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। অভিযানে মাদক সম্রাজী আরফিনার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তির জনৈক আমির হোসেনের ঘর থেকে ৬৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ হয়।  আরফিনার একাধিক স্থাপনা ও গোপালপুর এলাকায় মাদকের টাকায় নির্মিত ছয়তলা ভবনে তল্লাসী করে ১১ পুঁড়িয়া গাঁজা, চার লিটার চোলাই মদ, ৪৬ টি মোবাইল ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এসময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনার ছয়তলা ভবনের এক ভাড়াটিয়া মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যাক্তির স্ত্রীকে সিগারেটে ইয়াবা ভরে খেতে পাওয়া যায়। ওই নারী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আরফিনার বাসায় ভাড়ায় এসে মাদক সেবন করছেন বলে সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদক সম্রাজী আরফিনা বেগম দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তিতে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করে আসছেন। পদবিহীন জনৈক প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার আশ্রয়ে তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। ফলে সহজে কেউ কিছু বলতে পারে না। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নির্মূলের পূর্ব পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারি, মাদক সেবী ও গডফাদার আইনের বাইরে থাকবে না। 

বগুড়ায় কার হাউজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি

বগুড়া অফিস
বগুড়ায় কার হাউজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়া শহরের মাটিডালী বিমান মোড় এলাকায় ‘জারা কার হাউজ’ নামের একটি গাড়ির শোরুম ও সার্ভিসিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২৮ জুন) বেলা পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা গেছে, মাটিডালী বিমান মোড়ের কাছে অবস্থিত ওই শো রুমটিতে নতুন গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি গাড়ি সার্ভিসিংয়ের কাজ করা হয়। রবিবার দুপুরে একটি গাড়ি সার্ভিসিং করার সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো শোরুমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডের শোরুমে থাকা পাঁচটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি গাড়ি পুড়ে গেছে এবং তিনটি গাড়ির রং চটে গেছে।

প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন বলেন, শোরুমটিতে থাকা ১৭-১৮টি গাড়ির মধ্যে ৬টি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে নির্মাণাধীন এই শোরুমে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মূল্য কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

প্রতিষ্ঠান স্বত্বাধিকারী রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দাবি, আগুনে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর পুলক কুমার গোস্বামী বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রাথমিকভাবে গাড়ি সার্ভিসিংয়ের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেলেও সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষেই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।